দেশে-বিদেশে মোশাররফ করিমের ভক্তের সংখ্যা কম নয়। নাটক, চলচ্চিত্র কিংবা ওটিটি—সব মাধ্যমেই তাঁর অভিনয়ের অনুরাগী ছড়িয়ে আছেন বিভিন্ন প্রান্তে। ভক্তরা সুযোগ পেলেই তাঁর সঙ্গে ছবি তোলেন, অটোগ্রাফ নেন, কথা বলেন। অনেকের কাছে প্রিয় অভিনেতাকে একনজর দেখাও হয়ে ওঠে বিশেষ স্মৃতি। কিন্তু মোশাররফ করিম নিজে যখন কোনো শিল্পীর ভক্ত হন, তখন তাঁর আচরণটা কেমন?
মুক্তকণ্ঠের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে এমন প্রশ্নের জবাবে নিজের জীবনের এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতার কথা শোনালেন এই অভিনেতা। সেই অভিজ্ঞতার কেন্দ্রে রয়েছেন ভারতীয় চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা দিলীপ কুমার। মোশাররফ করিম জানান, অভিনয়জীবনের বহু আগে থেকেই দিলীপ কুমারের অভিনয়ের ভক্ত ছিলেন তিনি। তবে প্রিয় অভিনেতাকে সামনে পেয়েও তাঁর সঙ্গে ছবি তোলা বা পরিচিত হওয়ার চেষ্টা করেননি; বরং ইচ্ছা করেই দূরত্ব বজায় রেখেছিলেন।
.সুযোগ থাকলে ফেসবুকটাই বন্ধ করে দিতাম, রসালাপে মোশাররফ করিম.অভিনয়শিল্পী মোশাররফ করিম যদি কারো ভক্ত হতেন বা অভিনয়শিল্পী মোশাররফ করিমের ভক্ত হতেন তাহলে তাঁর কাজগুলো দেখতেন, কাছে গিয়ে ছবি তুলতেন না বলে জানালেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে একবার দিলীপ কুমার এসেছিলেন, কিন্তু আমার কাছে মনে হয় যে আমি আসলে প্রেমের মধ্যে থাকতে চাই। দিলীপ কুমার যে অভিনেতা, তাঁর অভিনয়ের মধ্যে থাকতে চাই। তাঁর যে বাস্তবতা, তার মধ্যে ঢুকে পড়ে আমার ইলিউশনকে নষ্ট করতে চাইনি। মোহকে ভাঙাতে চাইনি। তেমনই আমি যদি মোশাররফ করিমের ভক্ত হতাম তাঁর অভিনয়ের যে মুগ্ধতা, তার মধ্যে থাকতে চাইতাম।’
.১৯৯৫ সালে তিন দিনের সফরে ঢাকায় এসেছিলেন বলিউডের মহাতারকা দিলীপ কুমার। সেই সফর ঘিরে তখন দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ছিল ব্যাপক উৎসাহ ও উন্মাদনা। চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতিজগতের মানুষের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও ছিল তাঁকে একনজর দেখার আগ্রহ। সে সময় তরুণ মোশাররফ করিম ছিলেন নাট্যকেন্দ্রের সদস্য। থিয়েটারের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত তিনি। দিলীপ কুমারের সফরের সময় ওসমানী মিলনায়তনে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে নাট্যকেন্দ্রের হয়ে স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্ব পালন করেন। ফলে দিলীপ কুমারকে খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ পান তিনি।
.মানুষ যখন ভালোবাসতে শুরু করবে, তখনই সফলতাটা আসবে: মোশাররফ করিম.ওই সময়ের কথা মনে করে মোশাররফ করিম বলেন, ‘আমি তখন নাট্যকেন্দ্রের সদস্য। তরুণ বয়স। ওই সময়ে ওসমানী মিলনায়তনে আমাদের দায়িত্ব পড়ে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে। হঠাৎ দেখি, স্বপ্নের মানুষ দিলীপ কুমার চোখের সামনে। অনেকে সেদিন কাছে গিয়ে ছবি তুলেছেন। আমি দূর থেকে দেখেছি। ছবি তোলা বা কাছে যাওয়া সম্ভব ছিল। তারপরও দূর থেকে, আবার কাছ থেকেও তাঁকে দেখছি। একদম সামনে যাইনি, ছবি তুলিনি।’
.দিলীপ কুমারকে ঘিরে ওই সময়ের উন্মাদনাও ছিল দেখার মতো। ভারতীয় চলচ্চিত্রের ‘সুপারস্টার’ হিসেবে পরিচিত এই অভিনেতার ঢাকা সফরকে ঘিরে মানুষের আগ্রহ ছিল তুঙ্গে। সফরের এক পর্যায়ে তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (এফডিসি) পরিদর্শন করেন। সেদিন এফডিসিতে ছিল মানুষের উপচে পড়া ভিড়। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের আত্মীয়স্বজন, চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট মানুষ এবং অনেক দর্শকের উপস্থিতিতে পুরো এলাকায় ভিড় জমে যায়। এমনকি অনেক শিল্পীও তাঁর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পাননি।






