প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ সোমবার সকালে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে পুত্রজায়ায় আনুষ্ঠানিক বৈঠকে অংশ নেবেন। দুই দেশের সম্পর্ক জোরদারে শ্রমবাজারের পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি সহযোগিতা, হালাল অর্থনীতি, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প এবং কৃষি, শিক্ষা ও জনযোগাযোগের মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনে জয়ের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার চার মাস পর তারেক রহমান প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে বিদেশে গেলেন।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে তিনি গতকাল স্থানীয় সময় রাত পৌনে নয়টায় কুয়ালালামপুরে পৌঁছান।
বাসস জানায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে লালগালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান মালয়েশিয়ার ধর্মমন্ত্রী জুলকিফলি হাসান এবং তাঁর সহধর্মিণী। লালগালিচা সংবর্ধনার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।
এরপর বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষ মোটর শোভাযাত্রাসহকারে কুয়ালালামপুরের ‘শাংগ্রি লা’ হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়; সফরে প্রধানমন্ত্রী, তাঁর সহধর্মিণী ও সফরসঙ্গীরা এই হোটেলে থাকবেন।
.আজ মালয়েশিয়ার রাজধানী পুত্রজায়ায় ব্যস্ত সময় কাটাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আনুষ্ঠানিক বৈঠকের পর তিনি তাঁর সম্মানে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের দেওয়া রাষ্ট্রীয় ভোজসভায় অংশ নেবেন। এরপর তিনি সাক্ষাৎ করবেন মালয়েশিয়ার রাজা সুলতান ইব্রাহিম সুলতান ইস্কান্দরের সঙ্গে।.
দুই দিনের সফরের দ্বিতীয় দিনে আজ তারেক রহমান আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে প্রথমে একান্তে ও পরে প্রতিনিধি পর্যায়ে বৈঠকে বসবেন। বৈঠক শেষে দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সমঝোতা স্মারকসহ বেশ কয়েকটি দলিল সইয়ের কথা রয়েছে। এরপর দুই প্রধানমন্ত্রী যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেবেন।
আজ মালয়েশিয়ার রাজধানী পুত্রজায়ায় ব্যস্ত সময় কাটাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আনুষ্ঠানিক বৈঠকের পর তিনি তাঁর সম্মানে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের দেওয়া রাষ্ট্রীয় ভোজসভায় অংশ নেবেন। এরপর তিনি সাক্ষাৎ করবেন মালয়েশিয়ার রাজা সুলতান ইব্রাহিম সুলতান ইস্কান্দরের সঙ্গে।
.প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মালয়েশিয়া সফরে গেছেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। সফরসঙ্গীদের মধ্যে আরও আছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।
.প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফরে কী হবে জানালেন পররাষ্ট্রসচিব, সই হতে পারে ১৫–১৭ স্মারক.আজ বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পাঁচ দিনের সফরে চীনের উদ্দেশে কুয়ালালামপুর ছেড়ে যাবেন।
.আঞ্চলিক ভূরাজনীতি এবং ভারত-চীন প্রতিযোগিতার বাস্তবতায় প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফরের গন্তব্য নির্ধারণে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করেছে সরকার। সে কারণে দিল্লি বা বেইজিংয়ের পরিবর্তে তৃতীয় একটি দেশকে বেছে নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।.
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত, মালয়েশিয়া ও চীন—তিন দেশই আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। একপর্যায়ে প্রথম সফর চীনে হবে, এমন আভাসও ছিল। তবে সূত্রগুলো বলছে, আঞ্চলিক ভূরাজনীতি এবং ভারত-চীন প্রতিযোগিতার বাস্তবতায় প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফরের গন্তব্য নির্ধারণে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করেছে সরকার। সে কারণে দিল্লি বা বেইজিংয়ের পরিবর্তে তৃতীয় একটি দেশকে বেছে নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
কূটনীতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরের গন্তব্য শুধু প্রটোকলের বিষয় নয়; এটি নতুন সরকারের পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকারেরও একটি প্রতীকী বার্তা। সেই বিবেচনায় ভারত বা চীনের পরিবর্তে মালয়েশিয়াকে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তকে আঞ্চলিক প্রতিযোগিতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা যেতে পারে।
চীন কিংবা ভারতের পরিবর্তে মালয়েশিয়াকে প্রথম সফরের জন্য বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্কের ঐতিহাসিক ধারা, দ্বিপক্ষীয় যুক্ততা এবং আসিয়ানে মালয়েশিয়ার প্রভাব—এ বিষয়গুলো সরকার বিবেচনায় নিয়েছে।
ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের (বিআইপিএসএস) প্রেসিডেন্ট মেজর জেনারেল (অব.) আ ন ম মুনীরুজ্জামানের মতে, সামগ্রিক কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিলে প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়াকে বেছে নেওয়া ইতিবাচক। দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুরাষ্ট্র মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য, অর্থনীতিসহ নানা ক্ষেত্রে সহযোগিতা উত্তরোত্তর বাড়ছে। বাংলাদেশের কর্মীদের জন্য মুসলিম দেশটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য।
.চীন কিংবা ভারতের পরিবর্তে মালয়েশিয়াকে প্রথম সফরের জন্য বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্কের ঐতিহাসিক ধারা, দ্বিপক্ষীয় যুক্ততা এবং আসিয়ানে মালয়েশিয়ার প্রভাব—এ বিষয়গুলো সরকার বিবেচনায় নিয়েছে।.
