ফরিদপুরের ভাঙ্গায় আঞ্চলিক সড়কে মিছিল শেষে ঢাকার দিকে ফেরার পথে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের দুই কর্মীকে পিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন নগরকান্দা উপজেলা বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা। আজ মঙ্গলবার বেলা আড়াইটার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ইউনিয়নের ঝাটুরদিয়া বাসস্ট্যান্ডে এ ঘটনা ঘটে।
আটক হওয়া আওয়ামী লীগের দুই কর্মী হলেন মুন্সিগঞ্জের বাবু হোসেন (৫৫) ও শরীয়তপুরের মো. আলাউদ্দিন মিয়া (৩৪)। ফরিদপুরের নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রসুল সামদানী (আজাদ) বলেন, বিএনপি নেতাদের কাছ থেকে পুলিশ ওই দুই আওয়ামী লীগ কর্মীকে আটক করেছে। প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা স্বীকার করেছেন মুন্সিগঞ্জ ও শরীয়তপুর থেকে ভাঙ্গায় মিছিল করতে এসেছিলেন এবং তাঁদেরকে টাকা দিয়ে এখানে আনা হয়েছে। তবে তাঁদের সঙ্গে কত টাকা চুক্তি হয়েছে এবং কোন নেতা এনেছেন, এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো জানা যায়নি। যেহেতু ঘটনাস্থল ভাঙ্গার মধ্যে পড়েছে, তাই আটক দুজনকে অতি দ্রুত ভাঙ্গা থানা–পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে। ওই থানাই বিষয়টি খতিয়ে দেখবে।
একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, আজ বেলা দুইটার দিকে ঝাটুরদিয়া বাসস্ট্যান্ড–হরিরহাট বাজার আঞ্চলিক সড়কের ভাঙ্গার আলগী ইউনিয়নের আড়ুয়াকান্দি গ্রামের নিপেনের ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে একটি মিছিল বের করা হয়। ওই মিছিলে দলটির ৩০ থেকে ৩৫ জন কর্মী ছিলেন। মিছিলটি নিপেনের ব্রিজ থেকে ঝাটুরদিয়া বাসস্ট্যান্ডের দিকে আসছিল। শেষ হয় ঝাটুরদিয়া বাসস্ট্যান্ডের কাছে।
ওই বাসস্ট্যান্ডের কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, আজ সকাল থেকেই ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের সোয়াদী, ঝাটুরদিয়া, কালিয়ারমোড় ও জয় বাংলা এলাকা দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পাহারা দেয়। পাশাপাশি ঝাটুরদিয়া বাসস্ট্যান্ড জায়গাটি নগরকান্দা ও সালথা উপজেলার সীমান্তবর্তী হওয়ায় সেখানে নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির ও ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরাও মোটরসাইকেলে মহড়া দিচ্ছিলেন। বিএনপি ও ছাত্রদলের মহড়ায় অংশ নেওয়া কিছু নেতা–কর্মী ঝাটুকদিয়া বাজারে বাসস্ট্যান্ডে অবস্থান করছিলেন। তাঁদের নেতৃত্ব দেন ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান (শরীফ)। মিছিল শেষ করে মুন্সিগঞ্জ ও শরীয়তপুর আওয়ামী লীগের ওই দুই কর্মী ঝাটুরদিয়া বাসস্ট্যান্ডে এলে তাঁদের আটক করেন বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা–কর্মীরা।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজনের বরাতে জানা যায়, আওয়ামী লীগ কর্মী বাবু হোসেন ও আলাউদ্দিন মিয়াকে আটকের সময় তাঁদের ঘিরে রাখেন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতা–কর্মীরা। তাঁদের পিটুনিও দেওয়া হয়। কেউ তাঁদের শার্ট টেনে ধরেন, কেউ চড়থাপ্পড় মারতে থাকেন। একপর্যায়ে বিএনপির লোকজন ওই দুজনকে ধরে নিয়ে পুলিশের ভ্যানে তুলে দেন এবং পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।
এ বিষয়ে নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত আলী (শরীফ) বলেন, ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও অপতৎপরতা রুখে দিতে নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির নেতা–কর্মীদের নিয়ে গতকাল সন্ধ্যা থেকেই আমরা মাঠে রয়েছি। নগরকান্দার সীমান্তবর্তী দুটি মহাসড়কে আমরা মিছিল করেছি। আজ দুপুরে আওয়ামী লীগের দুই কর্মী মিছিল করে ফেরার পথে আমাদের হাতে ধরা খায়। এ জন্য তাদেরকে পুলিশের হাতে আমরা তুলে দিয়েছি। তুলে দেওয়ার সময় তাদেরকে দু–একটি চড়থাপ্পড় দেওয়া হয়েছে।’






