দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহের আলোচনা শেষে গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি প্রাথমিক চুক্তিতে সই করেছে। তবে প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই বিভিন্ন পক্ষ থেকে চুক্তিটি তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। ওয়াশিংটনের কট্টরপন্থী ইরানবিরোধীরা একে একটি একপেশে চুক্তি হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে, ইসরায়েলের সব রাজনৈতিক দলই একে একটি ‘বাজে চুক্তি’ হিসেবে গণ্য করছে।
এদিকে ইরানের অভ্যন্তরে এই চুক্তি নিয়ে সংশয় আরও গভীর। গত এক বছরে ইরানের বিরুদ্ধে দুটি মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধ এবং আলোচনার টেবিলে বসার পরও দফায় দফায় হামলা তেহরানের চুক্তির ব্যাপারে তাদের অবিশ্বাসকে আরও উসকে দিয়েছে।
.এই প্রাথমিক চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো আপাতত যুদ্ধ বন্ধ করা এবং একটি স্থায়ী কূটনৈতিক সমাধানের পথ তৈরি করা। চুক্তি অনুযায়ী, লেবাননসহ সব ফ্রন্টে অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে দুই দেশ। একে অপরের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে তারা ৬০ দিনের আলোচনায় বসবে।
ওয়াশিংটন ইরানের ওপর থেকে নৌ অবরোধ তুলে নিতে রাজি হয়েছে, আর তেহরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুদ্ধ–পূর্ববর্তী সময়ের মতো বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে সম্মত হয়েছে।
৪০ দিনের এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলায় ইরানের প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। ইরান সরকারের হিসাব অনুযায়ী, এই যুদ্ধে তাদের ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২৭০ বিলিয়ন ডলার। ওয়াশিংটন এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে নিয়ে অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি ‘পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন তহবিল’ গঠনে সম্মত হয়েছে।
.বিশ্বকে এক ভয়ংকর শিক্ষা দিল ইরান.ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী কার্যকর হবে, যা ওয়াশিংটন ও তেহরানকে পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারণ করতে হবে। এই প্রক্রিয়ার আওতায় জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার গভর্নিং বডি কর্তৃক ইরানের ওপর আরোপিত সব শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও তুলে নেওয়া হবে। অন্যদিকে, ইরান পুনর্ব্যক্ত করেছে যে তারা কেবল বেসামরিক উদ্দেশ্যেই পরমাণু কর্মসূচি চালিয়ে যাবে।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি ধ্বংস এবং সরকার পরিবর্তনের প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এই যুদ্ধ শুরু করলেও প্রাথমিক চুক্তির ভারসাম্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, পাল্লা তেহরানের দিকেই ভারী।
চুক্তিতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধের কোনো শর্ত নেই। ইরান সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ স্থগিত রাখতে আগ্রহ দেখিয়েছে তবে একই সাথে তারা নিজেদের মাটিতে বেসামরিক উদ্দেশ্যে পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণের অধিকারের বিষয়ে নিজেদের দাবিতে অনড় রয়েছে।
এ ছাড়া ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ওপর থেকে প্রাথমিক মার্কিন নিষেধাজ্ঞাগুলো তুলে নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে রাজি হয়েছে। এটি ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তির চেয়েও বড় একটি অগ্রগতি।
.২০১৫ সালে ইরানের পারমাণবিক চুক্তির কালে তীব্র বিরোধিতার সৃষ্টি হলেও এবার ইরানের পুরো ব্যবস্থা এককাট্টা হয়েছে। সব প্রমাণ ইঙ্গিত করছে যে দেশটির নীতিনির্ধারকদের মধ্যে এবার প্রায় সবার ঐকমত্য রয়েছে। বিশেষ করে, সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির মতো প্রভাবশালী নেতাদের হারানোর পর থেকে ইরানের এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া এখন অনেক বেশি যৌথ এবং নিরাপত্তাভিত্তিক হয়ে উঠেছে।.
ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে কেবল বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে এবং সেখানে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে, সামরিক যান চলাচল আপাতত এর বাইরে থাকবে। অন্যদিকে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও আঞ্চলিক সহযোগী গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থনের বিষয়টি এই চুক্তিতে রাখা হয়নি।
এই চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশটি হলো লেবানন প্রসঙ্গ। ইরান সফলভাবে নিজের দেশের সঙ্গে লেবানন ফ্রন্টকে যুক্ত করেছে এবং ওয়াশিংটনের মাধ্যমে ইসরায়েলকে বাধ্য করছে, যাতে তারা হিজবুল্লাহর ওপর হামলা বন্ধ করে।
তবে এ প্রাথমিক চুক্তিটি এতটাই অস্পষ্ট যে বিভিন্ন পক্ষ এর দুই রকম ব্যাখ্যা দাঁড় করাতে পারে। বড় ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো সব আগামী ৬০ দিনের আলোচনার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এমনকি যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধ হওয়াটাও নির্ভর করছে একটি চূড়ান্ত চুক্তির ওপর।
আপাতত এই চুক্তির তাৎক্ষণিক লাভ খুবই সীমিত: সাময়িকভাবে যুদ্ধ থামানো, কূটনীতির সুযোগ তৈরি করা, মার্কিন ছাড়ের আওতায় ইরানের তেল রপ্তানি পুনরায় শুরু করা এবং সাগরে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা।
.২০১৫ সালে ইরানের পারমাণবিক চুক্তির কালে তীব্র বিরোধিতার সৃষ্টি হলেও এবার ইরানের পুরো ব্যবস্থা এককাট্টা হয়েছে। সব প্রমাণ ইঙ্গিত করছে যে দেশটির নীতিনির্ধারকদের মধ্যে এবার প্রায় সবার ঐকমত্য রয়েছে। বিশেষ করে, সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির মতো প্রভাবশালী নেতাদের হারানোর পর থেকে ইরানের এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া এখন অনেক বেশি যৌথ এবং নিরাপত্তাভিত্তিক হয়ে উঠেছে।
গত রবিবার বৈরুতে ইসরায়েলি হামলার পর ইরানের কট্টরপন্থীদের একটি অংশ যখন প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিল, তখন দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে কূটনৈতিক পথকেই সমর্থন করেছেন।
শীর্ষ নেতাদের এই তৎপরতার মূল উদ্দেশ্য ছিল নিজেদের কট্টরপন্থী সমর্থকদের আশ্বস্ত করা। এখানে দুটি বিষয় পরিষ্কার। প্রথমত, ইরানের প্রায় পুরো নেতৃত্ব এই চুক্তি ও আগামী দিনের আলোচনাকে সমর্থন করছে। দ্বিতীয়ত, সমাজ ও এলিট শ্রেণির একটি কট্টরপন্থী অংশ এখনো এর বিরোধিতায় অনড়।
এমনকি চুক্তির সমর্থক ইরানি কর্মকর্তারাও ভেতরে-ভেতরে চরম সন্দিহান। কারণ, এই সমঝোতা হয়েছে গভীর অবিশ্বাসের আবহে। তাঁরা মনে করছেন আমেরিকার কূটনীতি আসলে পরবর্তী হামলার একটি অজুহাত মাত্র। অনেক ইরানি নীতিনির্ধারক তো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যকার আপাত বিরোধকে কোনো কৌশলগত দূরত্ব মনে করেন না বরং একে চাপ সৃষ্টির একটি পরিকল্পিত ‘গুড-কপ, ব্যাড-কপ’ কৌশল হিসেবে দেখেন।
.প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরান যুদ্ধে হেরে গেছেন.ইরান এখন বড় ধরনের অভ্যন্তরীণ চাপের মুখে। যুদ্ধের সময় সরকার তার কট্টরপন্থী সমর্থকদের প্রতিনিয়ত রাস্তায় নামালেও, সাধারণ জনগণের সঙ্গে রাষ্ট্রের দূরত্ব বেড়েছে, বিশেষ করে গত জানুয়ারির বিক্ষোভ দমনের পর এই ফাটল আরও বড় হয়েছে। কট্টরপন্থীরা যেখানে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে, সাধারণ মানুষ সেখানে যুদ্ধ নিয়ে ক্লান্ত এবং শান্তি চায়।
এই সামাজিক চাপ ও ওয়াশিংটনের প্রতি চরম অবিশ্বাসই মূলত ইরানের বর্তমান কৌশল নির্ধারণ করছে। ইরান তার পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস বা পরমাণু সামগ্রী রপ্তানি করতে রাজি নয়। তাদের ভয়, পরমাণু কর্মসূচি না থাকলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আবারও নির্দ্বিধায় হামলা চালাবে।
