দেশের মূলধারার বাণিজ্যিক চলচ্চিত্র ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত শিল্পধারার সিনেমা—এই দুই ভিন্ন ধারার দুই নির্মাতা এবার এক হচ্ছেন একই চলচ্চিত্রে । নির্মাতা রায়হান রাফী ও আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদের নতুন চলচ্চিত্র ‘আইস’ ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্মসূচি কোপ্রসেস ল্যাব ২০২৬ সালে নির্বাচিত হয়েছে। প্রকল্পটির প্রযোজক তানভীর হোসেন। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পৃথক পোস্টে নির্মাতা ও প্রযোজক এ তথ্য জানান।

নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে রায়হান রাফী লেখেন, ‘কিছু চলচ্চিত্র একটি গল্প দিয়ে শুরু হয়, কিছু শুরু হয় একটি প্রশ্ন দিয়ে । “আইস” শুরু হয়েছে একটি বিশ্বাস থেকে।’ রাফীর ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে শিল্পধর্মী ও বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রের মধ্যে একটি কৃত্রিম বিভাজন তৈরি করা হয়েছে ; কিন্তু তিনি বিশ্বাস করেন, একটি চলচ্চিত্র একই সঙ্গে আবেগপূর্ণ, বিনোদনমূলক, চিন্তাশীল এবং দর্শকের কাছে গভীরভাবে পৌঁছাতে পারে। সেই বিশ্বাস থেকেই ‘আইস’–এর যাত্রা।

.

নতুন এই প্রকল্পে একসঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা নিয়েও লিখেছেন রাফী। তাঁর মতে, তিনজনই ভিন্ন অভিজ্ঞতা, ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি ও ভিন্ন চলচ্চিত্র-ভাবনা নিয়ে এসেছেন; আর এই বৈচিত্র্যই সহযোগিতাটিকে বিশেষ করে তুলেছে।

.

আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ সম্পর্কে রাফী লেখেন, তিনি চলচ্চিত্রে মনস্তাত্ত্বিক গভীরতা, নৈতিক সংকট, নীরবতা এবং মানুষের ভঙ্গুর সত্যকে তুলে আনতে পারদর্শী। অন্যদিকে নিজের ভূমিকা প্রসঙ্গে রাফী বলেন, তিনি গতি, ব্যাপ্তি, আবেগ এবং বৃহত্তর দর্শকের সঙ্গে সংযোগ তৈরির অভিজ্ঞতা নিয়ে কাজ করছেন। তাঁর বিশ্বাস, এই ভিন্নধর্মী শক্তির সমন্বয়েই ‘আইস’ নিজের স্বতন্ত্র ভাষা খুঁজে পাবে।

.

একই বিষয়ে নিজের ফেসবুক পোস্টে প্রযোজক তানভীর হোসেনও প্রকল্পটির দর্শন ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি লিখেছেন, শিল্পধারার সিনেমা ও বাণিজ্যিক সিনেমার মধ্যে যে বিভাজন দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত, তিনি কখনোই সেই দেয়ালে বিশ্বাস করেননি। তাঁর মতে, স্থায়ী প্রভাব ফেলে এমন প্রতিটি চলচ্চিত্রেই শিল্পের উপস্থিতি থাকে, আবার মানুষের কাছে পৌঁছাতে চাইলে সেই চলচ্চিত্রকে দর্শক, আবেগ, ছন্দ ও পরিসরের ভাষাও বুঝতে হয়।

.

তানভীর হোসেন জানান, এই বিশ্বাস থেকেই ‘আইস’ নির্মাণের উদ্যোগ । তাঁর ভাষায়, ‘রায়হান রাফী নিয়ে আসছেন গতি, ব্যাপ্তি, ছন্দ এবং বিপুল দর্শকের সঙ্গে যোগাযোগের বিরল সক্ষমতা। অন্যদিকে আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ নিয়ে আসছেন মনস্তাত্ত্বিক গভীরতা, নৈতিক অস্বস্তি এবং মানুষের ভঙ্গুর অন্তর্জগৎ। এই দুই ভিন্ন চলচ্চিত্র ভাষাকে একসঙ্গে আনা আমাদের যাত্রার সবচেয়ে রোমাঞ্চকর অংশ।’

.কানে সেরা হলো সহমর্মিতার গল্প.

তানভীর হোসেন আরও বলেন, কোপ্রসেস ল্যাব ২০২৬ সালে নির্বাচিত হওয়াকে তাঁরা ছবিটির জন্য ‘সঠিক প্রথম পদক্ষেপ’ হিসেবে দেখছেন। তাঁর আশা, বাংলাদেশে শিকড় রেখে আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছেও পৌঁছাতে পারবে ‘আইস’। এ জন্য কোপ্রসেস ল্যাব এবং প্রডিউসারল্যান্ডের পুরো টিমের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।রাফীও তাঁর পোস্টে কোপ্রসেস ল্যাব ২০২৬ সালে নির্বাচিত হওয়াকে ছবিটির জন্য অর্থবহ সূচনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। পাশাপাশি আয়োজক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, খুব শিগগির চলচ্চিত্রটি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।কোপ্রসেস ল্যাব চলচ্চিত্রের উন্নয়ন পর্যায়ের একটি আন্তর্জাতিক কর্মসূচি। এখানে নির্বাচিত প্রকল্পগুলো চিত্রনাট্য উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক মেন্টরশিপ, সহ-প্রযোজনা এবং সম্ভাব্য অর্থায়নের সুযোগ পেয়ে থাকে। ফলে এই কর্মসূচিতে নির্বাচিত হওয়াকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি চলচ্চিত্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হয়।রায়হান রাফী বর্তমানে বাংলাদেশের মূলধারার বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রের অন্যতম সফল নির্মাতা।

.যে কারণে ‘প্রেশার কুকার’ তারেক মাসুদকে উৎসর্গ করলেন রায়হান রাফী.

ঈদুল ফিতরে মুক্তি পাওয়া তাঁর সর্বশেষ চলচ্চিত্র ‘প্রেশার কুকার’ দর্শকের ভালো সাড়া পেয়েছে । নির্মাণাধীন রয়েছে ‘সুড়ঙ্গ ২’।অন্যদিকে আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ স্বাধীন ধারার চলচ্চিত্র নির্মাণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিতি পেয়েছেন। তাঁর প্রথম চলচ্চিত্র ‘লাইভ ফ্রম ঢাকা’ আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয় । দ্বিতীয় চলচ্চিত্র ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ তাঁকে নিয়ে যায় কান চলচ্চিত্র উৎসবে । বর্তমানে তিনি নতুন ওয়েব সিরিজ ‘অ্যানি’ নিয়ে ব্যস্ত । সম্প্রতি সিরিজটির প্রিমিয়ারও হয়েছে একটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে।প্রযোজক তানভীর হোসেন দীর্ঘদিন ধরে স্বাধীন ধারার চলচ্চিত্র, আন্তর্জাতিক সহপ্রযোজনা এবং চলচ্চিত্র উন্নয়নমূলক বিভিন্ন উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত।