নাটোর পৌরসভার আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সকে ‘ভোটের গাড়ি’ বানিয়ে ব্যবহার শুরু করেছিল পৌর কর্তৃপক্ষ। পরে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে দুই ঘণ্টা পর অ্যাম্বুলেন্সটি আবার গ্যারেজে ফিরিয়ে আনা হয়। গতকাল সোমবার নাটোরে এ ঘটনা ঘটে।
নাটোর পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের শুরুতে বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে নাটোর পৌরসভা, আধুনিক সদর হাসপাতাল ও সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি করে আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স উপহার দেয় ভারত সরকার।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত চার বছরে খুব কম মানুষই অ্যাম্বুলেন্সটির সেবা পেয়েছেন। কারণ, পৌর কর্তৃপক্ষ অ্যাম্বুলেন্সের যে ভাড়া (নাটোর থেকে রাজশাহী ২ হাজার ২০০ টাকা) নির্ধারণ করেছে, তাতে সেবাগ্রহীতারা আগ্রহ দেখাননি। এর চেয়ে কম ভাড়ায় অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া যায়। এ ছাড়া আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স পরিচালনার জন্য যে ধরনের দক্ষ জনবল দরকার, তা নিয়োগ দেওয়া হয়নি। এতে বেশির ভাগ সময় অব্যবহৃত অবস্থায় পৌরসভার গ্যারেজে পড়ে থাকে অ্যাম্বুলেন্সটি।
নাটোর পৌরসভার কর আদায়কারী জুলফিকুল হায়দার মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘অ্যাম্বুলেন্স থেকে রাজস্ব আদায় তো হয়ই না, উল্টো অ্যাম্বুলেন্সটি সচল রাখতে মাঝেমধ্যে পৌরসভার অর্থ ব্যয় করতে হয়। জ্বালানি খরচ বেশি হওয়ায় সেবাগ্রহীতারাও ভাড়া নিতে আগ্রহী হন না। ফলে দীর্ঘদিন ধরে অ্যাম্বুলেন্সটি পৌরসভার গ্যারেজে পড়ে ছিল। সম্প্রতি জেলা প্রশাসনের নির্বাচনসংক্রান্ত একটি সভায় পৌরসভাসহ বিভিন্ন দপ্তরকে “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালানোর মৌখিক নির্দেশ দেওয়া হয়। তখন আমরা অ্যাম্বুলেন্সটি সচল রাখতে ভোটের গাড়ি হিসেবে ব্যবহারের চিন্তা করি। সেই মোতাবেক অ্যাম্বুলেন্সটি সাজিয়ে গতকাল দুপুরে শহরের রাস্তায় নামানো হয়। কিন্তু সমালোচনার মুখে সিদ্ধান্ত বদলে অ্যাম্বুলেন্সটি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া হয়।’
পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুর রহমান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, অ্যাম্বুলেন্সকে ভোটের গাড়ি বানানোর ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত পৌর প্রশাসক কোনো সিদ্ধান্ত দেননি। কার সিদ্ধান্তে ভোটের গাড়ি করা হলো—তিনি উত্তর দিতে রাজি হননি। তিনি বলেন, মাত্র দুই ঘণ্টা অ্যাম্বুলেন্সটি ভোটের গাড়ি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। সমালোচনা শুরু হলে তাৎক্ষণিক গাড়িটি গ্যারেজে ফিরিয়ে আনা হয়।






