প্রায় ৮০ বছর আগে লেখা হিরোশিমা পারমাণবিক বোমা হামলার এক প্রত্যক্ষদর্শীর স্মৃতিকথা দীর্ঘদিন ধরে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আর্কাইভে সেটি খুঁজে পাওয়া গেছে। এবার প্রথমবারের মতো বই আকারে প্রকাশিত হতে যাচ্ছে সেই মূল্যবান দলিল। শুধু তা–ই নয়, স্মৃতিকথাটি অবলম্বনে নির্মিত হবে একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রও।
‘হিরোশিমা, ৮: ১৫’ শিরোনামে এই স্মৃতিকথার লেখক কিয়োশি তানিমোতো। ১৯৪৭ সালে তিনি ২৩০ পৃষ্ঠার বইটি লিখেছিলেন। ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট হিরোশিমায় যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক বোমার ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ তিনি নিজের চোখে দেখেছিলেন। সেই ভয়ংকর অভিজ্ঞতাই তিনি তুলে ধরেছিলেন লেখায়।
কিয়োশি তানিমোতো ছিলেন হিরোশিমার একজন মেথডিস্ট ধর্মযাজক। ভাগ্যক্রমে তিনি সেদিন শহরের বাইরে একটি আলমারি পৌঁছে দিতে গিয়েছিলেন। তাই বিস্ফোরণের মুহূর্তে প্রাণে বেঁচে যান।
.কোকো লিখেছেন, বিস্ফোরণের মুহূর্তে হিরোশিমার কেন্দ্রস্থলের প্রায় সবকিছু মাটির সঙ্গে মিশে যায়। ভূমির কাছাকাছি তাপমাত্রা পৌঁছেছিল প্রায় ৪ হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াসে। সেই তাপে কাঠ, ইট, কংক্রিট ও মানুষের শরীর পুড়ে গিয়েছিল।.চলচ্চিত্রটির নামও রাখা হয়েছে হিরোশিমা, ৮: ১৫। কারণ, সকাল ঠিক ৮টা ১৫ মিনিটেই পারমাণবিক বোমাটি বিস্ফোরিত হয়েছিল।
কিন্তু ফিরে এসে দেখেছিলেন চারদিকে শুধু আগুন, ধ্বংসস্তূপ, পোড়া মানুষের দেহ ও আর্তনাদ। অনেক দিন তিনি এসব নিয়ে কিছু লিখতে পারেননি। পরে সিদ্ধান্ত নেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন এই ভয়াবহতা কখনো ভুলে না যায়, সে জন্যই নিজের অভিজ্ঞতা লিখে রাখা দরকার।
কিয়োশি তানিমোতোর মেয়ে কোকো তানিমোতো কন্দো বইটির ভূমিকায় লিখেছেন, ‘মানুষের বেঁচে থাকার আশা টিকে থাকে স্মৃতির মধ্যেই। তাই এই ইতিহাস মনে রাখা আমাদের দায়িত্ব।’
দীর্ঘদিন ধরে স্মৃতিকথাটি যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের বেইনেকে রেয়ার বুক অ্যান্ড ম্যানুস্ক্রিপ্ট লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত ছিল। কিন্তু প্রায় সবাই সেটির কথা ভুলেই গিয়েছিলেন। সম্প্রতি গবেষণার সময় সেটি আবার খুঁজে পাওয়া যায়।
আগামী ৬ আগস্ট, অর্থাৎ হিরোশিমা বোমা হামলার বার্ষিকীতে বইটি প্রকাশ করবে র্যান্ডম হাউস। বিশ্বের অন্যান্য দেশে বইটি প্রকাশ করবে পেঙ্গুইন। ইতিমধ্যে বহু দেশের প্রকাশনা সংস্থা বইটির প্রকাশস্বত্ব কিনে নিয়েছে।
কোকো লিখেছেন, বিস্ফোরণের মুহূর্তে হিরোশিমার কেন্দ্রস্থলের প্রায় সবকিছু মাটির সঙ্গে মিশে যায়। ভূমির কাছাকাছি তাপমাত্রা পৌঁছেছিল প্রায় ৪ হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াসে। সেই তাপে কাঠ, ইট, কংক্রিট ও মানুষের শরীর পুড়ে গিয়েছিল।
চলচ্চিত্রটির নামও রাখা হয়েছে হিরোশিমা, ৮: ১৫। কারণ, সকাল ঠিক ৮টা ১৫ মিনিটেই পারমাণবিক বোমাটি বিস্ফোরিত হয়েছিল।
স্মৃতিকথাটি পাওয়া গেছে মার্কিন সাংবাদিক জন হার্সির ব্যক্তিগত নথিপত্রের মধ্যে। হার্সি ছিলেন পুলিৎজারজয়ী সাংবাদিক। বোমা হামলার আট মাস পর তিনি হিরোশিমায় গিয়ে কিয়োশি তানিমোতোর সঙ্গে পরিচিত হন। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তিনি ১৯৪৬ সালে বিখ্যাত বই হিরোশিমা লিখেছিলেন।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
গ্রন্থনা: রবিউল কমল






