রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাট থেকে ৮৫ জন যাত্রী নিয়ে পাটুরিয়া ঘাটের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া লঞ্চ এমভি বৌয়ালী দিক হারিয়ে পদ্মার চরে আটকে যায়। পরে লঞ্চের এক যাত্রীর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে নৌ পুলিশসহ সংশ্লিষ্টরা অভিযান চালিয়ে প্রায় চার ঘণ্টা পর মধ্যরাতে যাত্রীদের উদ্ধার করে।
গতকাল শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে দৌলতদিয়া লঞ্চঘাটের অদূরে কুশাহাটা এলাকায় আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধার করে পাটুরিয়া ঘাটে পৌঁছে দেওয়া হয়।
জানা যায়, শনিবার রাত সাড়ে সাতটার দিকে দৌলতদিয়া লঞ্চঘাট থেকে ৮৫ জন যাত্রী নিয়ে পাটুরিয়া ঘাটের উদ্দেশে ছেড়ে যায় এমভি বৌয়ালী। ঘাট ছাড়ার কিছুক্ষণ পর লঞ্চের মাস্টার দিক হারিয়ে ফেলেন। পরে ঘাট থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে কুশাহাটা এলাকার পদ্মার একটি চরে লঞ্চটি আটকে যায়। এ সময় লঞ্চে থাকা যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। লঞ্চের মাস্টার ও কর্মীরা নিজেদের চেষ্টায় লঞ্চটি চর থেকে সরানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক মনে হওয়ায় আতঙ্কিত এক যাত্রী জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন।
খবর পেয়ে দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ একটি স্পিডবোট নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ও ঘাটশ্রমিকেরা সেখানে যান। প্রথমে ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে করে যাত্রীদের উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে ঘাট থেকে আরেকটি লঞ্চ এমভি চিসতিয়া ঘটনাস্থলে পৌঁছালে যাত্রীদের ওই লঞ্চে তোলা হয়। প্রায় চার ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে ৮৫ জন যাত্রীকে নিরাপদে পাটুরিয়া ঘাটে নামিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। অল্পের জন্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পান যাত্রীরা।
বিআইডব্লিউটিএর দৌলতদিয়া ঘাটের টার্মিনাল সুপারভাইজার শিমুল ইসলাম বলেন, লঞ্চটির মাস্টার ঘাট ছেড়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর পদ্মা নদীর মধ্যবর্তী এলাকার একটি পদ্মার চরের সঙ্গে গিয়ে আঘাত করে। এতে লঞ্চটি ওই চরে আটকে যায়। প্রথমে নিজেরাই অনেক চেষ্টা করে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পরে ঘাট থেকে আরেকটি লঞ্চ নেওয়া হয়। ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে করে যাত্রীদের নিরাপদে উদ্ধারের পর লঞ্চে তুলে পাটুরিয়া ঘাটে নামিয়ে দেওয়া হয়। এ ছাড়া আজ রোববার সকালের দিকে লঞ্চটি দৌলতদিয়া ঘাটে নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে লঞ্চটি ঘাটেই নোঙর করে রাখা হয়েছে।
দৌলতদিয়া নৌ পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) ত্রিনাথ সাহা বলেন, ‘আমরা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ থেকে ফোন পেয়ে রাতেই লঞ্চটির কাছে পৌঁছে যাত্রীদের নিরাপত্তা দিই। একই সঙ্গে দৌলতদিয়া এবং পাটুরিয়া ঘাট থেকে নৌ পুলিশ দুটি স্পিডবোট নিয়ে এলাকায় অবস্থান করি। পরে ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে করে যাত্রীদের উদ্ধার করে নৌ পুলিশের প্রহরায় রাত সাড়ে ১১টার দিকে আরেকটি লঞ্চের মাধ্যমে যাত্রীদের পাটুরিয়ায় নিরাপদে পৌঁছে দেওয়া হয়।’






