ফুটবলে সমর্থকদের মজার কাণ্ডকারখানার শেষ নেই। বিশ্বকাপ চলায় ব্যাপারটা আরও নতুন মাত্রা পাওয়াই স্বাভাবিক। যেমন ধরুন, ব্রাজিলের সমর্থক ইয়োহান লেরবাউম। তাঁর সঙ্গে সমর্থকদের একটি প্রচলিত কথা দারুণভাবে মিলে যায়, ‘একজন খাঁটি সমর্থক তাঁর সৌভাগ্যের জার্সি কখনোই ধুয়ে ফেলেন না; এমনকি সেই জার্সিতে যদি তিনটি অবনমনের বেদনা আর বিয়ারের দাগও লেগে থাকে।’

লেরবাউমেরও এমন একটি জার্সি আছে। তবে সেই জার্সির প্রসঙ্গে যাওয়ার আগে এই তরুণকে একটু পরিচয় করিয়ে দেওয়া যাক। শৈশব থেকেই ব্রাজিলের এই সমর্থক ১১ বছর বয়সে দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। কখনোই ব্রাজিল জাতীয় দলের খেলা দেখার সুযোগ পাননি। যুক্তরাষ্ট্র যেহেতু এবার বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক, তাই এবার লেরবাউম অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু শুরুতে জানতেন না, যুক্তরাষ্ট্রে ব্রাজিল দলের অনুশীলনের বেজক্যাম্প হবে কোথায়।

.

তারপর এক কাকতালীয় ঘটনায় জাতীয় দল ও এই ভক্ত মিলে গেলেন এক মোহনায়!
এবার বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মরিস টাউনশিপ শহরে কলম্বিয়া পার্ক ট্রেনিং ফ্যাসিলিটি সেন্টারে বেজক্যাম্প স্থাপন করেছে ব্রাজিল। পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা যে সেখানে অবস্থান করবে, সেটা হঠাৎ করেই জানতে পারেন এই ভক্ত। জায়গাটা তাঁর বাসা থেকে খুব বেশি দূরেও নয়। ব্যস, কে ছাড়ে এমন সুযোগ!

.

কার্লো আনচেলত্তির দল সেই বেজক্যাম্পে পৌঁছানোর পর লেরবাউম একটি দিনও মিস করেননি। প্রতিদিন গেছেন প্রিয় দলের অনুশীলন দেখতে। অনুশীলন মাঠের গেটের সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে থেকেছেন। কখনো কখনো ভাগ্য সহায় হওয়ায় ভিনিসিয়ুস ও ব্রাজিল কোচ আনচেলত্তির প্রতি হাত নাড়িয়ে দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টাও করেছেন।

ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম ‘ইউওএল’কে লেরবাউম বলেন, ‘তাদের আমার সামনে দিয়ে মাঠে ঢুকতে দেখা কিংবা যেতে দেখাটা মনের জন্য প্রশান্তির। প্রতিদিন সকাল আটটায় আসি, নিচে দাঁড়িয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আড্ডা দিই, সাড়ে নয়টায় দলের ভেতরে ঢোকা দেখি আর বেলা দেড়টা পর্যন্ত অপেক্ষা করি খেলোয়াড়দের বেরিয়ে যাওয়া দেখার জন্য। দলের প্রতি এটা আমার দায়িত্ব।’

.ব্রাজিল দলে মেসিকে চান ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট.

মজার ব্যাপার হলো, লেরবাউম প্রতিদিন একই জার্সি গায়ে দিয়ে ভিনি-রাফিনিয়াদের অনুশীলন দেখতে যান। সেটা ব্রাজিল জাতীয় দলের ‘অ্যাওয়ে’ জার্সি, যেটা এবারের বিশ্বকাপের জন্য বানানো হয়েছে। লেরবাউম সঙ্গে একটি হলুদ জার্সিও রাখেন। যদি কখনো নেইমার-ভিনিদের অটোগ্রাফ নেওয়ার সুযোগ মেলে, তখন হলুদ জার্সিটা দেবেন সে জন্য।

লেরবাউম গায়ের জার্সি দেখিয়ে বলেন, ‘আমি প্রতিদিন এ জার্সিটা পরেই আসি, সঙ্গে একটা ছোট হলুদ জার্সিও রাখি। এটা আমি একবারও ধুইনি, এই জার্সিটা আমার জন্য সৌভাগ্যসূচক। একদম শেষ পর্যন্ত এটা এই অবস্থাতেই থাকবে, যতক্ষণ না ওরা (ব্রাজিল) বিদায় নিচ্ছে (বিশ্বকাপ থেকে) কিংবা আমরা ট্রফি নিয়ে বাড়ি ফিরছি।’

.

ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম ইউওএল জানিয়েছে, ব্রাজিলের অনুশীলন সেন্টারে গেটে ইয়োহানই একমাত্র সমর্থক। সেখানে পৌঁছানো বেশ কঠিন বলেই হয়তো ভিড় তেমন নেই। নিরাপত্তার জন্য বসানো হয়েছে বেশ কয়েকটি পুলিশ চেকপোস্ট। প্রতিদিন সকালে সেখানে যাওয়ায় পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বেশ খাতির হয়ে গেছে লেরবাউমের। সেই সুযোগেই একটু একটু করে কয়েক গজ এগিয়ে অনুশীলন সেন্টারের একদম কাছাকাছি পৌঁছে যান তিনি।

.ভিনি ৮, রাফিনিয়া ৬—ব্রাজিলের ফুটবলাররা কে কেমন খেললেন.

লেরবাউম এ নিয়ে বলেন, ‘কথায়–কথায় একসময় তাঁরা (পুলিশ) আমাকে ভেতরে যাওয়ার অনুমতি দেন। আসলে তাঁদের সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব হয়ে গেছে, তাঁরা বুঝতে পেরেছেন যে আমি কোনো ঝামেলা করতে যাই না। তাই ওনারাই আমাকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন।’

বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে হাইতির মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। আগামীকাল বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে এই ম্যাচ। লেরবাউম মনে করেন, এ ম্যাচে ব্রাজিলের ১৯ বছর বয়সী স্ট্রাইকার এনদ্রিকের মূল একাদশে সুযোগ পাওয়া উচিত, ‘ছেলেটাকে সুযোগ দিতে হবে। তার প্রতিভা আছে। অভিষেকটা হয়তো ভালো হয়নি, তবে হাইতির বিপক্ষে ম্যাচে আমি আশাবাদী।’

.ছয় গোল, হ্যাটট্রিক, দুই লাল কার্ড, ভাঙা পা ও কানাডার প্রথম জয়