দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের অর্থনীতির আলোচনায় একটি মৌলিক প্রশ্ন ঘুরেফিরে আসছে—আর কোনো দিন কি খেলাপি ঋণের লাগাম টানা যাবে?
এই সংকটের গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, সমস্যাটি কেবল অর্থনৈতিক হিসাব-নিকাশের নয়; এটি মূলত রাজনৈতিক সংস্কৃতি, প্রশাসনিক ব্যর্থতা এবং নীতিনির্ধারণী নমনীয়তার এক দীর্ঘমেয়াদি যৌথ ফসল।
বিগত দেড় দশকে আর্থিক খাতে যে গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছে, তা সাম্প্রতিক সময়ের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং নির্বাচিত নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পরও দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হিসেবে দৃশ্যমান রয়ে গেছে।
২০০৯ সালের শুরুতে যখন আওয়ামী লীগ সরকার দায়িত্ব নেয়, তখন দেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় ২২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা। এরপর শুরু হওয়া উন্নয়নের জোয়ারে পদ্মা সেতু, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, মেট্রোরেলসহ বহু মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে এবং বাজেটের আকার প্রায় ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে।
.বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে তখন দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির কিছু সূচক ইতিবাচক ছিল; কোভিড-১৯ মহামারির বছরেও প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ, যা ২০২২ সালে ৭ দশমিক ১ শতাংশে উন্নীত হয়। এমনকি ২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ১০ বছরে গড় প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ দশমিক ২ শতাংশ, যা সমসাময়িক অনেক উদীয়মান অর্থনীতির তুলনায় ভালো ছিল।
কিন্তু এই উন্নয়নের সমান্তরালে আর্থিক খাতে ধীরে ধীরে গভীর ক্ষত তৈরি হচ্ছিল। ব্যাংকিং খাতে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় নিয়মবহির্ভূত ঋণ বিতরণ, নির্দিষ্ট করপোরেট গোষ্ঠীকে বিশেষ সুবিধা এবং পুনঃ তফসিলীকরণের নামে মাত্রাতিরিক্ত নমনীয়তা আর্থিক খাতের ভেতরে এক ভঙ্গুরতা তৈরি করে।
২০১৩ সালের শেষে খেলাপি ঋণের হার ছিল ৮ দশমিক ৯ শতাংশ, যা কৃত্রিমভাবে ঋণ ভালো দেখানোর নানা নীতিনির্ধারণী ছাড় সত্ত্বেও ২০২৩ সালের শেষে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকায় পৌঁছায়।
২০২৪ সালের জুনে তা দাঁড়ায় ২ লাখ ১১ হাজার ৩৯১ কোটি টাকায়, যা মোট ঋণস্থিতির ১২ দশমিক ৫৬ শতাংশ।
২০২৪ সালের আগস্টে গণ-অভ্যুত্থানের পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়। তখন রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে চতুর্মুখী সমস্যায় জর্জরিত দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি রূপান্তরের মুখোমুখি হয়। সুশাসন ফেরাতে অন্তর্বর্তী সরকার আইএমএফ নির্দেশিত ঋণ শ্রেণিকরণের ওভারডিউ সময়সীমা পর্যায়ক্রমে ৯০ দিনে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয়।
.খেলাপি ঋণে বাংলাদেশ এশিয়ায় কেন শীর্ষে.একে অর্থনীতিবিদেরা ইতিবাচক দেখলেও, ক্রান্তিকালে উৎপাদন ব্যাহত হওয়া ও ব্যবসায়ীরা দৃশ্যপট থেকে সরে যাওয়ায় ঋণ আদায় পরিস্থিতি চরম সংকটে পড়ে, যা কর্মসংস্থান ও অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