বিশ্বের অন্যান্য অনেক দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ককে অধিকাংশ ক্ষেত্রে বড় পরিসরে না দেখে এক বা একাধিক ইস্যুর প্রেক্ষাপট থেকে বিবেচনা করা হয়। ফলে দুই দেশের সম্পর্কের বিস্তৃতি ও সম্ভাবনা অনেক সময় আড়ালে চলে যায়। যেমন মালয়েশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি আলোচনায় এলে বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানো কিংবা শ্রমবাজারের ইস্যুতে সবার মনোযোগ থাকে।
.এক দশক ধরে বিদেশে বাংলাদেশের নতুন কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে সৌদি আরবের পর দ্বিতীয় প্রধান গন্তব্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে মালয়েশিয়া।
.দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার নতুন শিল্পনীতির কারণে দেশটিতে কর্মী নিয়োগের চিরাচরিত ধরন পাল্টে যাচ্ছে। বাংলাদেশ যে ধরনের কর্মী পাঠায়, সেই বাজার সংকুচিত হচ্ছে। ফলে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ ও আধা দক্ষ কর্মী নিয়োগের বিষয়ে আমরা যোগাযোগ শুরু করেছি। বিশেষ করে বাংলাদেশের কর্মীদের সুরক্ষা এবং কল্যাণের বিষয়ে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরী
মালয়েশিয়ায় অতীতে এবং এখন বিশেষায়িত কাজ করছেন, এমন বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার দেশ মালয়েশিয়ায় বৈধ ও অবৈধ মিলিয়ে প্রায় ১০ লাখ বাংলাদেশি কর্মী কাজ করছেন। দেশটি শিল্পায়নের নতুন পরিকল্পনা নিউ ইন্ডাস্ট্রিয়াল মাস্টারপ্ল্যান বা এনআইএমপি ২০৩০ ঘোষণা করেছে। ওই উন্নয়ন পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হচ্ছে উন্নত প্রযুক্তির শিল্প উৎপাদন। এতে টেকসই পরিবেশ নিশ্চিতের পাশাপাশি বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার বিষয়ে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে অর্থনৈতিক বিকাশের কথা বলা হচ্ছে।
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরী মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার নতুন শিল্পনীতির কারণে দেশটিতে কর্মী নিয়োগের চিরাচরিত ধরন পাল্টে যাচ্ছে। বাংলাদেশ যে ধরনের কর্মী পাঠায়, সেই বাজার সংকুচিত হচ্ছে। ফলে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ ও আধা দক্ষ কর্মী নিয়োগের বিষয়ে আমরা যোগাযোগ শুরু করেছি। বিশেষ করে বাংলাদেশের কর্মীদের সুরক্ষা এবং কল্যাণের বিষয়ে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’
.জানা গেছে, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীদের আলোচনায় বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানো, বৈধ নিয়োগ, কর্মীদের অধিকার এবং নতুন সুযোগ তৈরি—এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে।
ঢাকা ও কুয়ালালামপুরের সূত্রগুলো জানিয়েছে, কর্মী নিয়োগ আর ব্যবসা–বাণিজ্যের পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষা খাতে সহযোগিতার বিষয়ে মালয়েশিয়া বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
বাংলাদেশের একাধিক কূটনীতিক এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম শিক্ষা খাতে দুই দেশের সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন। এই মুহূর্তে বাংলাদেশের অন্তত ১১ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন মালয়েশিয়ায়। দেশটিতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাংলাদেশিদের সংখ্যা দ্বিতীয়। সেখানে এখন চীনের শিক্ষার্থী প্রায় ৬২ হাজার।
শিক্ষা খাতে সহযোগিতার ক্ষেত্রে দুই দেশের সরকারি–বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষার্থী বিনিময়, যৌথ গবেষণা এবং মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় বিনিয়োগের বিষয়গুলো নিয়ে দুই দেশ আলোচনা করছে।
.বাংলাদেশের একাধিক কূটনীতিক এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম শিক্ষা খাতে দুই দেশের সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন। এই মুহূর্তে বাংলাদেশের অন্তত ১১ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন মালয়েশিয়ায়। দেশটিতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাংলাদেশিদের সংখ্যা দ্বিতীয়। সেখানে এখন চীনের শিক্ষার্থী প্রায় ৬২ হাজার।.
