আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) শিক্ষার্থী মো. শহিদুল ইসলাম (২৮) গত শুক্রবার দুপুরে বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হন। গতকাল সোমবার রাত আটটার দিকে সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়ি ইউনিয়নের ঘোড়ামরা সাগর উপকূল থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। স্বজনেরা বলছেন, শহিদুলের সাগরের দিকে যাওয়ার কথা ছিল না। তিনি কীভাবে সাগরে গেলেন, কার সঙ্গে গেলেন, আর কীভাবেই–বা উপকূলে তাঁর লাশ ভেসে এল—এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে চান পরিবারের সদস্যরা।

নিহত শহীদুল ইসলামের বাড়ি সন্দ্বীপের কাছিয়াপাড় ইউনিয়নে। তিনি আইআইইউসির ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। পরিবারের সঙ্গে পাহাড়তলী থানাধীন গ্রিনভিউ আবাসিক এলাকার বাসায় থাকতেন। সোমবার রাত আটটার দিকে সীতাকুণ্ডের ঘোড়ামরা সাগর উপকূলে অর্ধগলিত অবস্থায় তাঁর লাশ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। নৌ পুলিশের দাবি, শহিদুলের লাশ সাগরে ভেসে উপকূলে আসে। এরপর স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে সংবাদ পেয়ে লাশ উদ্ধার করেছেন তাঁরা।

পরিবারের সদস্য বলছেন, শহিদুলের সাগরের দিকে যাওয়ার কথা নয়। নিহতের ভাই মুক্তাদের মাওলা মুক্তকণ্ঠকে বলেন, গত শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজ শেষে বাসায় ফেরেন শহিদুল। এরপর দুপুরের খাবার সেরে মুঠোফোন নিয়ে বেরিয়ে পড়েন। রাতে যখন ফিরছিলেন না, তখন মুঠোফোনে ফোন করেন তাঁরা। এ সময় ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে তাঁরা পাহাড়তলী থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন।

মুক্তাদের মাওলা বলেন, সোমবার সীতাকুণ্ডের সাগর উপকূলে একটি লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে তাঁরা নৌ পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে হাসপাতালে গিয়ে পরনের টি শার্ট এবং প্যান্ট দেখে লাশ শনাক্ত করেন। লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে কিছু লোক অপরিচিত নম্বর থেকে তাঁদের ফোন দিয়ে টাকাপয়সা দাবি করেছিলেন। তাঁরা নম্বরগুলো পুলিশকে দিয়েছেন।

মুক্তাদের মাওলা আরও বলেন, তাঁর ভাইয়ের সঙ্গে কারও কোনো ধরনের শত্রুতার বিষয়ে তাঁরা জানেন না। তাঁর ভাই রাজনীতিও করেন না। তাঁদের সন্দেহ ভাই অপরাধীদের পাল্লায় পড়েছিলেন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে হত্যা মামলা করবেন তাঁরা।

কুমিরা নৌ পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল ওয়াহেদ মুক্তকণ্ঠকে বলেন, স্থানীয় লোকজন তাঁদের জানিয়েছেন লাশ সাগরে ভেসে উপকূল আসে। দুই–তিন দিন আগে ওই তরুণ মারা গিয়ে থাকতে পারেন। ফলে লাশ অনেকটা অর্ধগলিত অবস্থায় ছিল। তাঁরা লাশ উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠান। আপাতত অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে হত্যার বিষয়টি উঠে এলে মামলাটি হত্যা মামলায় পরিণত হবে।