নরসিংদীর শিবপুর সরকারি পাইলট মডেল উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক বিল্লাল হোসাইনের আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলার একমাত্র আসামি প্রধান শিক্ষক নূর উদ্দিন মো. আলমগীরের অব্যাহতির দাবিতে মানববন্ধন হয়েছে। রোববার দুপুরে বিদ্যালয়ের সামনে এ মানববন্ধন করা হয়। বিদ্যালয়ের শিক্ষক, বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ শতাধিক মানুষ অংশ নেন।
১৮ জুন সকালে বিদ্যালয়সংলগ্ন বাসা থেকে বিল্লাল হোসাইনের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হলেও তদন্তের স্বার্থে এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, চিরকুটটি মৃত ব্যক্তির নিজের হাতের লেখা কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় ২৫ জুন বিল্লাল হোসাইনের স্ত্রী আয়েশা আক্তার আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে প্রধান শিক্ষক নূর উদ্দিন মো. আলমগীরের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, প্রধান শিক্ষকের মানসিক অত্যাচারই তাঁর স্বামীর মৃত্যুর কারণ। আয়েশা আক্তারের দাবি, মৃত্যুর আগে বিল্লাল হোসাইন তাঁকে জানিয়েছিলেন যে কর্মস্থলে মানসিকভাবে অপদস্থ হওয়ায় সেখানে চাকরি করা তাঁর পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছিল।
মানববন্ধনে বক্তারা দাবি করেন, বিল্লাল হোসাইন ছিলেন সবার প্রিয় শিক্ষক। প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে করা মামলা তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই করা হয়েছে এবং এর পেছনে ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। তাঁরা বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে গিয়ে প্রধান শিক্ষককে অনেক সময় কঠোর হতে হয়, যা আত্মহত্যার কারণ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।
বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক জানান, তাঁরা কখনো প্রধান শিক্ষকের অসদাচরণ প্রত্যক্ষ করেননি, তবে মৃত্যুর আগে কিছুদিন ধরে বিল্লাল হোসাইনকে অস্বাভাবিক ও উদাসীন মনে হচ্ছিল।
অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক নূর উদ্দিন মো. আলমগীর বলেন, তিনি কখনো বিল্লাল হোসাইনের সঙ্গে অসদাচরণ করেননি। প্রতিষ্ঠান পরিচালনার স্বার্থে প্রয়োজনীয় কঠোরতা দেখালেও তা কখনো সীমা ছাড়ায়নি। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হওয়ায় তিনি মর্মাহত।
শিবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কোহিনুর মিয়া বলেন, পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেওয়া হয়েছে। চিরকুটের সত্যতা ও অন্যান্য বিষয় তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






