সালিস বৈঠকে গিয়ে মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনের সংসদ সদস্য সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালার উত্তেজিত হয়ে টেবিল চাপড়ানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এক মিনিটের ভিডিওতে তাঁকে উত্তেজিত হয়ে উপস্থিত ব্যক্তিদের ধমক দিতে দেখা যায়।
ভিডিওতে সংসদ সদস্য (এমপি) সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালাকে বলতে শোনা যায়, ‘কথা বললেন কেন? আপনারা এখানে কাউন্টার কেন দিলেন? এই মিয়া চুপ করেন।’ তখন পাশে বসা একজন বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি বলেন, ‘চুপ করব মানি! আমি চুপই তো আছি।’ এরপরই হানজালা তাঁর চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ান ও উপস্থিত ব্যক্তিদের উত্তেজিত হয়ে ওঠে বলতে থাকেন, ‘একবারে চুপ, একটা কথাও কেউ বলবেন না। সবগুলারে খাইয়া হালামু। আমি এখানে আছি কেন, বিচার করার জন্য! কাউন্টার দিলে আমি দিমু, কাউন্টার দিলে আমি দিমু এখানে। আমাকে ডাকছেন কেন এখানে বলুন। ওঠেন এখানে কোনো বিচার করুম না, ওঠেন। আমি এখানে বসা, চিল্লাচিল্লি কেন হবে?’
এমপির এই বক্তব্য ও আচরণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই তাঁর আচরণ নিয়ে সমালোচনা করে ফেসবুকে ভিডিওটি শেয়ার করে মন্তব্য করছেন।
স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ২২ মে শিবচর উপজেলার দত্তপাড়া এলাকায় পারিবারিক বিরোধসংক্রান্ত বিষয়ে একটি সালিস হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন এমপি সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালা, দত্তপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক তারামিয়াসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি। দুই পক্ষের অভিযোগ উপস্থাপনের সময় গ্রামের প্রচলিত নিয়মভঙ্গের কারণে উত্তেজিত হয়ে ওঠেন সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালা।
এ বিষয়ে সালিসে উপস্থিত তারামিয়া মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘ওই সালিস বৈঠকে অনেক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। বিচার চলাকালে আমার সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়।’ তিনি অভিযোগ করেন, ‘এমপি সাহেব বিচারের মধ্যে অন্য কাউকে কথা বলার সুযোগ না দিয়ে একতরফাভাবে রায় দেওয়ার চেষ্টা করেন। আমি এর প্রতিবাদ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।’ তিনি আরও বলেন, ‘যেখানে শত শত মানুষের উপস্থিতিতে সালিস অনুষ্ঠিত হয়, সেখানে বিচার নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে বিভিন্ন যুক্তি ও মতামত আসতেই পারে। একজন বিচারকের দায়িত্ব হলো সেসব কথা ধৈর্য সহকারে শোনা। তা না হলে সেটি জনসমক্ষের সালিস না হয়ে ঘরোয়া বা একতরফা বিচার হয়ে যায়।’
স্থানীয় সূত্র জানায়, বৈঠকে বক্তব্য প্রদানকে কেন্দ্র করে একপর্যায়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে এমপি হানজালা মেজাজ হারান। এ সময় সালিসে উপস্থিত এক ব্যক্তি মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন। একপর্যায়ে ভিডিও ধারণ বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হলে ভিডিওটি সেখানেই শেষ হয়ে যায়। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
জানতে চাইলে এমপি পীরজাদা সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালা বলেন, ‘এটা এক থেকে দেড় মাস আগের একটা বিচার। ওরা আমাকে ছাড়া বিচারে বসবেই না। পরে আমি গিয়েছি। সালিসের সময় দুই পক্ষই কথা বলতেছিল। তর্কে জড়াইছিল। তারা বেশ প্যাঁচাপেঁচি করতেছিল। তখন আমি ধমক দিয়েছি। মেজাজটা গরম হয়ে গেছিল। তবে বিচারকাজটি বেশ সুন্দরভাবে সমাধান হয়েছে; যা আমার পেজেও দেওয়া আছে।’






