চাকরি পুনর্বহাল, পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনসহ ১০ দফা দাবিতে চট্টগ্রামে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন দেশের পাঁচটি ব্যাংকের চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। আজ সোমবার সকালে নগরের কোতোয়ালি এলাকায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আঞ্চলিক কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা। কর্মসূচি শেষে তাঁদের প্রতিনিধিদল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর বরাবর স্মারকলিপি দেয়।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পটপরিবর্তনের পর একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠীর প্রভাবে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকে ব্যাপক হারে ছাঁটাই ও প্রশাসনিক হয়রানি করা হয়েছে। সম্প্রতি ব্যাংকিং খাতে অস্বাভাবিক হারে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরিচ্যুত করা হচ্ছে। এতে বহু পরিবার আর্থিক অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া এই অবস্থান কর্মসূচি থেকে আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ১০টি দাবি উত্থাপন করেন। এ সময় তাঁরা প্ল্যাকার্ড হাতে সেখানে অবস্থান নেন এবং নানা স্লোগান দিতে থাকেন। এর আগে সকাল সাড়ে নয়টা থেকে নগরের নিউমার্কেট মোড়ে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা।

তাঁদের দাবির মধ্যে রয়েছে চাকরিচ্যুত সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে তাঁদের পূর্বের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধাসহ অবিলম্বে চাকরিতে পুনর্বহাল করা; দক্ষ, অভিজ্ঞ ও পেশাদার ব্যক্তিদের সমন্বয়ে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা পুনর্গঠন এবং ব্যাংকিং খাতে করপোরেট সুশাসন নিশ্চিত করা।

এ ছাড়া ব্যাংকের সব পর্যায়ে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ, প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ, গ্রাহকদের মধ্যে কৃত্রিম সংকট ও আতঙ্ক সৃষ্টিকারী কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে শাস্তি দেওয়া এবং ৫ আগস্টের পর ব্যাংকিং খাতে সংঘটিত অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তাঁরা।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া চাকরিচ্যুত ব্যাংক কর্মকর্তা আবদুর রহিম বলেন, ‘অন্যায়ভাবে আমাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ দেখানো ছাড়াই চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। আমরা আমাদের চাকরি, বেতন-ভাতা ও অন্যান্য প্রাপ্য সুবিধাসহ দ্রুত পুনর্বহালের দাবি জানাচ্ছি। এ দাবিতে আমরা ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে সভা-সমাবেশ ও কর্মসূচি পালন করেছি।’

চাকরিচ্যুত ব্যাংক কর্মকর্তা সাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা চাকরিচ্যুত কর্মীরা এখানে সমবেত হয়েছি। ৫ আগস্টের পর উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে আমাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। আমরা প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হারানো চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদন জানাচ্ছি।’

জানতে চাইলে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু জায়েদ মো. নাজমুন নূর মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে চলে গেছেন। পরিস্থিত বিবেচনায় সেখানে পুলিশের একটি দল ছিল। মানববন্ধনের কারণে যান চলাচলে তেমন সমস্যা হয়নি।’