গঙ্গার পানি ভাগাভাগি–সংক্রান্ত ভারত-বাংলাদেশের মধ্যকার ৩০ বছরের চুক্তির মেয়াদ এ বছর শেষ হতে যাচ্ছে। গঙ্গা চুক্তির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং বিরোধপূর্ণ বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে হলে অনেক প্রস্তুতির দরকার। চুক্তি নবায়নের জন্য বাংলাদেশ কীভাবে প্রস্তুত হতে পারে, তা নিয়ে দুই পর্বে লিখেছেন নজরুল ইসলাম। আজ প্রকাশিত হলো প্রথম পর্ব
.আগামী ডিসেম্বর মাসে ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গার পানি ভাগাভাগি–সংক্রান্ত ভারত-বাংলাদেশের মধ্যকার ৩০ বছরের চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। সময়মতো এই চুক্তির নবায়ন হওয়া প্রয়োজন। গঙ্গা চুক্তির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং বিরোধপূর্ণ বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে হলে অনেক প্রস্তুতির দরকার।
এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা হলো যৌথ নদী কমিশন। এই কমিশনের বছরে চারটি ‘সাধারণ সভা’ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। বিগত বছরগুলোতে তা হয়নি। গত ২১-২৩ মে কলকাতায় একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং প্রথম দিন ফারাক্কায় অকুস্থলে গঙ্গার প্রবাহের পরিমাপ পদ্ধতি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।
তবে এই সভায় গঙ্গা চুক্তির নবায়নের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের বক্তব্যের মধ্যে মিল নেই। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ধারণা দেওয়া হয়েছে, এই আলোচনার সূত্রপাত করা হয়েছে; কিন্তু ভারতের প্রতিনিধি তেমনটা বলেননি।
বলাবাহুল্য, এ বিষয়ে গরজ বাংলাদেশেরই হওয়ার কথা; কারণ, উজান অবস্থানের কারণে গঙ্গা প্রবাহের কতটা বাংলাদেশে প্রবাহিত হবে, তা ভারত নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। সুতরাং বাংলাদেশকেই উদ্যোগ এবং প্রস্তুতি নিতে হবে।
এই প্রস্তুতির তিনটি দিক রয়েছে।
প্রথমত, এই চুক্তির বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান নির্ধারণ।
দ্বিতীয়ত, এই অবস্থান যাতে গৃহীত হয়, সে জন্য করণীয় নির্ধারণ এবং সম্পাদন।
তৃতীয়ত, আলোচনার জন্য উপযুক্ত টিম প্রস্তুত করা।
এই তিন করণীয়র মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কও রয়েছে। যেমন বাংলাদেশের অবস্থান যাতে গৃহীত হয়, সে জন্য যা করা দরকার, তা বহুলাংশে ওই অবস্থানের ওপর নির্ভর করে। একইভাবে কী ধরনের টিম ভারতের সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশের অবস্থান সবচেয়ে কার্যকরভাবে তুলে ধরতে পারবে, সেটাও বহুলাংশে ওই অবস্থানের ওপর নির্ভর করে।
.এযাবৎ অভিন্ন নদ–নদী নিয়ে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেটাকে বলা যেতে পারে নদ–নদীর প্রতি ‘বাণিজ্যিক’ দৃষ্টিভঙ্গিভিত্তিক আলোচনা। এই আলোচনায় নদীকে মূলত একটি বাণিজ্যিক সম্পদ হিসেবে গণ্য করা হয় এবং নদীর পানির সমুদ্রে চলে যাওয়াকে অপচয় বলে বিবেচনা করা হয়।
