ভোলার মনপুরায় মেঘনা নদীতে আবারও জেলের জালে ধরা পড়েছে বড় আকারের ইলিশ। মাছটির ওজন ২ কেজি ৪০০ গ্রাম। ইলিশটি পরে স্থানীয় মৎস্য ঘাটে নিলামে ৯ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। উপকূলীয় অঞ্চলের জেলে ও মাছ ব্যবসায়ীদের কাছে বড় আকারের এমন ইলিশ ‘রাজা ইলিশ’ নামে পরিচিত।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জের জেলে ইসমাইল মাঝি ও তাঁর সঙ্গীরা মনপুরার রামনেওয়াজ–সংলগ্ন মেঘনা নদীতে মাছ ধরছিলেন। দুপুর ১২টার দিকে জালে অন্যান্য ছোট ইলিশের সঙ্গে এই বড় ইলিশটি ধরা পড়ে। মাছটি দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রামনেওয়াজ মৎস্য ঘাটের আব্দুল মমিন তালুকদারের আড়তে নিয়ে আসা হয়।
ঘাটের ব্যবসায়ী মো. নাহিদ জানান, অন্যান্য পাইকার ও ব্যাপারীদের উপস্থিতিতে নিলামে তোলা হলে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে আড়তদার আব্দুল মমিন তালুকদার ৯ হাজার ৩০০ টাকায় মাছটি কিনে নেন।
আড়তদার মমিন তালুকদার বলেন, ‘বরিশাল ও ঢাকার পাইকারি বাজারে বড় আকারের ইলিশের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। মাছটি আমরা মঙ্গলবার লঞ্চে করে ঢাকার যাত্রাবাড়ী মৎস্য আড়তে পাঠাব। আশা করছি, সেখানে আরও ভালো দাম পাওয়া যাবে।’ তবে বাজারে বর্তমানে ইলিশের সরবরাহ কম ও ছোট-বড় সব ধরনের মাছের দামই চড়া বলে জানান এই ব্যবসায়ী।
মেঘনায় এমন বড় ইলিশ ধরা পড়া ইতিবাচক হিসেবে দেখছে মৎস্য বিভাগ। মনপুরা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা উজ্জ্বল বনিক বলেন, মেঘনায় বড় আকারের ইলিশ ধরা পড়া জেলেদের জন্য দারুণ সুখবর। বৃষ্টিপাত আরও বাড়লে নদীতে বড় ইলিশের আনাগোনা বাড়বে বলে তিনি আশাবাদী।
ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ইকবাল হোসাইন বলেন, ধরা পড়া ইলিশটির বয়স কমপক্ষে দুই থেকে তিন বছর হতে পারে। মাছটির পেটে ডিম ছিল। সাধারণত ডিম ছাড়ার প্রস্তুতি হিসেবেই এগুলো সমুদ্র থেকে নদীর ভেতরের দিকে উঠে আসে। তিনি আরও বলেন, সরকারিভাবে জাটকা নিধন রোধ ও মা ইলিশ রক্ষায় নিয়মিত অভিযান চালানোর সুফল এখন পাওয়া যাচ্ছে। তবে এই ধারা বজায় রাখতে হলে ছোট আকারের ইলিশ বা জাটকা নির্বিচার ধরা বন্ধ করতে হবে, অন্যথায় ভবিষ্যতে এমন বড় মাছ পাওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে।






