কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কেন্দ্র করে সেনা মোতায়েনের জন্য চিঠি দিয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়। আজ সোমবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক শাখা–২ থেকে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারকে চিঠিটি দেওয়া হয়।

চিঠিতে বলা হয়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত বিভিন্ন সংগঠন দেশের বিভিন্ন স্থানে বেআইনি মিছিল, শো–ডাউন ও অন্যান্য কর্মসূচি করছে। এর মাধ্যমে নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এতে দেশের বিভিন্ন জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার পাশাপাশি জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

চিঠিতে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও গাজীপুর মহানগর, নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুর জেলায় শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জনগণের জানমালের সুরক্ষায় নয় দিনের জন্য প্রয়োজনীয়সংখ্যক সেনা মোতায়েনের জন্য অনুরোধ করা হয়।

২২ থেকে ৩০ জুন ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ হিসেবে সেনাসদস্যরা কাজ করবেন বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

২৩ জুন মঙ্গলবার আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, দিনটি সামনে রেখে দলটি মিছিল, শো–ডাউন ও অন্যান্য কর্মসূচি পালন করতে পারে, যা বেআইনি।

সাম্প্রতিককালে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতা–কর্মীরা ঝটিকা মিছিল করেছে। গত রোববার গাজীপুরে যুবলীগের নেতা-কর্মীদের মিছিল থেকে পুলিশকে উদ্দেশ করে শোনা যায়, ‘ওই, একটাও সামনে আসবি না। একটাও সামনে আসবি না। মাইরা ফালামু, মাইরা ফালামু। একটাও সামনে আসবি না।’

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পতন হয় আওয়ামী লীগ সরকারের। ২০২৫ সালের ১০ মে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগ ও তার নেতাদের বিচার কার্যসম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দলটির যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত হয়।

২০২৫ সালের ১১ মে অন্তবর্তী সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইন সংশোধন করে কোনো কোনো সংগঠনের যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিধান যুক্ত করে। এর ভিত্তিতেই আওয়ামী লীগের যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়।

বিএনপি সরকারের আমলে গত ৮ এপ্রিল জাতীয় সংসদে সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত কোনো সংগঠনের যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিধান যুক্ত করে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ অনুমোদন পায়। ফলে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধই থাকে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, আওয়ামী লীগের তৎপরতা ঠেকাতে সরকার সতর্ক। এ কারণেই সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

যেসব মহানগর ও জেলায় সেনা মোতায়েন হবে, তেমন একটি জেলার একজন জেলা প্রশাসক মুক্তকণ্ঠকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, তিনি চিঠি পেয়েছেন।

এদিকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানী ঢাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

ডিএমপির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বিভিন্ন কর্মসূচি কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং নগরের নিরাপত্তা বজায় রাখতে পুরো ঢাকাকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

বিশেষ এই দিনটি উপলক্ষে রাজধানী জুড়ে ২০০টিরও বেশি কৌশলগত স্থানে পুলিশের বিশেষ তল্লাশিচৌকি বসানো হবে। একই সঙ্গে ঢাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মহানগরের সবকটি প্রবেশপথে কড়া চেকপোস্ট ও তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার থাকবে। যাতে কোনো বহিরাগত বা সন্দেহভাজন ব্যক্তি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে।

নিয়মিত পুলিশের পাশাপাশি মাঠে সক্রিয় থাকবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিএমপির ১৮ হাজারেরও বেশি অফিসার ও ফোর্স দায়িত্বপালন করবে।