রোগীর শরীরে সুনির্দিষ্ট কোন অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকর, তা নির্ণয় করার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ‘ব্লাড কালচার অ্যান্ড সেনসিভিটি’ পরীক্ষার জন্য এত দিন যে মেশিন ব্যবহার করা হতো, তাতে সময় লাগত তিন দিন। এখন থেকে সেই কাজ হবে মাত্র দুই ঘণ্টায়।

এই সেবার জন্য গতকাল রোববার হাসপাতালের আইসিইউ মাইক্রোবায়োলজি ল্যাবে সংযোজিত হয়েছে অত্যাধুনিক বায়োফায়ার ফিল্মঅ্যারে মেশিন।

যন্ত্রটি মাল্টিপ্লেক্স পিসিআরের সবশেষ ভার্সন। এটি মূলত সংক্রামক রোগ দ্রুত নির্ণয়ের জন্য ব্যবহৃত হয়। একটি মাত্র টেস্টের মাধ্যমে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, পরজীবীসহ ১০০টির বেশি রোগজীবাণু দ্রুততম সময়ের মধ্যে শনাক্ত করতে পারে।

হাসপাতালের আইসিইউ ইনচার্জ আবু হেনা মুস্তফা কামাল বলেন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল তথা আইসিইউতে ভর্তি রোগীর শরীরের জীবাণু পরীক্ষা মাত্র কয়েক ঘণ্টা সময়ের মধ্যে শনাক্ত করার সুযোগ হলো। দেশের বেসরকারি হাতে গোনা কয়েকটি হাসপাতালে কিছুদিন আগে এই যন্ত্র চালু হয়েছে। রাজশাহী তথা উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের কোনো হাসপাতালেই এটা নেই।

আবু হেনা মুস্তফা কামাল আরও বলেন, ‘চার বছর ধরে সরকারি উপায়ে এই যন্ত্র সংগ্রহের চেষ্টা করেছিলাম। যন্ত্রটির বাংলাদেশের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানটি আমার সঙ্গে সরবরাহ বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে থাকে। শেষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে সরবরাহ করেছে।’

আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, সম্পূর্ণ নতুন যন্ত্রটির দাম প্রায় ৬০ লাখ টাকা। প্রতিটি পরীক্ষায় রোগীর খরচ হবে ১৬ থেকে ২১ হাজার ৫০০ টাকা।

গতকাল অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে যন্ত্রটি চালু করা হয়। প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে অনলাইনে যুক্ত ছিলেন দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক দেবকিশোর গুপ্ত। অনুষ্ঠানে তিনি বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। এ সময় তিনি বলেন, রাজশাহীর মরণাপন্ন রোগীদের জীবাণু সংক্রমণজনিত চিকিৎসাসেবায় এটি সর্বাধুনিক প্রচেষ্টা। এতে কিছুটা হলেও মানুষের উপকার হবে।