রাজশাহীর তালাইমারির কেঁদুর মোড় এলাকার এক জীর্ণ ভাড়া বাসায় স্বপ্ন বুনে চলেছে এক কিশোর। নাম তার আব্দুর রহমান। চরম অর্থনৈতিক সংকট আর পারিবারিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও সে বড় স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে। তার এই স্বপ্নের সারথি হয়েছে মুক্তকণ্ঠ ট্রাস্ট পরিচালিত রাজশাহী আলোর পাঠশালা।

আব্দুর রহমান বর্তমানে এই বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থী। তিন ভাইয়ের মধ্যে সে মেজ। তার বড় ভাই আব্দুল্লাহও একই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীতে পড়াশোনা করছে। তাদের পরিবারটির জীবিকার একমাত্র উৎস বাবার হাড়ভাঙা খাটুনি। পেশায় একজন ট্রাকের হেলপার বাবার সীমিত আয়ে যেখানে নুন আনতে পান্তা ফুরায়, সেখানে সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ চালানো যেন এক দুঃসাধ্য লড়াই। কিন্তু দারিদ্র্যের এই কঠিন বাস্তবতার কাছে হার মানেনি আব্দুর রহমান ও তার ভাইয়েরা। তারা বিশ্বাস করে, কেবল শিক্ষাই পারে তাদের জীবন বদলে দিতে।

ছোটবেলা থেকেই আকাশে ডানা মেলে উড়ে চলা বিমান আব্দুর রহমানকে দারুণভাবে মুগ্ধ করে। মেঘের বুক চিরে কোনো উড়োজাহাজ চলে গেলেই তার চোখে জ্বলে ওঠে এক নতুন আশার আলো। তার একমাত্র স্বপ্ন—সে বড় হয়ে একজন দক্ষ পাইলট হবে। দেশের আকাশে বিমান ওড়াবে, মানুষের সেবা করবে এবং দিনমজুর বাবার কষ্ট ঘুচিয়ে পরিবারকে একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ উপহার দেবে। তার এই আকাশছোঁয়া স্বপ্ন পূরণের পথে সবচেয়ে বড় ভরসার আলো হয়ে দাঁড়িয়েছে মুক্তকণ্ঠ ট্রাস্টের রাজশাহী আলোর পাঠশালা। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি কেবল বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগই দিচ্ছে না, বরং আব্দুর রহমানের মতো সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মনে আত্মবিশ্বাস ও মানবিক মূল্যবোধের বীজ বুনে দিচ্ছে।