এই দৃষ্টিভঙ্গিতে নদ–নদীর প্রাকৃতিক ভূমিকা গুরুত্ব পায় না। এর বিপরীত হলো নদ–নদীর প্রতি ‘প্রকৃতিসম্মত’ দৃষ্টিভঙ্গি। এতে নদ–নদীর প্রাকৃতিক ভূমিকার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। এই ভূমিকার দুটি দিক বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। একটি হলো, ধরিত্রীর পানিচক্রের গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থি হিসেবে কাজ করা। সমুদ্রের পানি বাষ্প হয়ে বাতাস দ্বারা বাহিত হয়ে পাহাড়-পর্বতে বাধাপ্রাপ্ত হয়; উঁচুতে উঠে শীতল হয়ে বৃষ্টি কিংবা তুষারে পরিণত হয়ে ভূপতিত হয়; অতঃপর নদ–নদী দ্বারা বাহিত হয়ে সমুদ্রে ফিরে আসে।
দ্বিতীয় হলো, প্রতিটি নদ–নদী স্বীয় উপত্যকায় একটি নিজস্ব বাস্তুতন্ত্রের জন্ম দেয় এবং তাকে জায়মান রাখে। সামগ্রিকভাবে পৃথিবীর বাস্তুতান্ত্রিক ভারসাম্যের জন্য এই উভয় ভূমিকা অপরিহার্য। অভিজ্ঞতা দেখায়, বাণিজ্যিক দৃষ্টিভঙ্গি অদূরদর্শী; কারণ, নদীর প্রাকৃতিক ভূমিকা ক্ষতিগ্রস্ত হলে দীর্ঘ মেয়াদে নদ–নদীর বাণিজ্যিক তথা অর্থনৈতিক ভূমিকাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পক্ষান্তরে প্রকৃতিসম্মত দৃষ্টিভঙ্গি দূরদর্শী; কারণ, নদীর প্রাকৃতিক ভূমিকার সুরক্ষা করা গেলে নদী তার অর্থনৈতিক ভূমিকা পালনেও সক্ষম থাকে।
শিল্পবিপ্লবের আগে মানবসমাজ নদ–নদীর প্রতি প্রকৃতিসম্মত আচরণেই অভ্যস্ত ছিল; কারণ, তখন এমন প্রযুক্তির উদ্ভব ঘটেনি, যার দ্বারা সে নদীর প্রাকৃতিক ভূমিকার বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে। কিন্তু শিল্পবিপ্লবের পর সে ধরনের প্রযুক্তির উদ্ভব ঘটে এবং তা ব্যবহার করে শিল্পায়িত কিংবা শিল্পায়নরত দেশসমূহে মানুষ ব্যাপক হারে নদ–নদীর ওপর বাঁধ, ব্যারাজ, লেভি (বেড়িবাঁধ) ইত্যাদি বৃহদাকার কাঠামো নির্মাণ শুরু করে।
.প্রথমাবস্থায়, এসব কাঠামো দ্বারা কিছু অর্থনৈতিক সুবিধাদি অর্জিত হলেও ক্রমে এগুলোর কুফলও স্পষ্ট হতে থাকে। সে কারণে গত শতাব্দীর সত্তরের দশক থেকে উন্নত দেশসমূহে আবার নদ–নদীর প্রতি প্রকৃতিসম্মত পন্থার দিকে প্রত্যাবর্তন শুরু হয়। সেই ধারায় শত শত বাঁধ এবং ব্যারাজ অপসারিত হয় এবং বেড়িবাঁধের কারণে হারিয়ে যাওয়া বহু নদীর প্লাবনভূমির পুনরুদ্ধারের প্রয়াস শুরু হয়।
কিন্তু ভারত, চীনসহ অনেক উন্নয়নশীল দেশে এখনো নদ–নদীর প্রতি বাণিজ্যিক পন্থার আধিপত্য বজায় আছে এবং বাংলাদেশেও আমরা তার উদাহরণ দেখি। কিন্তু ভারতের সঙ্গে নদ–নদীর প্রবাহ ভাগাভাগির বিষয়ে বাণিজ্যিক পন্থার ভিত্তিতে আলোচনায় নিয়োজিত হলে বাংলাদেশ নিজেই নিজের বিপদ ডেকে আনবে। কেননা ভারত নদীর পানির বহুবিধ বাণিজ্যিক ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা দেখিয়ে বলতে পারে যে বাংলাদেশকে দেওয়ার মতো পানি অবশিষ্ট নেই।
বাস্তবে আমরা তার উদাহরণও দেখছি। যেমন ভারত শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশের জন্য তিস্তার কোনো পানি ছাড়তে রাজি হয়নি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, ‘বাংলাদেশকে দেওয়ার মতো কোনো জল নেই।’ একইভাবে ভারত গঙ্গার শুষ্ক মৌসুমের পানি বাংলাদেশকে দিতে অনিচ্ছুক; কারণ, তাদের মতে কলকাতা বন্দরের নাব্যতা রক্ষার জন্য সে পানি তাদের প্রয়োজন।
.চুক্তির গরজ বাংলাদেশেরই হওয়ার কথা; কারণ, উজান অবস্থানের কারণে গঙ্গা প্রবাহের কতটা বাংলাদেশে প্রবাহিত হবে, তা ভারত নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
এযাবৎ অভিন্ন নদ–নদী নিয়ে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেটাকে বলা যেতে পারে নদ–নদীর প্রতি ‘বাণিজ্যিক’ দৃষ্টিভঙ্গিভিত্তিক আলোচনা।
