নেত্রকোনার দুর্গাপুরে একটি সুপারিবাগানে ঢুকে পড়ার অভিযোগে তিনটি ছাগল পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বাগানমালিকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর কাছে প্রতিকার না পেয়ে মৃত ছাগলগুলো নিয়ে থানায় হাজির হন ছাগলের মালিক। পরে তিনি মামলা করেন। গতকাল শুক্রবার রাত ১১টার দিকে মামলাটি করা হয়। এর আগে একই দিন সন্ধ্যায় উপজেলার মেনকিফান্দা গ্রামে ছাগল পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে।

ছাগলের মালিক মো. ছাইদুল ইসলাম মেনকিফান্দা গ্রামের বাসিন্দা। অভিযুক্ত মিয়া হোসেনও একই গ্রামের বাসিন্দা।

এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা, এজাহার ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সন্ধ্যার আগে ছাইদুল ইসলামের আটটি ছোট-বড় ছাগল বাড়ির উত্তর পাশে মিয়া হোসেনের সুপারিবাগানের কাছাকাছি ঘাস খেতে যায়। ওই সময় বাগানে কাজ করছিলেন মিয়া হোসেনের লোকজন। অভিযোগ রয়েছে, মিয়া হোসেনের নির্দেশে তাঁর লোকজন ছাগলগুলো তাড়িয়ে দিয়ে ছাইদুল ইসলামের বাড়িতে যান এবং ছাগলগুলো আবার বাগানে প্রবেশ করলে সেগুলো আর জীবিত থাকবে না বলে হুমকি দেন। এর কিছু সময় পর ছাইদুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী আজুফা খাতুন ছাগলগুলোকে বাড়িতে আনার জন্য বাগানে গেলে দুটি পাঁঠা ও তিন মাসের গর্ভবতী একটি ছাগলকে রক্তাক্ত ও মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।

ছাইদুল ইসলাম বলেন, ‘গ্রামবাসীর কাছে বিচার চেয়েও কোনো সুরাহা পাইনি। তাই মৃত ছাগলগুলো নিয়ে থানায় এসে অভিযোগ করেছি।’ ছাইদুল ইসলামের স্ত্রী আজুফা খাতুন বলেন, ‘এই ছাগলগুলো আমি আমার সন্তানের মতো লালনপালন করি। এগুলো লালনপালন কইরা যা আয় তা দিয়াই আমরা সংসার চালাই। মিয়া হোসেন আমার তিনডা ছাগলরে এইভাবে মাইরা ফালাইবে, তা কোনো সময় ভাবছি না। এর মধ্যে একটা ছাগল গাভিন আছিল। তাঁরা শক্তিশালী লোক, কেউ তাঁদের বিরুদ্ধে কথা কয় না। তাই থানায় আইসা প্রতিকার চাইতাছি।’

দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাকের আহমেদ মুঠোফোনে মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত অমানবিক। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। খোঁজ নিয়ে জেনেছি মিয়া হোসেন মন্দ প্রকৃতির লোক। এ ব্যাপারে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।