ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম–৪ (সীতাকুণ্ড ও চট্টগ্রাম নগরের আংশিক) আসনে বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা আদালতের রায়ে বাতিল হওয়ার খবর শুনে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন তাঁর সমর্থকেরা। আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টার পর সীতাকুণ্ডে মহাসড়কের একাধিক স্থানে অবরোধ করেন বিএনপির কর্মী ও সমর্থকেরা। এ সময় গাছ ফেলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়, আবার কোথাও সড়কে দাঁড়িয়ে নেতা–কর্মীরা মিছিল ও সমাবেশ করেন। বেলা তিনটা পর্যন্ত রয়েল সিমেন্ট গেট, ছোট দারোগারহাটসহ নানা স্থানে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। পরে হাইওয়ে পুলিশ গিয়ে মহাসড়ক থেকে নেতা–কর্মীদের সরিয়ে দেয়।
.আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতার বৈধতা নিয়ে চট্টগ্রাম–৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকী আপিল করেছিলেন। আপিল মঞ্জুর করে আজ সকালে রায় দেন আপিল বিভাগ। গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে আসলাম চৌধুরী অংশ নেন। তবে নির্বাচনে তাঁর ফলাফল প্রকাশ আদালতের সিদ্ধান্তে স্থগিত ছিল। রায়ে আসলাম চৌধুরীর মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণার পর দুপুর ১২টা থেকে বেলা ৩টার মধ্যে একাধিক স্থানে বিক্ষোভ মিছিল ও মহাসড়ক অবরোধ করেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা–কর্মীরা। এ সময় তাঁরা ‘আসলাম ভাইয়ের ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’, ‘দুর্দিনের আসলাম ভাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’সহ নানা স্লোগান দেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, দুপুর ১২টার দিকে কুমিরা ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. আলমগীরের নেতৃত্বে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের রয়েল সিমেন্ট গেট এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। এ সময় নেতা–কর্মীরা মহাসড়ক অবরোধ করে মিছিল করেন। পরে বারআউলিয়া হাইওয়ে থানা ও সীতাকুণ্ড থানা–পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেয়।
.এর কিছুক্ষণ পর বাড়বকুণ্ড এলাকায় একইভাবে মিছিল করে মহাসড়ক অবরোধ করা হয়। বেলা দুইটার দিকে উপজেলার বারৈয়াঢালা ইউনিয়নের ছোট দারোগারহাট এলাকায় মহাসড়কের ওপর একটি গাছ কেটে ফেলে অবরোধ করেন বিএনপির নেতা–কর্মীরা। পরে পুলিশ গিয়ে মহাসড়ক ছেড়ে দিতে অনুরোধ করলে তাঁরা সরে যান।
কুমিরা ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. আলমগীর বলেন, ‘আমরা এই রায় মানি না। কুমিরা ইউনিয়ন বিএনপি যুবদলসহ অঙ্গসংগঠনের নেতা–কর্মীরা আসলাম চৌধুরীর ডাকে আগেও সাড়া দিয়ে আন্দোলন–সংগ্রাম করেছেন। হাজার হাজার কর্মীর প্রাণপ্রিয় নেতা আসলাম চৌধুরীকে আমরা সংসদে দেখতে চাই।’
.মো. আলমগীর বলেন, ‘আসলাম চৌধুরী একজন সৎ মানুষ। ৯ বছর জেল খেটেছেন। তাঁর ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করার মতো সামর্থ্য ছিল না। তাঁর যা কিছু ছিল, অবৈধ সরকার তা কেড়ে নিয়েছে। এক কালো ষড়যন্ত্রে আজ সকালে শুনতে পাই, আসলাম চৌধুরীর মনোনয়ন বাতিল করা হলো। জনতার রায়ের ওপর কোনো রায় নেই। জনতার রায় কার্যকর না হলে আমরা আবার জীবন দিতে প্রস্তুত। প্রিয় নেতার জন্য লাখো মানুষ রাস্তায় নামতে প্রস্তুত। তখন জনমানুষের দুর্ভোগ সৃষ্টি হবে। আমরা চাই না সেটি ঘটুক। আদালত রায়টি পুনর্বিবেচনা করবে, এ আশা রাখছি।’
আসলাম চৌধুরীর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট মো. মোরসালিন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, তাঁরা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন। যতই ষড়যন্ত্র করুক, আসলাম চৌধুরীর বিজয় হবেই।
.বিএনপির আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিলের পর চট্টগ্রাম-৪ আসনে এখন কী হবে.বারআউলিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল মাহমুদ মুক্তকণ্ঠকে বলেন, রয়েল সিমেন্ট এলাকায় বিএনপি নেতা–কর্মীরা মহাসড়ক অবরোধ করেছিলেন। খবর পেয়ে তাঁরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিএনপির নেতা–কর্মীদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেন। মিছিলের কারণে অন্তত ১০ থেকে ১৫ মিনিট মহাসড়ক বন্ধ ছিল বলে জানান তিনি।
কুমিরা হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জিয়া উদ্দিন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ছোট দারোগারহাট এলাকায় একটি গাছ কেটে মহাসড়কে ফেলে বিক্ষোভ করেছিলেন বিএনপির নেতা–কর্মীরা। এ সময় তাঁরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষুব্ধ নেতা–কর্মীদের সরিয়ে দেন। এতে ৫ থেকে ১০ মিনিটের বেশি মহাসড়ক অবরোধ ছিল না।
সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, দুপুর ১২টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত তিনটি স্থানে বিএনপির বিক্ষুব্ধ নেতা–কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করে অবরোধ করার চেষ্টা করেছেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের সরিয়ে দিয়েছে।