একই সময়ে অতীতে পুনঃ তফসিলভুক্ত হওয়া অনেক ঋণ আনুষ্ঠানিকভাবে খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হয়। বিভিন্ন ব্যাংকের পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার পর অডিট রিপোর্টে বেশ কিছু বিতর্কিত করপোরেট গোষ্ঠীর ঋণ জালিয়াতির প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে শুরু করে।
ফলে ২০২৫ সালের জুনে খেলাপি ঋণ বেড়ে ৫ লাখ ৩০ হাজার ৪২৮ কোটি টাকা এবং ডিসেম্বরে তা বেড়ে ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকায় দাঁড়ায়।
খেলাপি ঋণের তথ্য প্রকাশের সাহস প্রশংসনীয় হলেও অন্তর্বর্তী সরকারের নীতিগত সমন্বয়হীনতা সামষ্টিক অর্থনীতিকে চাপে ফেলে। ব্যাংক খাতের জন্য গঠিত টাস্কফোর্স বা কমিশনের সুফল মেলেনি। দুর্বল ও সবল ব্যাংকের একীভূতকরণ এবং দুর্বল ব্যাংকগুলোতে প্রশাসক নিয়োগের তাড়াহুড়ায় আমানতকারীদের মধ্যে চরম আস্থার সংকট তৈরি হয়, যা তারল্যসংকট বাড়িয়ে বেসরকারি বিনিয়োগে স্থবিরতা আনে।
এই সময়ে কঠোর মুদ্রানীতির মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হলেও সরবরাহ চেইনে ঘাটতি স্পষ্ট ছিল। ফলে ২০২৪ সালে মূল্যস্ফীতি ১০ দশমিক ২ শতাংশ ছুঁয়ে ফেলে এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি নেমে আসে মাত্র ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশে, যা দেশের ঐতিহাসিক গড় প্রবৃদ্ধির তুলনায় অনেকটাই নিচে।
.কেন এই লাগামহীন অর্থপাচার.২০২৬ সালের শুরুতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত নতুন সরকার উত্তরাধিকার সূত্রে পায় নিম্ন প্রবৃদ্ধির ভঙ্গুর অর্থনীতি। ২০২৬ সালের মার্চ নাগাদ খেলাপি ঋণ আরও ৩১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা বেড়ে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা (বিতরণকৃত ঋণের ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ) ছাড়িয়ে যায়। এর সঙ্গে নিরাপত্তা সঞ্চিতি বা প্রভিশন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫ হাজার ৬৬৫ কোটি টাকায়, যা পুরো ব্যাংক খাতকে ঝুঁকিতে ফেলেছে।
পাশাপাশি নতুন সরকার প্রথম দেড় মাসেই ব্যাংক থেকে ঋণ নেয় প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা। যদিও চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে ব্যাংক থেকে অন্তর্বর্তী সরকার ও বর্তমান সরকারের মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১ লাখ ৯ হাজার কোটি টাকা। বিগত দেড় দশকের আওয়ামী শাসনামলে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক মোট ঋণস্থিতি ২ লাখ ৭৬ হাজার কোটি টাকা থেকে বেড়ে হয় ১৮ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা, যার একটি বড় অংশ মেগা প্রকল্পগুলোর অর্থায়নের সঙ্গেও জড়িত।
.বাংলাদেশের অর্থনীতির সামর্থ্য রয়েছে। ইতিমধ্যে আমাদের জিডিপির আকার অর্ধ ট্রিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে। প্রবাসী আয়প্রবাহ যথেষ্ট শক্তিশালী, রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে এবং একটি বিশাল তরুণ কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী রয়েছে। অভাব কেবল ধারাবাহিক রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের প্রতি নীতিনির্ধারকদের অবিচল অঙ্গীকারের।.