ইরানের পরমাণু সক্ষমতার এই অস্পষ্টতা মূলত প্রতিপক্ষকে হামলার হাত থেকে বিরত রাখার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছিল। তবে এটি মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলা ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে। তা সত্ত্বেও, যুদ্ধ শেষ করতে এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানাতে এ কৌশলটি তেহরানের হাতে একটি বড় শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। এমন পরিস্থিতিতে ইরানি নীতিনির্ধারকেরা ‘রিভার্সিবল জিরো এনরিচমেন্ট’ নীতি বেছে নিচ্ছেন। এর অর্থ হলো—ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সাময়িক বন্ধ থাকলেও এর গবেষণা ও অবকাঠামো অক্ষত থাকবে।
.একই কৌশল খাটানো হচ্ছে হরমুজ প্রণালির ক্ষেত্রেও। ইরান আগামী ৬০ দিনের জন্য এই জলপথ দিয়ে টোলমুক্ত জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে। তবে এরপর ওমানের সঙ্গে মিলে নতুন একটি পারাপারব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করছে তারা। তেহরানের মূল লক্ষ্য রাজস্ব আয় নয় বরং নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা।
লেবানন নিয়েও তেহরানের একই কৌশল। কেবল আদর্শগত কারণে নয় বরং আবারও যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা থেকেই লেবাননকে এই চুক্তির ভেতরে রাখার ব্যাপারে অনড় অবস্থান নিয়েছে তেহরান।
সামগ্রিকভাবে, ইরান এই চুক্তিকে এমনভাবে দেখছে যে এটি হয়তো ৬০ দিনের বেশি টিকবে না। গত তিন বছরে এ অঞ্চলের অভিজ্ঞতা তেহরানকে এই সতর্ক হতে বাধ্য করেছে।
তবে শেষ পর্যন্ত যে বিষয়টি তেহরানকে এই চুক্তিতে সই করতে বাধ্য করেছে, তা হলো চরম বাধ্যবাধকতা। যুদ্ধে ইতিমধ্যে তাদের প্রায় ২৭০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং মার্কিন নৌ অবরোধের কারণে দেশের মুদ্রাস্ফীতি ৮০ শতাংশ ছাড়িয়েছে। এই অবস্থায় এমন একটি সাময়িক সমঝোতাও তেহরানের জন্য লাভজনক, যা অন্তত তাদের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে কিছুটা স্থিতিশীল করবে, কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করবে এবং সামরিক শক্তি পুনর্গঠনের জন্য কিছুটা সময় দেবে।
.প্রধান তিনটি কারণে যেকোনো সময় এই চুক্তি ভেস্তে যেতে পারে। প্রথম সমস্যাটি হলো লেবানন। ইরান এই চুক্তিতে লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষার শর্ত জুড়ে দিয়েছে। যেকোনো চূড়ান্ত চুক্তির জন্য তারা লেবানন থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের শর্ত দিচ্ছে এবং দিন দিন এই দাবি নিয়ে নিজেদের অবস্থান আরও কঠোর করছে।
এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই চুক্তি মানতে তিনি বাধ্য নন এবং লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহারের কোনো ইচ্ছাও তাঁর নেই।
দ্বিতীয় বড় সংকটটি হলো পারমাণবিক কর্মসূচি এবং ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি, যা প্রযুক্তিগত ও কূটনৈতিক দিক থেকে সবচেয়ে জটিল। সাধারণত এগুলো পুরো প্রক্রিয়াকে ভেস্তে দিতে পারে। আসল জটিলতা লুকিয়ে আছে এখনো না লেখা শর্তগুলোর ভেতরে।
তার ওপর ওয়াশিংটনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এই সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, যেকোনো চূড়ান্ত চুক্তি তিনি কংগ্রেসের অনুমোদনের জন্য পাঠাবেন। এই আইনপ্রণেতাদের প্রক্রিয়াটি নিজেই একটি বড় বাধা হয়ে উঠতে পারে।
.তৃতীয় যে বিষয়টি এই চুক্তিকে গুঁড়িয়ে দিতে পারে, তা হলো হরমুজ প্রণালি। এই প্রণালির ওপর নিজেদের কার্যকর নিয়ন্ত্রণকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে তেহরান। যদিও তারা কোনো ট্রানজিট টোল বা শুল্ক নেবে না বলেছে, তা–ও এই নিয়ন্ত্রণ ভবিষ্যতে বড় ধরনের সংঘাতের পথ তৈরি করছে।
আগামী সপ্তাহগুলো মূলত একটি পরীক্ষামূলক ধাপ হিসেবে কাজ করবে। এই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একে অপরের সদিচ্ছা ও চুক্তির শর্ত বাস্তবায়নের মানসিকতা পরিমাপ করবে, একই সঙ্গে বোঝার চেষ্টা করবে একটি স্থায়ী শান্তির জন্য প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক ও কৌশলগত পরিবেশ আদৌ আছে কি না।
হামিদরেজা আজিজি জার্মানিভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ‘জার্মান ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাফেয়ার্স’-এর একজন ভিজিটিং ফেলো। টাইম থেকে অনূদিত।






