দীর্ঘদিন ধরে চলা জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) পাঁচটি অনুষদে স্থায়ীভাবে ডিন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় আইন, বিশেষ কমিটির প্রতিবেদন এবং সিভিল পিটিশনের বিপরীতে আইন উপদেষ্টার মতামতের ভিত্তিতে উপাচার্য এই নিয়োগ প্রদান করেন।
সোমবার (১৮ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মদ নুরুল করিম চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়। বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি জানান, নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরা আগামী দুই বছর এই দায়িত্ব পালন করবেন।
নতুন ডিন হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্তরা হলেন— বিজ্ঞান অনুষদে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সজল চন্দ্র মজুমদার, কলা ও মানবিক অনুষদে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক মুহাম্মদ শামসুজ্জামান মিলকী, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ রেজাউল করিম, প্রকৌশল অনুষদে সিএসই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মাহমুদুল হাছান এবং ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এমদাদুল হক। এর আগে গত ১৮ মে আইন অনুষদের ডিন হিসেবে অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের অধ্যাপক বেলাল উদ্দিনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এবারের নিয়োগে বিভাগের পালাক্রম (রোটেশন) কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়েছে। অতীতে বিভিন্ন অনুষদে এই রোটেশন লঙ্ঘনের অভিযোগ থাকায়, যে বিভাগ থেকে ব্যত্যয় শুরু হয়েছিল, সেই বিভাগ থেকেই এবার নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। সংশ্লিষ্ট বিভাগে শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের মধ্যে কেউ আগে ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করে থাকলে বা আইনি জটিলতা থাকলে পরবর্তী জ্যেষ্ঠ শিক্ষককে সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মদ নূরুল করিম চৌধুরী বলেন, "পূর্বে ডিন নিয়োগে একাধিকবার নিয়মের ব্যত্যয় ঘটেছে। সেসব ব্যত্যয় আমলে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন, দায়েরকৃত পিটিশন, আইন উপদেষ্টার মতামত, কমিটির রিপোর্টসহ সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে পাঁচটি অনুষদে ডিন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আর আইন অনুষদ নিয়ে কোনো সমস্যা না থাকায় সেটিতে আগেই অধ্যাপক বেলাল উদ্দিনকে ডিনের দায়িত্ব দেওয়া হয়।"
উল্লেখ্য, এর আগে গত ১১ মে সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অমান্য করে ছয় অনুষদে অন্তর্বর্তীকালীন ডিন নিয়োগের অভিযোগ উঠেছিল সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আবদুল মঈনের প্রশাসনের বিরুদ্ধে। বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলী দায়িত্ব গ্রহণের পর সেই বিতর্কিত নিয়োগ বাতিল করেন। পরবর্তীতে ২০ মে আইন উপদেষ্টার মতামত না আসা পর্যন্ত সাময়িকভাবে পাঁচজনকে উপাচার্যের প্রতিনিধি হিসেবে ডিনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। স্থায়ী নিয়োগের মাধ্যমে সেই অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থার অবসান ঘটল।






