ছয় মাসের ছুটিতে বাড়িতে এসেছিলেন কুয়েত প্রবাসী তরুণ মুন্না মিয়া (২০)। ২৮ জুন তাঁর ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। এর আগেই গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মারা যান তিনি।
মুন্না মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার জায়ফরনগর ইউনিয়নের ভবানীপুর এলাকার বাসিন্দা রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে।
পুলিশ ও স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, রিয়াজ উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নিয়ে কুয়েতে ছিলেন। মুন্না সেখানে গাড়ি চালাতেন। প্রায় ছয় মাস আগে রিয়াজ ও তাঁর স্ত্রী কুয়েত থেকে দেশে ফেরেন। এ সময় ছোট ছেলে মুন্নাও তাঁদের সঙ্গী হন। গতকাল ভবানীপুর এলাকায় তাঁদের ৪ তলা বাসার নিচতলার একটি কক্ষে টাইলস স্থাপনের কাজ চলছিল। সন্ধ্যা সাতটার দিকে রিয়াজ ও তাঁর ছেলে মুন্না ঘরটির ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করছিলেন।
একপর্যায়ে মুন্না টাইলস কাটার যন্ত্রে লাগানো বিদ্যুৎ লাইনে জড়িয়ে পড়েন। ছেলেকে রক্ষা করতে গিয়ে রিয়াজও বিদ্যুৎস্পৃস্ট হন। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে মুন্না মারা যান। খবর পেয়ে রাতে জুড়ী থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যায়।সরেজমিনে আজ শুক্রবার সকালে মুন্নাদের বাসায় গিয়ে দেখা যায়, স্বজনেরা বিলাপ করছেন। প্রতিবেশীরা তাঁদের সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন।
আক্ষেপ নিয়ে মুন্নার দাদা আবদুল গণি জানান, ছুটি শেষ হওয়ায় ২৮ জুন তাঁর নাতির কুয়েতে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। কথার একপর্যায়ে আবদুল গণি কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরে তিনি বলেন, ‘নাতিটার (মুন্না) জন্ম-কর্ম কুয়েতে। খুব মায়ার নাতি আছিল আমার। সবাইরে কান্দাইয়া দুনিয়া ছাড়ি গেল। মনটারে শান্তি দিতাম পারি না।’
জুড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফরহাদ মিয়া বলেন, স্বজনদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মুন্নার লাশটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।