ভারত আন্তনদী সংযোগ প্রকল্প নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে, যার মূল লক্ষ্য হলো ব্রহ্মপুত্র অববাহিকা থেকে পানি ভারতের পশ্চিম ও দক্ষিণ অভিমুখে অপসারণ করা।
এ ধরনের বাণিজ্যিক কারণ দেখিয়ে ভারত উজানে এসব নদী এবং তাদের উপশাখাসমূহের ওপর অসংখ্য বাঁধ এবং ব্যারাজ নির্মাণ করছে, যার ফলে বিশেষত শুষ্ক মৌসুমে গঙ্গা এবং তিস্তা নদীতে বাংলাদেশে প্রবাহিত হওয়ার মতো সামান্যই পানি অবশিষ্ট থাকছে।
তদুপরি ভারত আন্তনদী সংযোগ প্রকল্প নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে, যার মূল লক্ষ্য হলো ব্রহ্মপুত্র অববাহিকা থেকে পানি ভারতের পশ্চিম ও দক্ষিণ অভিমুখে অপসারণ করা। পূর্ব দিকে বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম নদী মেঘনার উৎস নদী বরাকের ওপরও ভারত টিপাইমুখ বাঁধ এবং কাছাড় জেলায় ফুলেরতলে ব্যারাজ নির্মাণের পরিকল্পনা করছে, যেগুলো বাস্তবায়িত হলে মেঘনা অববাহিকায়ও পানি হ্রাস পাবে এবং নদীপ্রবাহের ঋতুচক্রে নানাবিধ অনভিপ্রেত পরিবর্তন ও সংকট দেখা দেবে।
.নদ–নদীর প্রতি ভারতের বাণিজ্যিক পন্থা মোকাবিলার জন্য বাংলাদেশও বাণিজ্যিক পন্থার আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। বস্তুত বাংলাদেশ এ পর্যন্ত তা–ই করেছে। যেমন ফারাক্কা ব্যারাজ নির্মাণের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ বৃহত্তর কুষ্টিয়া, যশোর এবং খুলনা জেলাজুড়ে ‘গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জি-কে) প্রকল্প’ গ্রহণ করে, যাতে ভারতের কাছে দাবি করা যায় যে সেচের প্রয়োজনে তারও গঙ্গার পানি দরকার।
একইভাবে ভারত কর্তৃক গজলডোবা ব্যারাজ নির্মাণের মুখে বাংলাদেশ আশির দশকে ডালিয়ায় তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্প নির্মাণ করে, যাতে ভারতের কাছে দাবি করা যায় যে সেচের প্রয়োজনে বাংলাদেশের তিস্তার পানি দরকার।
কিন্তু এগুলোর কোনোটিই সফল হয়নি। জি-কে প্রকল্প ফারাক্কা ব্যারাজের নির্মাণ বন্ধ করতে পারেনি। বরং ফারাক্কার কারণে জি-কে প্রকল্পই প্রথম পর্যায়ের প্রথম ইউনিটের বেশি অগ্রসর হতে পারেনি। ডালিয়াস্থ তিস্তা ব্যারাজের অভিজ্ঞতা আরও করুণ। স্থিতিশীল প্রবাহের অভাবে তা বাংলাদেশের গোটা তিস্তা নদীকেই বিপর্যস্ত এবং বিকৃত করে দিয়েছে।
কাজেই বাণিজ্যিক পন্থার কাঠামোর মধ্যে ভারতের সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশের সফল হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। বরং প্রকৃতিসম্মত পন্থাই এ বিষয়ে বাংলাদেশের জন্য উপযোগী হবে।
.ভারতের সঙ্গে গঙ্গা চুক্তি নিয়ে কেন নতুন করে ভাবতে হবে.প্রথমত, এই পন্থা অবলম্বনের ফলে সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের নদীময় প্রকৃতি, পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্র রক্ষার বিষয়টি প্রাধান্য পাবে।
দ্বিতীয়ত, এই অবস্থান থেকে অগ্রসর হলে ভারতের পক্ষে বাংলাদেশের যুক্তিসমূহ অগ্রাহ্য করা কঠিন হবে; কারণ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নদ–নদীর প্রাকৃতিক ভূমিকার প্রতি স্বীকৃতি দিন দিন জোরদার হচ্ছে।
