জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক বা সেতুর কাজ পরিকল্পনামাফিক সময়মতো শেষ করা উন্নয়ন প্রকল্পের অন্যতম অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়ন যেমন নাগরিকের জীবনযাপনকে সহজতর করে তোলে, তেমনি বাস্তবায়নের ধীরগতি ভোগান্তির মাত্রাও বাড়ায়। কেননা, যেকোনো প্রকল্প নির্মাণকালে সেই এলাকায় একটা অস্বাভাবিক দশাও বিরাজও করে। যশোরের মনিরামপুর উপজেলার নেহালপুর-হাজিরহাট বাজার ভায়া কুলটিয়া সড়কের বড় খালের ওপর নির্মাণাধীন আরসিসি গার্ডার সেতুর কাজ দুই বছরে শেষ না হওয়ার দরুন প্রায় ২০ গ্রামের মানুষের ভোগান্তি আমাদের সামনে যেন এই সত্যই হাজির করেছে।

মুক্তকণ্ঠতে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যাচ্ছে, ঘূর্ণিঝড় আম্ফান ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পল্লি সড়ক অবকাঠামো পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় ২০ মিটার দীর্ঘ এই আরসিসি গার্ডার সেতু পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২৪ সালের ১ মে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও এক বছরের বেশি সময় পার হয়ে গেলেও মাত্র অর্ধেক কাজ সম্পন্ন হয়েছে। জনগণের ভোগান্তিও চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।

সরেজমিন প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, খালটির বেশির ভাগ অংশ বালু দিয়ে ভরাট করা, খালের দুই পাশে দুটি বড় কংক্রিটের পিলার তোলা, দুটি পিলারের মধ্যে রয়েছে পুরোনো সেতু, যদিও সেতুটির বেশির ভাগ অংশ ভাঙা হয়েছে। একে তো বর্ষা মৌসুমে সেতুর অনুপস্থিতি এই অঞ্চলের বাসিন্দাদের জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করে তুলছে, অন্যদিকে যাতায়াতের বিকল্প হিসেবে তৈরিকৃত অস্থায়ী কাঠের সাঁকোটি নড়বড়ে ও ঝুঁকিপূর্ণ। এমনকি বর্ষা মৌসুমে কাঠের সেতুটি পানিতে ডুবে থাকার ফলে সাধারণ মানুষকে অবর্ণনীয় কষ্ট পোহাতে হচ্ছে।

কাজের দীর্ঘসূত্রতার কারণ হিসেবে স্থানীয়দের কথায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বহীনতার কথা ফুটে উঠেছে। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এবং এলজিইডির স্থানীয় প্রকৌশলী এলাকার জলাবদ্ধতা ও কারিগরি সমস্যার অজুহাত দিয়েছেন। এই অজুহাত বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনার এক নির্মম সত্যও উন্মোচন করে। প্রকল্প গ্রহণের সময়ই যে প্রাকৃতিক ও ভৌগোলিক বাস্তবতাকে বিবেচনা করতে হয়, সেটার প্রতিফলন এখানে দেখা যায় না। ফলে প্রকল্প গ্রহণের সময়েই যা বিবেচিত হওয়ার কথা, তা প্রকল্প বাস্তবায়নের দীর্ঘসূত্রতার কারণ হতে পারে না।

কর্তৃপক্ষ চলতি বছরের মধ্যে সেতুর কাজ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আমরা চাই দ্রুত সেতুর নির্মাণকাজ শেষ জনগণের জন্য নিরাপদ ব্যবহারের উপযোগী করে তোলা হোক। পাশাপাশি এ ধরনের প্রকল্প গ্রহণের সময় স্থানিক বাস্তবতাকে বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা সাজানো উচিত। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে কঠোর তদারকির আওতায় আনতে হবে।