আন্তসীমান্ত নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে বিদ্যমান পানিবণ্টন চুক্তি ও সমঝোতাগুলো সরকার পর্যালোচনা করছে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী। তিনি বলেছেন, এ লক্ষ্যেই নতুন চুক্তি সম্পাদন, যৌথ নদী কমিশনকে (জেআরসি) শক্তিশালী করা এবং ভারত, নেপাল, ভুটান ও চীনের সমন্বয়ে অববাহিকাভিত্তিক সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে কাজ চলছে।
আজ রোববার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-৯ আসনের সরকারি দলের সংসদ সদস্য আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে পানিসম্পদমন্ত্রী এ কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়।
পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, আন্তসীমান্ত নদীগুলোর ন্যায্য হিস্যা আদায়ে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর এবং বিষয়টি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
উজানের দেশগুলোয় আন্তসীমান্ত নদীর ওপর বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের কারণে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশের পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী বলেন, উজানের দেশগুলোয় আন্তসীমান্ত নদীর ওপর অবকাঠামো নির্মাণের ফলে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশের পানিপ্রবাহ হ্রাস পাওয়ার বিষয়টি অসত্য নয়। এ ছাড়া প্রাকৃতিক ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উজানে পানির লভ্যতা হ্রাস পাচ্ছে।
সংসদ সদস্য আবুল কালামের অপর এক প্রশ্নের জবাবে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় চলমান প্রকল্পের মাধ্যমে জুন পর্যন্ত পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ৩৬৬ কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখনন করবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ–৩ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নুরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, জাতীয় স্বার্থ এবং দেশের পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, কৃষি, মৎস্য, পরিবেশ ও আঞ্চলিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বাস্তবায়নযোগ্য। তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও স্বার্থ সংরক্ষণের পরিপ্রেক্ষিতে প্রকল্পটি সম্পূর্ণভাবে যাচাই-বাছাই করে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার জন্য যথাযথ ব্যবস্থাপনা ও বিশেষজ্ঞ পরামর্শক রাখা হয়েছে।
নওগাঁ-৩ আসনের সরকারি দলের সংসদ সদস্য ফজলে হুদার প্রশ্নের জবাবে পানিসম্পদমন্ত্রী জানান, দেশব্যাপী নদী-নালা, খাল ও জলাধার খনন এবং পুনঃখনন কর্মসূচির আওতায় আগামী পাঁচ বছরে ৯ হাজার ৪৬ কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।






