ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার বিকেলে উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের শ্যামবাড়ি ও বাদৈর ইউনিয়নের হাতুড়েবাড়ি গ্রামের লোকজনের মধ্যে এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

স্থানীয় ও পুলিশি সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিন আগে অভ্যন্তরীণ সড়কে পড়ে থাকা একটি গাছ সরানো নিয়ে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে গ্রাম্য সালিস হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান আসেনি। সেই বিরোধের রেশ কাটতে না কাটতেই আজ বেলা তিনটার দিকে হাতুড়েবাড়ি গ্রামের একটি অটোরিকশার সঙ্গে শ্যামবাড়ি গ্রামের একটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি ধাক্কা লাগে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মোটরসাইকেল আরোহী ও অটোরিকশাচালকের মধ্যে নতুন করে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও পূর্ববিরোধের জেরে উত্তেজনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে শ্যামবাড়ি গ্রামের পক্ষে পার্শ্ববর্তী নিমবাড়ি গ্রামের লোকজনও অংশ নেন। পরিস্থিতি চরমে পৌঁছালে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে উভয় পক্ষ দা, ছুরি, রামদা, বল্লম ও ইটপাটকেলসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষের কারণে উপজেলার তিনলাখপীর-চারগাছ সড়কে দীর্ঘক্ষণ যান চলাচল বন্ধ থাকে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করে।

সংঘর্ষে আহত ১০ জনকে স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিক ও কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলী মোহাম্মদ রাশেদ বলেন, ‘উভয় পক্ষে সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং সড়ক থেকে গ্রামবাসীদের সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। মাইকে ঘোষণা দিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি আমার জানা নেই।’