কক্সবাজার সৈকতে বেড়াতে আসা এক অস্ট্রেলীয় নারী পর্যটককে ধর্ষণচেষ্টায় দণ্ডিত তিন যুবককে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেকের ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। অর্থ পরিশোধ করতে না পারলে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে দণ্ডিতদের।
সোমবার দুপুরে কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২–এর বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) রোকেয়া আক্তার এই রায় ঘোষণা করেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মোহাম্মদ শামীম জানান, "মামলায় ছয়জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আজ আদালত রায় দেন।"
রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন দণ্ডিত আসামিরা। তারা হলেন— রামুর খুনিয়াপালং ইউনিয়নের পেঁচার দ্বীপ এলাকার কলিম উল্লাহর ছেলে মো. আনছারুল্লাহ (২৯), আবদুল মোনাফের ছেলে আবদুল গফুর (২৬) ও এজাহার মিয়ার ছেলে বেলাল উদ্দিন (৩৬)। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় কটেজ মালিক কাইয়ুমুল হক চৌধুরীকে আদালত খালাস দিয়েছেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০১৯ সালের ৮ ডিসেম্বর ওই অস্ট্রেলীয় নাগরিক বাংলাদেশে বেড়াতে আসেন। ১৪ ডিসেম্বর তিনি কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের পেঁচার দ্বীপ-সংলগ্ন একটি কটেজে অবস্থান নেন। এর দুই দিন পর গভীর রাতে দণ্ডিত আসামিরা তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। ধস্তাধস্তির সময় ওই নারী আহত হন এবং চিৎকার করে বাধা দিলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যান।
ঘটনার পরপরই ওই নারী জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশের সাহায্য চান। খবর পেয়ে রামু থানার পুলিশ তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার শহরে নিয়ে যায় এবং প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।
এই ঘটনায় রামুর হিমছড়ি পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন উপপরিদর্শক স্বরূপ কান্তি দাশ বাদী হয়ে রামু থানায় মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে গ্রেপ্তার করা আনছারুল্লাহ ও আবদুল গফুর জিজ্ঞাসাবাদের সময় ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন।






