বাইরে থেকে ছোড়া পাথরের আঘাতে তূর্ণা এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আয়কর আইনজীবী শ্যামল চন্দ্র দাসের ডান চোখ সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুরে স্থানীয় লোকজন ঘটনাটি নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিলে বিষয়টি জানাজানি হয়। গত সোমবার রাত দেড়টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তালশহর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

শ্যামল চন্দ্র দাস (৪৬) জেলা শহরের কান্দিপাড়ার রঘুনাথজিওর আখড়া সার্বজনীন মন্দিরসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আয়কর আইনজীবী সমিতির সদস্য।

.চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ, ভাঙল
কক্সবাজারফেরত যাত্রীর চার দাঁত.

আহত ব্যক্তির পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার জেলা আয়কর আইনজীবী সমিতির সভাপতি মানছুরুল হকের সঙ্গে জরুরি কাজে ঢাকায় যান শ্যামল চন্দ্র দাস। একই দিন রাত সোয়া ১১টার দিকে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী তূর্ণা এক্সপ্রেস ট্রেনের ‘ন’ বগিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উদ্দেশে রওনা হন তিনি। ওই বগির জানালার পাশের ৩৩ নম্বর আসনে বসেছিলেন জেলা আয়কর আইনজীবী সমিতির সভাপতি মানছুরুল হক। তাঁর পাশের ৩৪ নম্বর আসনে ছিলেন শ্যামল। রাত দেড়টার দিকে ট্রেনটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার তালশহর এলাকায় পৌঁছালে অন্ধকার থেকে দুর্বৃত্তরা চলন্ত ট্রেন লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ে। বাইরে থেকে ছোড়া একটি পাথর শ্যামলের ডান চোখে আঘাত করে। এতে তাঁর চোখ দিয়ে রক্ত বের হতে থাকে।

ট্রেনটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশনে যাত্রাবিরতি দিলে স্থানীয় লোকজন শ্যামল চন্দ্র দাসকে উদ্ধার করে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাঁকে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন। স্বজনেরা তাঁকে সেখানে নিয়ে যান। মঙ্গলবার তাঁর ডান চোখে অস্ত্রোপচার করা হয়। তবে চোখটি সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে গেছে বলে পরিবারের লোকজন জানিয়েছেন।

.চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ ঢাকা-কক্সবাজার রুটেই বেশি.

এদিকে বুধবার দুপুর থেকে স্থানীয় লোকজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি নিয়ে পোস্ট দিতে শুরু করলে বিষয়টি জানাজানি হয়। আশুগঞ্জ থেকে আখাউড়া রেলপথে প্রায়ই ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন।

আহত ব্যক্তির ভাতিজা তনয় চন্দ্র দাস বলেন, তাঁর চাচার ডান চোখ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। সৌন্দর্যের কথা বিবেচনা করে চোখটি রাখা হলেও তাতে আর দৃষ্টিশক্তি ফিরবে না বলে চিকিৎসক জানিয়েছেন। আজ সকালে চিকিৎসক ছাড়পত্র দেওয়ায় চাচা এখন ঢাকায় এক আত্মীয়ের বাসায় আছেন।

আহত আয়কর আইনজীবী শ্যামল চন্দ্র দাস মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘চিকিৎসক জানিয়েছেন, ডান চোখে আর দৃষ্টিশক্তি ফিরবে না। ডান চোখটি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগামী রোববার আবার হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসককে চোখ দেখাতে হবে। আমি এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেব। যারা চলন্ত ট্রেনে পাথর ছোড়ে, তাদের ক্রসফায়ারে গুলি করে মেরে ফেলা উচিত।’

.রাজশাহীগামী সিল্ক সিটি ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ, আহত ৬.

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আয়কর আইনজীবী সমিতির সভাপতি মানছুরুল হক মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘চলন্ত ট্রেনে পাথর ছোড়া একটি বড় ধরনের অপরাধ। দুর্বৃত্তের ছোড়া পাথরে শ্যামলের একটি চোখের চিরস্থায়ী ক্ষতি হয়ে গেল। শ্যামলের আর্থিক অবস্থা বেশি ভালো নয়। আমরা এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

আখাউড়া রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল কুদ্দুস মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘দুই দিন হলো এখানে যোগ দিয়েছি। ঘটনাটি আমার জানা নেই। কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’