মালয়েশিয়া বাংলাদেশের কাছে শুধু শ্রমবাজার নয়। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ অংশীদারও। ব্যবসা–বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বিনিয়োগে দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়া গুরুত্বপূর্ণ। রবি আজিয়াটার মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাতে বিনিয়োগ করে আসছে মালয়েশিয়া। ফলে শিক্ষা খাতের পাশাপাশি ডিজিটাল অবকাঠামো, শিল্প ও প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতার সুযোগও রয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে বন্দরে বিনিয়োগ, বিমানবন্দরের সক্ষমতার বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি উৎপাদনে বিনিয়োগের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে মালয়েশিয়ার শীর্ষ তিন প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের আলোচনার কথা রয়েছে। আজ দুপুরে কুয়ালালামপুরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁদের পৃথকভাবে দেখা করার কথা রয়েছে। তাঁদের মধ্যে আছেন মালয়েশিয়ার বন্দর ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান এমএমসি পোর্টসের চেয়ারম্যান তাজু্উদ্দিন আতান, উড়োজাহাজ পরিচালনা প্রতিষ্ঠান এয়ার এশিয়ার চেয়ারম্যান জামালউদ্দিন ইব্রাহিম ও রাষ্ট্রায়ত্ত তেল ও গ্যাস উৎপাদনকারী সংস্থা পেট্রোনাস গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ বাকী সালেহ।
.ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এম নিয়াজ আসাদুল্লাহ এক দশকের বেশি সময় ধরে (২০১৩-২৪) মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি অব মালয়া ও মোনাশ ইউনিভার্সিটিতে অধ্যাপনা করেছেন। তাঁর মতে, দুই দেশের সম্পর্ককে শুধু প্রবাসী শ্রমের কাঠামোয় না দেখে ‘দক্ষতা, শিক্ষা ও প্রযুক্তিনির্ভর অংশীদারত্বের’ প্রেক্ষাপটে দেখা প্রয়োজন।.
বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সম্পর্কের শুরু ১৯৭২ সাল থেকে। দুই দেশের অগ্রাধিকার এবং অভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বিষয়ের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে কিছু মিল আছে। যেমন রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে মালয়েশিয়া দীর্ঘদিন ধরেই যুক্ত আছে। সংখ্যায় বাংলাদেশের তুলনায় কম হলেও দেশটিতে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের উপস্থিতি আছে। তাই এ সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই সহযোগী হিসেবে কাজ করছে মালয়েশিয়া।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ বেশ কিছুদিন ধরেই দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সহযোগিতা সংস্থা আসিয়ানে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছে। বিশেষ করে আসিয়ানের সংলাপ অংশীদার এবং বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক চুক্তি আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে (আরসেপ) যুক্ত হতে চাইছে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রীর সফরে আসিয়ানে এবং আরসেপে বাংলাদেশে যুক্ততার বিষয়ে মালয়েশিয়ার সক্রিয় সহযোগিতা চাওয়া হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এম নিয়াজ আসাদুল্লাহ এক দশকের বেশি সময় ধরে (২০১৩-২৪) মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি অব মালয়া ও মোনাশ ইউনিভার্সিটিতে অধ্যাপনা করেছেন। তাঁর মতে, দুই দেশের সম্পর্ককে শুধু প্রবাসী শ্রমের কাঠামোয় না দেখে ‘দক্ষতা, শিক্ষা ও প্রযুক্তিনির্ভর অংশীদারত্বের’ প্রেক্ষাপটে দেখা প্রয়োজন।
এম নিয়াজ আসাদুল্লাহ মুক্তকণ্ঠকে বলেন, উচ্চশিক্ষা, দক্ষ জনশক্তি, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মালয়েশিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হতে পারে বাংলাদেশ। মালয়েশিয়া যদি উচ্চ আয়ের দেশে রূপান্তরের লক্ষ্য পূরণ করতে চায়, তাহলে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ প্রকৌশলী, প্রযুক্তিবিদ ও গবেষকদের সম্পৃক্ত করার সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে সেমিকন্ডাক্টর ও ইলেকট্রনিকস শিল্প এবং উৎপাদন খাতে দুই দেশের সহযোগিতা নতুন মাত্রা পেতে পারে।






