ভোলার লালমোহন উপজেলায় পুরোনো লোহার সেতু ভেঙে বালুভর্তি একটি ট্রাক খালে পড়েছে। এতে ট্রাকচালক নিহত ও তাঁর সহকারী আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় সেতুটি ধসে পড়ায় দুই গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের চলাচলের একমাত্র সহজ যোগাযোগব্যবস্থাও বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
আজ মঙ্গলবার বেলা সোয়া একটার দিকে উপজেলার রমাগঞ্জ ইউনিয়নের চর উমেদ গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ট্রাকচালক নাঈম (২৫) উপজেলার ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. ফরিদের ছেলে। অন্যদিকে আহত কিশোর আলামিন (১৪) একই এলাকার বাসিন্দা।
স্থানীয় বাসিন্দা, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চর উমেদ গ্রাম ও পাশের ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের চর মোল্লাজি গ্রামের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের জন্য বহু বছর আগে একটি লোহার সেতু নির্মাণ করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে ওই সেতু দিয়েই দুই গ্রামের মানুষ যাতায়াত করে আসছিলেন।
আজ দুপুরে বালুভর্তি একটি ট্রাক সেতু পার হয়ে চর মোল্লাজি গ্রামের দিকে যাচ্ছিল। ট্রাকটি সেতুর মাঝামাঝি পৌঁছালে বিকট শব্দে পুরোনো সেতুটি ভেঙে নিচের খালে পড়ে যায়। এতে চালক নাঈম ও সহকারী আলামিন গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন খাল থেকে ওই দুজনকে উদ্ধার করে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক নাঈমকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে আলামিনের অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোলা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ না নেওয়ায় এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে। তাঁদের ভাষ্য, দুর্বল সেতু দিয়ে ভারী বালুভর্তি ট্রাক চলাচল করায় ঝুঁকি আরও বেড়েছিল।
সেতুটি ভেঙে পড়ায় দুই গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। এখন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষকসহ সাধারণ মানুষকে বিকল্প পথে ঘুরে চলাচল করতে হবে। দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণ বা যোগাযোগ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
লালমোহন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নুর আমিন বলেন, গুরুতর আহত অবস্থায় ট্রাকচালককে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত হেলপার চিকিৎসাধীন আছেন।
ভোলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ এমদাদুল হক বলেন, এটি পুরোনো লোহার সেতু। অতিরিক্ত বোঝাই নিয়ে মালবাহী ট্রাক চলাচলের সময় সেতুটি ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে তাঁদের নিজস্বভাবে সমাধানের সুযোগ নেই। উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রকৌশলীর মাধ্যমে দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।