এর একটি বড় প্রমাণ হলো, আন্তর্জাতিক নদ–নদীর ব্যবহার–সংক্রান্ত জাতিসংঘের ১৯৯৭ সালের সনদ। একাধিক কারণে এই সনদ বাংলাদেশের জন্য উপকারী। প্রথমত, এতে নদ–নদীর প্রাকৃতিক ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়। যেমন এই সনদের ২০ নম্বর ধারায় বলা হয় যে অংশীদার দেশসমূহ আলাদাভাবে এবং যেখানে প্রযোজ্য, যৌথভাবে আন্তর্জাতিক নদ–নদীর বাস্তুতন্ত্রের সুরক্ষা করবে এবং যত্ন নেবে।
.২৩ নম্বর ধারা ব্যাখ্যা করে যে নদ–নদীর বাস্তুতন্ত্র বলতে নদ–নদীর মোহনা এবং সমুদ্র-উপকূলকে অন্তর্ভুক্ত বলে বিবেচনা করতে হবে। ফলে এই সনদের ভিত্তিতে বাংলাদেশ যখন ভারতের সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশের জলজ বাস্তুতন্ত্র রক্ষা, প্লাবন ও জোয়ার ভূমির ক্রম উচ্চতা বৃদ্ধি, মোহনায় বদ্বীপ গঠনের প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা এবং উপকূলের সুন্দরবন রক্ষার্থে ভারত থেকে প্রবাহিত সব নদ–নদীর পূর্ণ প্রাকৃতিক প্রবাহ পুনঃপ্রতিষ্ঠিত বা অক্ষুণ্ন রাখার দাবি জানাবে, তখন সেটা কেবল বাংলাদেশের দাবি হবে না, সেটা হবে জাতিসংঘের সনদের মাধ্যমে অভিপ্রকাশিত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দাবি।
দ্বিতীয়ত, এমনকি নদ–নদীর অর্থনৈতিক (বাণিজ্যিক) ব্যবহারের বিষয়েও জাতিসংঘের ১৯৯৭ সালের সনদ এমন সব বাধ্যবাধকতা আরোপ করে, যেগুলো বাংলাদেশের জন্য অনুকূল। যেমন এই সনদের ৭ নম্বর ধারায় বলা হয় যে ‘কোনো দেশ কর্তৃক আন্তর্জাতিক নদ–নদী ব্যবহার করার ক্ষেত্রে অংশীদার অন্যান্য দেশের যাতে কোনো প্রণিধানযোগ্য ক্ষতি না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। যদি এরূপ কোনো ক্ষতি সাধিত হয়, তবে দায়ী দেশ ক্ষতিগ্রস্ত দেশের সঙ্গে আলোচনাক্রমে ক্ষতিপূরণ প্রদানসমেত অন্যান্য এমন ব্যবস্থাদি গ্রহণ করবে, যাতে এই ক্ষতি পূরিত হয়।’
উল্লেখ্য, এই সনদ নদ–নদীর ‘প্রচলিত ব্যবহারের’ প্রতি স্বীকৃতি দেয় এবং সনদের ৬ নম্বর ধারা উল্লেখ করে যে ক্ষয়ক্ষতির বিচারে অংশীদার দেশ কর্তৃক নদ–নদীর প্রচলিত ব্যবহার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না, তা আমলে নিতে হবে।
.স্পষ্ট যে জাতিসংঘের ১৯৯৭ সালের সনদের দৃষ্টিকোণ থেকে ভারতের ফারাক্কা কিংবা গজলডোবা ব্যারাজ মোটেও সিদ্ধ নয়; কারণ, এসব ব্যারাজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গঙ্গা এবং তিস্তা নদীর প্রচলিত ব্যবহার বহুলাংশে রুদ্ধ করেছে; প্লাবনভূমি এবং জোয়ারভূমির বাস্তুতন্ত্রের অবক্ষয় সাধন করেছে; উপকূলে অবস্থিত সুন্দরবনকে হুমকির মুখে ফেলেছে; সব মিলিয়ে বাংলাদেশের অপরিমেয় ক্ষতি সাধন করেছে।
সুতরাং গঙ্গা চুক্তির নবায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশের প্রাথমিক করণীয় দুটি। প্রথমত, নদ–নদীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি কিংবা দর্শনে পরিবর্তন আনয়ন। নদ–নদীর প্রতি বর্তমান বাণিজ্যিক পন্থা পরিত্যাগ করে প্রকৃতিসম্মত পন্থা গ্রহণ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক নদ–নদীর ব্যবহার সম্পর্কিত জাতিসংঘের ১৯৯৭ সালের সনদ দ্রুত স্বাক্ষর এবং সংসদ কর্তৃক অনুস্বাক্ষরিত (র্যাটিফাই) করাতে হবে।
এই দুই পদক্ষেপ গঙ্গা চুক্তির নবায়নের জন্য ভারতের সঙ্গে আলোচনার জন্য বাংলাদেশকে প্রস্তুত হতে সহায়তা করবে। তবে এই দুই করণীয় সম্পাদনের পরও আরও বহু করণীয় থেকে যাবে। দ্বিতীয় পর্বে আমরা সেগুলো নিয়ে আলোচনা করব।
নজরুল ইসলাম অধ্যাপক, এশীয় প্রবৃদ্ধি গবেষণা ইনস্টিটিউট ও জাতিসংঘের উন্নয়ন গবেষণার সাবেক প্রধান।
*মতামত লেখকের নিজস্ব