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৮ মাসের মেয়াদে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের স্থিতি অপ্রত্যাশিতভাবে বৃদ্ধি পেয়ে সরকারি ঋণের মোট পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ২৩ লাখ কোটি টাকায়। এই বিশাল অঙ্কের ঋণ নিয়ে বর্তমান সরকারের যাত্রা শুরু হয়। একই ধারা বজায় থাকলে আগামী ২০২৮-২৯ অর্থবছর নাগাদ সরকারের এই ঋণের স্থিতি প্রায় ৩৪ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে সরকারকেই তখন বছরে ঋণের ব্যয় (সুদ) হিসেবে গুনতে হবে ১ লাখ ৬২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা, যা চিন্তার বড় কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
এদিকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি মেটাতে পরিকল্পনা অনুযায়ী সিংহভাগই আসবে ব্যাংক খাত থেকে। খেলাপি ঋণের পাহাড় মাথায় নিয়ে সরকারের ব্যাংকনির্ভরতা এভাবে বাড়তে থাকলে বেসরকারি খাতের জন্য ঋণ আরও সংকুচিত হবে—যাকে অর্থনীতিতে ‘ক্রাউডিং আউট ইফেক্ট’ বলা হয়। সরকারের রাজস্ব ঘাটতির কারণে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ জিডিপির সাড়ে ২২ শতাংশে নেমে এসেছে। আইএমএফের প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হয়তো ৪ দশমিক ৭ শতাংশ পর্যন্ত উঠতে পারে, তবে মূল্যস্ফীতি এখনো ৮ দশমিক ৮ শতাংশের কাছাকাছি থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
.ব্যাংক থেকে লুট করা টাকা এখন খেলাপির খাতায় .তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত দেশের ৬১টি ব্যাংকের মধ্যে মাত্র ১৫টি ব্যাংকে মোট খেলাপি ঋণের ৮৫ শতাংশের (৪ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা) বেশি কেন্দ্রীভূত। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে জনতা ব্যাংকের পরিস্থিতি সবচেয়ে আশঙ্কাজনক; ব্যাংকটির মোট বিতরণকৃত ঋণের প্রায় ৭০ শতাংশ (প্রায় ৭২ হাজার ৫৩৯ কোটি টাকা) খেলাপির খাতায়। বেসিক ব্যাংকের ৬৫ শতাংশ, রূপালী ব্যাংকের ৩৮ শতাংশ, অগ্রণী ব্যাংকের ৩৬ শতাংশ এবং বিডিবিএলের ৩৯ শতাংশ হলেও সোনালী ব্যাংকের খেলাপি হার তুলনামূলক ভালো—১৫.৩৫ শতাংশ। অন্যদিকে, বিদেশি ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের হার মাত্র ৪ দশমিক ৮২ থেকে ৬ দশমিক ১ শতাংশ, যা প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও পেশাদার ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব প্রমাণ করে।
বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক তুলনায় আমাদের এই চিত্র উদ্বেগজনক। এশিয়ার গড় খেলাপি ঋণ মাত্র ১ দশমিক ৬ শতাংশ এবং দক্ষিণ এশিয়ায় তা ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। ভারতে এই হার ২ দশমিক ৩ থেকে ২ দশমিক ৮ শতাংশ, নেপালে ৪ দশমিক ৪ থেকে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ এবং সংকটে থাকা পাকিস্তানেও তা মাত্র ৭ দশমিক ৪ শতাংশ। সেখানে বাংলাদেশে বিতরণকৃত ঋণের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই এখন খেলাপি, যা আঞ্চলিক গড়ের কয়েক গুণ বেশি।
.আমাদের আইনি কাঠামোতেও বড় পার্থক্য রয়েছে। ‘ইচ্ছাকৃত খেলাপি’ (উইলফুল ডিফল্টার) বিষয়টি মূলত ভারত ও পাকিস্তান অনুসরণ করে থাকে। তবে অন্যান্য উন্নত ও উদীয়মান অর্থনীতির দেশে নির্দিষ্ট সময়ে পরিশোধ না করলেই আইন সবার জন্য সমান কঠোর। সংযুক্ত আরব আমিরাতে ঋণখেলাপির সব সম্পদ তাৎক্ষণিকভাবে জব্দ করা হয়।
