চট্টগ্রামে চুরির অভিযোগে পিটিয়ে হত্যা করা হয় এক যুবককে। তাঁর নাম মো. জয়নাল (২৭)। আজ রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরের কোতোয়ালি থানার পলোগ্রাউন্ড এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে। নিহত ব্যক্তির পরিবারের অভিযোগ, পিটুনির এক পর্যায়ে তাঁকে বৈদ্যুতিক শকও দেওয়া হয়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রেলওয়ে পাবলিক হাইস্কুলে আজ সকালে এই ঘটনা ঘটে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কক্ষের পেছনে জানালার গ্লাস খুলে গ্রিলের ফাঁক দিয়ে জয়নাল নামের ওই তরুণ কম্পিউটার চুরির চেষ্টা করছিলেন বলে অভিযোগ করেন দারোয়ান আজাদ ও সমীর দাশ। তাঁরা জয়নালকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন বলেও দাবি করেন। এরপরই তাঁকে মারধর করা শুরু হয়। খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশ থেকে লোকজনও জড়ো হয়। মারধরের পর স্কুলের মূল ফটকের সামনে জয়নালকে ফেলে রাখা হয়।
খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে এলে জয়নালের স্বজনেরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। তারা পুলিশের গাড়িতে লাশ তুলতে বাধা দেয়। প্রায় আধা ঘণ্টা পর পুলিশ লাশ নিয়ে যায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
ঘটনাস্থলে আসা নিহত জয়নালের মা ছেনোয়ারা বেগম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘আমার ছেলে দোষ করলে তার বিচার হতো। এভাবে মেরে ফেলতে পারে না। ছেনোয়ারার অভিযোগ তার ছেলেকে মারধরের এক পর্যায়ে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনার বিচার চান তিনি।’
জানতে চাইলে ঘটনাস্থলে আসা কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জায়েদ মো. নাজমুন নুর মুক্তকণ্ঠকে বলেন, স্কুলে চুরি করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়েন এক যুবক। পরে তাঁকে মারধর করা হয়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করতে গেলে তাঁর স্বজনেরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। পরে তাঁদের বুঝিয়ে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জড়িত থাকার সন্দেহে স্কুলের দুই প্রহরী আজাদ ও সমীরকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। এক প্রশ্নের উত্তরে ওসি বলেন, বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হয়েছে কিনা তা ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে।






