ব্যাপারটা একসময় এমন ছিল যে একজন উত্তরে তো আরেকজন দক্ষিণে। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী যেহেতু, এটুকু না থাকলে তো জমে না!
সেই সময়টা তাঁদের যৌবনকাল। রক্তে আগুন ছিল, তাই কীর্তিতে কীর্তিতে দুই কিংবদন্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতাও জমেছে। কিন্তু এখন বাস্তবতা ভিন্ন। দুজনেরই বয়স বেড়েছে। মেসি ৩৯ বছরে পা রেখেছেন আর রোনালদোর ৪১ পেরিয়ে গেছে। শরীরের ভেতরকার সেই আগুনও মিইয়ে এসেছে। কমেছে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আঁচ। জীবন তাঁদের এখন এমন একটি জায়গায় এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে, যেখানে মিলে গেছে দুই কিংবদন্তির নিয়তি!
.বিশ্বকাপের ইতিহাসে কোনো খেলোয়াড়ের প্রথম ও সর্বশেষ গোলের মাঝে সর্বোচ্চ দিন ব্যবধানের রেকর্ডটি এখন মেসি ও রোনালদোর। তবে এই রেকর্ডে চমকটা অন্যখানে।
পর্তুগিজ কিংবদন্তি ২০০৬ বিশ্বকাপে প্রথম গোল করেন ইরানের বিপক্ষে। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৭ জুন। বিশ্বকাপে রোনালদোর সর্বশেষ গোল আজ উজবেকিস্তানের বিপক্ষে। তাঁর প্রথম এবং সর্বশেষ গোলের মাঝে ২০ বছর ১১ দিনের ব্যবধান।
.আর্জেন্টাইন কিংবদন্তিরও বিশ্বকাপে প্রথম গোল ২০০৬ বিশ্বকাপে, সার্বিয়ার বিপক্ষে। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয় ১৬ জুন। বিশ্বকাপে মেসির সর্বশেষ গোল গত রাতে (২২ জুন, ম্যাচটি শুরু হয় রাত ১১টায়) অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে। তাঁরও প্রথম ও সর্বশেষ গোলের মাঝে ২০ বছর ১১ দিনের ব্যবধান!
দুজনের এমন অবিশ্বাস্য মিল নিয়তি নয় তো আর কী! তবে মিল আছে রেকর্ড বইয়ের আরও একটি পাতায়। সেখানে অবশ্য আরও একজন আছেন আগে থেকেই।
.আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা ম্যাচের আগে ক্যান্ডি খান কেন.বিশ্বকাপে মাত্র তিন খেলোয়াড় তাঁর দেশের সর্বকনিষ্ঠ ও সবচেয়ে বেশি বয়সে গোলের রেকর্ডধারী। ডেনমার্ক কিংবদন্তি মাইকেল লাউড্রপের সেই রেকর্ডে অস্ট্রিয়া ম্যাচে ভাগ বসান মেসি। তারপর আজ সেই ক্লাবে তৃতীয় হিসেবে নাম লেখান রোনালদো।
লাউড্রপ ২১ বছর ৩৫৮ দিন বয়সে ডেনমার্কের হয়ে প্রথম গোল করেন ২১ বছর ৩৫৮ দিন বয়সে। বিশ্বকাপে তাঁর সর্বশেষ গোল ৩৪ বছর ৯ দিন বয়সে (১৯৯৮ বিশ্বকাপ)।
.বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির প্রথম গোল ১৮ বছর ৩৫৭ দিন বয়সে। অস্ট্রিয়ার জালে সর্বশেষ গোলের সময় তাঁর বয়স ৩৮ বছর ৩৬৩ দিন।
রোনালদো ২১ বছর ১৩২ দিন বয়সে বিশ্বকাপে পর্তুগালের হয়ে প্রথম গোল করেন। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে আজ সর্বশেষ গোলে তাঁর বয়স ৪১ বছর ১৩৮ দিন।
.ভস্ম থেকে ‘জোড়া ডানা’য় উড়লেন রোনালদো