চীন ও ভিয়েতনামে দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে; চীনে খেলাপিদের ক্রেডিট কার্ড ও টিকিট ক্রয়ে নিষেধাজ্ঞা আছে। দক্ষিণ কোরিয়া ১৯৯৮ সালের সংকটে ‘কোরিয়া অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট করপোরেশন’ (ক্যামকো) গঠন করে খেলাপি ঋণ শেয়ারে রূপান্তরের মাধ্যমে ব্যাংক খাত পুনর্গঠন করেছিল।
খেলাপি ঋণ সমস্যার সমাধান কোনো একটি নির্দিষ্ট নীতি বা একটি সরকারের পক্ষে রাতারাতি করা সম্ভব নয়। তবে কিছু মৌলিক ও কাঠামোগত পরিবর্তন ছাড়া এই অবস্থার উন্নতির কোনো বিকল্প নেই।
.প্রথমত, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকৃত স্বাধীনতা ও তদারকি সক্ষমতা নিশ্চিত করতে হবে এবং বড় করপোরেট গ্রুপের জন্য ‘একক গ্রাহক ঋণসীমা’ কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, অর্থঋণ আদালতগুলোতে ঝুলে থাকা প্রায় পৌনে এক লাখ মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে হবে এবং ‘ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের’ বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ কেবল কাগজে না রেখে বাস্তবায়ন করতে হবে।
তৃতীয়ত, ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে সর্বত্র সনাতনি রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত পরিচয় পরিহার করে আধুনিক ঝুঁকিভিত্তিক মূল্যায়ন (রিস্ক ম্যানেজমেন্ট) করতে হবে।
চতুর্থত, ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে অযাচিত রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে রাজনৈতিক বিবেচনায় পরিচালক বা শীর্ষ কর্মকর্তা নিয়োগের সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে মেধা ও পেশাদারত্বকে প্রাধান্য দিতে হবে।
.ব্যাংক খাতের দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতায় যে গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছে, তার নিরাময় সময়সাপেক্ষ এবং এর জন্য কমপক্ষে পাঁচ থেকে দশ বছর অপেক্ষা করতে হতে পারে। তবে অর্থনৈতিক ইতিহাস আমাদের শিক্ষা দেয়—যেসব দেশ আর্থিক সংকট থেকে সফলভাবে বেরিয়ে এসেছে, তারা রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কঠোর প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের সমন্বয়েই তা সম্ভব করেছে। দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কা কঠোর সংস্কার ও জবাবদিহির মাধ্যমে তাদের ব্যাংকিং খাতকে পুনর্গঠনে সফল হয়েছে।
বাংলাদেশের অর্থনীতির সামর্থ্য রয়েছে। ইতিমধ্যে আমাদের জিডিপির আকার অর্ধ ট্রিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে। প্রবাসী আয়প্রবাহ যথেষ্ট শক্তিশালী, রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে এবং একটি বিশাল তরুণ কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী রয়েছে। অভাব কেবল ধারাবাহিক রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের প্রতি নীতিনির্ধারকদের অবিচল অঙ্গীকারের।
সরকার বা ক্ষমতার পরিবর্তন হলেই যদি ব্যাংকিং ব্যবস্থার সংস্কৃতি ও নীতিনির্ধারণী দর্শন বদলে যায়, তবে খেলাপি ঋণের লাগাম টানার স্বপ্ন চিরকালই অধরা থেকে যাবে। খেলাপি ঋণ কেবল ব্যাংকিং খাতের একক সমস্যা নয়, এটি প্রতিটি সাধারণ নাগরিকের সমস্যা। কারণ, এই ঋণের বোঝা শেষ পর্যন্ত বাড়তি সুদের হার, মূল্যস্ফীতির চাপ এবং প্রবৃদ্ধির শ্লথ গতির মাধ্যমে সাধারণ জনগণের কাঁধেই এসে পড়ে। তাই এই লাগাম টানার ঐতিহাসিক দায়িত্ব ও জবাবদিহি বর্তমান ও ভবিষ্যৎ—সব নীতিনির্ধারকের।
এম এম মাহবুব হাসান ব্যাংকার ও উন্নয়ন গবেষক
মতামত লেখকের নিজস্ব






