‘আমার বাবা কৃষক ছিলেন। এই সমাজে ডাক্তারের ছেলে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ারের ছেলে ইঞ্জিনিয়ার, কৃষকের ছেলে কৃষক হবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু কৃষকের ছেলে এমপি (সংসদ সদস্য) হবে, এটা স্বপ্নেও ভাবিনি।’ ময়মনসিংহে আয়োজিত ‘পার্টনার কংগ্রেস ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবেগজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলেন ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ।
নিজের পারিবারিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে আবু ওয়াহাব বলেন, ‘আমার বাবা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করেছেন। কিন্তু তিনি তাঁর সন্তানদের অনেক দূর পর্যন্ত পড়ালেখা করিয়েছেন। এই জীবনে আমার আর পাওয়ার কিছু নেই।’ স্বচ্ছতার ওপর জোর দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমি কোনো কাজে পার্সেন্টেজ নিই না, কাউকে নিতেও দেব না। আমি কাজের কোয়ালিটি নিশ্চিত করতে চাই। প্রধানমন্ত্রী আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন সবার কল্যাণে কাজ করার জন্য।’
আজ শনিবার দুপুরে সদর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে ‘পার্টনার কংগ্রেস ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জুবায়রা বেগম সাথী বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো সাধারণ কৃষকদের দোরগোড়ায় আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি পৌঁছে দেওয়া। নিরাপদ কৃষিপণ্য উৎপাদন এবং সবজি চাষে প্রযুক্তিগত সহায়তার মাধ্যমে আমরা কেবল স্থানীয় চাহিদাই পূরণ করছি না, বরং কৃষকদের বিষমুক্ত ফসল উৎপাদনে দক্ষ করে তুলছি।’
কংগ্রেসের অংশ হিসেবে ‘পার্টনার অ্যাক্টিভিটি ও ভিশন ডিসপ্লে’ এবং ‘প্ল্যান্ট ডক্টরস ক্লিনিক’ প্রদর্শনীতে নিরাপদ খাদ্যব্যবস্থা, গ্যাপ (উত্তম কৃষিচর্চা), এবং রপ্তানিমুখী কৃষি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এ ছাড়া স্মার্ট কৃষির অংশ হিসেবে ড্রোনপ্রযুক্তির ব্যবহার, এআই মডেলের মাধ্যমে ফলন পূর্বাভাসের বিষয়ে আলোচনা হয়। রোবোটিক হার্ভেস্টিংয়ের মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তির প্রদর্শনী উপস্থিত কৃষক ও সংশ্লিষ্টদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক তৌফিক আহমদ খান এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামারবাড়ির উপপরিচালক মো. এনামুল হক। সভায় সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে শতাধিক কৃষক ও স্টেকহোল্ডার উপস্থিত ছিলেন। পরে কৃষকদের মাঝে কৃষি উপকরণ বিতরণ করেন সংসদ সদস্য।






