বোস্টনে ফ্রান্সের বিপক্ষে একাদশ ঘোষণা করেই চমকে দিয়েছেন নরওয়ে কোচ স্টালে সোলবাক্কেন। মোট ১০টি পরিবর্তন! তার মধ্যে নেই আগের দুই ম্যাচে ৪ গোল করা তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হলান্ড!

ফ্রান্স তা করেনি। একাদশে চারটি পরিবর্তন আনলেও শক্তিশালী দলই মাঠে নামাচ্ছেন কোচ দিদিয়ের দেশম। কিলিয়ান এমবাপ্পে, মাইকেল ওলিসে, উসমান দেম্বেলেরা আছেন একাদশে।

হলান্ডকে বেঞ্চে রেখেছেন সোলবাক্কেন। বদলি হিসেবে তাঁকে মাঠে নামালে এমবাপ্পে-হলান্ডের দ্বৈরথ দেখার সুযোগটা মিলবে। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এরই মধ্যে আলোচনা চলছে নরওয়ে একাদশে হলান্ডের অনুপস্থিতি নিয়ে। কেন তাঁকে এ ম্যাচে একাদশে রাখা হলো না?

‘আই’ গ্রুপ থেকে নকআউট পর্ব শেষ ৩২ দলের রাউন্ডে নিশ্চিত করেছে নরওয়ে। ফ্রান্সের বিপক্ষে আজ জিতলে ‘আই’ গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হবে সোলবাক্কেনের দল। তখন শেষ ৩২ দলের রাউন্ডে তাঁরা মুখোমুখি হবে গ্রুপে তৃতীয় সেরা কোনো দলের।

আপাতত যে সমীকরণ তাতে নরওয়ে আজ ফ্রান্সকে হারিয়ে ‘আই’ গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হলে শেষ ৩২ দলের রাউন্ডে সুইডেনের মুখোমুখি হবে। গ্রুপ পর্বের বাকি ম্যাচগুলোর ফলের প্রভাবে পরে প্রতিপক্ষ পাল্টেও যেতে পারে।

নরওয়ের বিপক্ষে ফ্রান্স জিতলে কিংবা ড্র করলেই ‘আই’ গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হবে। তখন এই গ্রুপের রানার্স আপ দল হবে নরওয়ে। সেক্ষেত্রে শেষ ৩২ দলের রাউন্ডে ‘ই’ গ্রুপের রানার্স আপ আইভরিকোস্টের মুখোমুখি হতে হবে নরওয়েকে।

প্রশ্ন হচ্ছে, নরওয়ে কোচ সোলবাক্কেনের কি তাহলে ‘আই’ গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন বা রানার্স আপ হওয়ার মধ্যে তেমন কোনো পার্থক্য দেখছেন না? আইভরি কোস্ট কিংবা সুইডেনকে (সম্ভাব্য) কি প্রতিপক্ষ হিসেবে মোটামুটি একই মানের মনে হচ্ছে তাঁর কাছে? আর সেজন্যই কি আজ ফ্রান্সের বিপক্ষে ম্যাচে হলান্ডকে একাদশে না রেখে তাঁকে একটু বিশ্রামের সুযোগ করে দিয়েছেন সোলবাক্কেন? কারণ নরওয়ে এই ম্যাচ হারলেও তাদের শেষ ৩২ দলের রাউন্ডে ওঠার টিকিট কেউ কেড়ে নিতে পারবে না। এ বিষয়টি বিবেচনায় সোলবাক্কেনের কাছে তো শেষ ৩২ দলের রাউন্ডের ম্যাচই বেশি গুরুত্বপূর্ণ!

নরওয়ে কোচ সেই ইঙ্গিত কিন্তু আগেই দিয়েছেন, ‘(ফ্রান্স) ম্যাচটা গুরুত্বপূর্ণ। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ হলো শেষ ৩২ দলের রাউন্ড...বাস্তবতা বিবেচনা করলে, আমরা আসলে জানি না আমাদের কয়টি ম্যাচ খেলতে হবে। তবে এটা শতভাগ নিশ্চিত যে নকআউট পর্বের (সেরা ৩২ দল) জন্য মানসিকভাবে ও শারীরিকভাবে আমাদের পুরোপুরি চনমনে থাকতে হবে।’

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও আয়ারল্যান্ড কিংবদন্তি রয় কিন হলান্ডসহ সহ নরওয়ের একাদশে মোট ১০টি পরিবর্তনের পক্ষে। বিবিসিকে বলেছেন, ‘ফরাসীদের লক্ষ্য যেখানে বিশ্বকাপ জেতা, সেখানে নরওয়ের প্রথম লক্ষ্যই ছিল গ্রুপ পর্ব পার হওয়া, যা তারা ইতিমধ্যেই করে দেখিয়েছে। আমার মনে হয়, দলটির কোচ হয়তো ভেবেছেন ফ্রান্সের বাধা টপকানো বেশ কঠিন হবে, তাই মূল খেলোয়াড়দের বিশ্রাম দিয়ে পরের সপ্তাহের ম্যাচের জন্য নতুন করে প্রস্তুতি নেওয়াই ভালো।’

কিন আরও বলেন, ‘কোচের এই ভাবনার যৌক্তিকতা আমি দেখতে পাচ্ছি। হ্যাঁ, মাঠে নেমে জেতার মানসিকতা থাকাটা জরুরি, তবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও মাথায় রাখতে হয়। আসলে দুই দেশের প্রত্যাশার পরিমাপটা আলাদা।’