গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় এপেক্স হোল্ডিংস লিমিটেডের অধীন চারটি কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। শ্রমিকদের সার্ভিস বেনিফিট–সংক্রান্ত দাবিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি এপেক্স হোল্ডিংস লিমিটেডের প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগ থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, এপেক্স স্পিনিং অ্যান্ড নিটিং মিলস লিমিটেড, এপেক্স টেক্সটাইল প্রিন্টিং মিলস লিমিটেড, এপেক্স লন্ড্রি মিলস লিমিটেড ও এপেক্স ইয়ার্ন ডাইং লিমিটেড—এই চারটি কারখানার শ্রমিকদের একটি অংশ ১০ বছর চাকরি সম্পন্নকারীদের জন্য ১৫ মাসের এবং ৫ বছর চাকরি সম্পন্নকারীদের জন্য ৭ মাসের মূল মজুরি সার্ভিস বেনিফিট হিসেবে দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিল।

এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ১৫ জুন কারখানার নিটিং ফ্লোরে শ্রমিক প্রতিনিধি, কারখানা কর্তৃপক্ষ, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডিআইএফই) এবং বিজিএমইএর প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ডিআইএফই জানায়, বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী সার্ভিস বেনিফিট পরিশোধ করতে হবে।

এরপর ২০ জুন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেয়, বর্তমানে প্রচলিত সার্ভিস বেনিফিট সুবিধা আগের মতোই বহাল থাকবে। তবে শ্রমিকদের দাবি করা অতিরিক্ত সার্ভিস বেনিফিট দেওয়া প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব নয়। একই সঙ্গে শ্রম আইন মেনে স্বাভাবিক উৎপাদন কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার জন্য শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

তবে বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়, গতকাল শ্রমিকদের একটি অংশ আইনবহির্ভূত দাবি আদায়ের উদ্দেশ্যে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করে কারখানায় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। এ অবস্থায় বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ১৩(১) ধারা অনুযায়ী চারটি কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ২২ জুন থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কারখানাগুলোর সব কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কারখানা আবার চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন বলেন, শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে আলোচনা করেও সমঝোতায় পৌঁছানো যায়নি। এ কারণে কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ১৩(১) ধারা অনুযায়ী কারখানা বন্ধ ঘোষণা করেছে। তবে কারখানা এলাকায় কোনো বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি।