রাজশাহী নগরের রেলগেট খামারবাড়ি প্রাঙ্গণে ঢুকতেই চোখ আটকে যায় একের পর এক আমের সারিতে। কোথাও বিশাল আকৃতির ব্রুনেই কিং, কোথাও আবার নাম শুনলেই কৌতূহল জাগে, এমন নানা জাতের আম। বউ-ভোলানো, দারোগাভোগ, ইঁদুরচাটা, চুঙ্গিভোগ কিংবা মিছরির দানা নামের আম। আমের রাজধানীখ্যাত রাজশাহীর মানুষও এসব নামের অনেক আম প্রথমবারের মতো দেখেছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে ও রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন প্রকল্পের (১ম সংশোধিত) অর্থায়নে আয়োজিত ‘ফল ও আম মেলা ২০২৬’-এ যেন আমের এক বৈচিত্র্যময় জগৎ তৈরি হয়েছে। মেলায় প্রদর্শিত হয়েছে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে ৬৭ জাতের আম। সঙ্গে ছিল মৌসুমি ফল, ফুলের গাছ, ফলদ চারাসহ আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তির প্রদর্শনী। তিন দিনব্যাপী মেলা আগামী শনিবার পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলবে।
মেলার একটি স্টলে ভিড় করে দাঁড়িয়ে ছিলেন দর্শনার্থীরা। তাঁদের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু ব্রুনেই কিং নামের একটি আম। ওজন প্রায় দুই কেজি। হাতে নিয়ে দেখছিলেন মাহফুজ আলম। বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘এত বড় আম জীবনে প্রথম দেখলাম। শুধু বড়ই না, অনেক আমের নামও আগে কখনো শুনিনি।’
মেলার বিভিন্ন স্টলে ঘুরে দেখা গেল, প্রচলিত আম্রপালি, গোপালভোগ কিংবা ল্যাংড়ার পাশাপাশি বউ-ভোলানো, দারোগাভোগ, ইঁদুরচাটা, শ্রাবণী, রহিমুড়া, মিছরিভোগ, আড়াজাম, নজিরভোগ, ছাতু ভিজালী, জোরস্থানী, মহনভোগ, চুরুনভোগ, মিছরির দানা, আপেলভোগ, রাশিদা গুটি, পাতরা, পাগারে, শ্যামলতা, জহুরা, আনারসিসহ দেশি-বিদেশি নানা জাতের আম। নামের বৈচিত্র্যের মতোই ভিন্ন তাদের রং, আকৃতি ও স্বাদ।
বুধবার সকালে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মেলার উদ্বোধন করেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন রাজশাহী জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাইমুল হাসান। সভাপতিত্ব করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের রাজশাহীর উপপরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন।
জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, নিরাপদ ও রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন, আধুনিক চাষাবাদের প্রসার ও কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতেই এ মেলার আয়োজন। রাজশাহীর আম দেশ-বিদেশে সুনাম অর্জন করেছে। সেই সুনাম আরও ছড়িয়ে দিতে হবে।
মেলায় অংশ নিয়েছে ১০টি ফলের স্টল এবং ১১টি ফুল ও ফলের নার্সারি। বিদেশি বিভিন্ন জাতের আম নিয়ে এসেছে হানিফ মণ্ডল অ্যাগ্রো ফার্ম। প্রতিষ্ঠানটির মালিক মো. হানিফ আলী বলেন, তাঁর বাগানে ৩০ জাতের আম আছে। মেলায় এসে মানুষ বিভিন্ন জাতের আম সম্পর্কে জানতে চাইছেন, প্রশ্ন করছেন। এতে সচেতনতা বাড়ছে। তবে তিনি মনে করেন, মেলার প্রচার আরও বেশি হলে দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়ত।






