সিলেটে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফল ছয় সন্তানের বাবা–মায়েদের সম্মাননা জানিয়েছে এনজেএল হাসপাতাল ও এনজেএল ফাউন্ডেশন। গতকাল রোববার বিকেলে নগরের দরগাগেট এলাকার কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের শহীদ সোলেমান হলে ষষ্ঠবারের মতো এ আয়োজন করে প্রতিষ্ঠান দুটি।
সম্মাননা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী। এনজেএল হাসপাতাল ও ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান নূরুল হুদা নাঈমের সভাপতিত্বে এবং এলোহা অটিজম ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের পরামর্শক রিফাত আরা রিফার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।
আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘বর্তমান যান্ত্রিক যুগে আমরা অনেকেই মা-বাবার অবদানের কথা ভুলে যাই। কিন্তু পরিবারের মূল ভিত্তিই হলেন মা-বাবা। নতুন প্রজন্মের উচিত ক্যারিয়ার গড়ার পাশাপাশি মা-বাবার প্রতি দায়িত্বশীল হওয়া। সমাজ থেকে বৃদ্ধাশ্রম কালচার দূর হওয়া উচিত।’
বাবা-মায়েদের সম্মানিত করার এই উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক বার্তা দেবে বলেও আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘পিতা-মাতার ত্যাগ ও অবদানের কারণেই আমরা সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে পারি। তাঁদের সম্মান জানানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি মানবিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই এনজেএল ফাউন্ডেশন মা-বাবা সম্মাননার যে পুণ্যময় আয়োজন করেছে, তা প্রশংসার।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন অছুল আহমদ চৌধুরী, মুকতাবিস উন নূর, এম আতাউর রহমান পীর ও সেলিম আউয়াল। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন এনজেএল ফাউন্ডেশনের সদস্যসচিব রেজাউল করিম তালুকদার এবং সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির যুগ্ম সম্পাদক-১ আবদুল মুকিত অপি। সম্মাননা পাওয়া বাবা-মায়েদের পক্ষে বক্তব্য দেন সৈয়দ মতিউর রহমান ও সন্ধ্যা রানী পাল।
আয়োজকেরা জানান, এবার সফল ছয় সন্তানের বাবা-মায়েদের সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। তাঁরা হলেন দেবল সরকারের বাবা রসরাজ সরকার ও মা মালতী রানী সরকার, এম এম আওয়াল চৌধুরীর বাবা মরহুম মো. আবদুল মুছাত্তয়ীর চৌধুরী ও মা রহিমা বেগম, সাইয়েদা তাসনিম চৌধুরীর বাবা সৈয়দ মতিউর রহমান ও মা মোছা. মাজেদা বেগম, শেখ মোহাম্মদ সুজাদুল হকের বাবা মরহুম শেখ মো. আতীব আলী ও মা মাজেদা আক্তার, ঝুমা রানী পালের বাবা প্রয়াত মিন্টু পাল ও মা সন্ধ্যা রানী পাল এবং আবদুল হাফিজ শাফির বাবা মো. আবদুর রকিব জাহাঙ্গীর ও মা মনোয়ারা বেগম। সম্মাননা পাওয়া বাবা-মায়েদের মধ্যে তিনজন প্রয়াত। অন্যরা সশরীর সম্মাননা গ্রহণ করেন।
যোগাযোগ করলে এনজেএল হাসপাতাল ও ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান নূরুল হুদা নাঈম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ২০১১ সাল থেকে বাবা-মায়েদের সম্মাননা দেওয়ার আয়োজন করা হচ্ছে। করোনা পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন কারণে প্রতিবছর আয়োজনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব হয়নি। এবার ষষ্ঠবারের মতো এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হলো। এবার ছয় পরিবারের ১২ জন বাবা-মায়েদের সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। তবে অন্য বছরগুলোয় ১০ পরিবারের ২০ জন করে বাবা-মায়েদের সম্মানিত করা হয়। গত ছয় বছরে মোট ১১২ জন গর্বিত বাবা-মায়েদের সম্মাননা জানানো হয়েছে। প্রতিবছরের মতো এবারও সম্মাননা পাওয়া বাবা-মায়েদের হাতে ক্রেস্ট, সনদ ও উপহারসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ আয়োজন অব্যাহত থাকবে।






