‘আপনাদের আছে অনুরোধ, আমাদের একটা সুব্যবস্থা করেন। আমাদের জীবনডা একটু বাঁচান’—কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে ‘পুশ ইন’ চেষ্টার শিকার ৫০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি এভাবে আকুতি জানিয়েছেন। গতকাল রোববার বিকেলে স্থানীয় এক বাসিন্দার কাছে তিনি এ আবেদন করেন।

৫৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ক্লিপে ওই ব্যক্তিকে নানাভাবে আকুতি জানাতে দেখা যায়। মো. গাজিউর রহমান নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা গতকাল বিকেলে কৌশলে তাঁদের কাছে খাবার ও পোশাক পৌঁছে দেন। নিজের মুঠোফোনে তিনি ভিডিওটি ধারণ করেন। ভিডিও ক্লিপটি মুক্তকণ্ঠের কাছে আছে।

.

মো. গাজিউর রহমান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, বেলা তিনটার দিকে তিনি শূন্যরেখার কাছে অবস্থান করা নারী, পুরুষ ও শিশুদের জন্য নতুন পোশাক নিয়ে যান। এ ছাড়া কয়েকটি মশারিও দেন। আরেক বাসিন্দা মিলন আলী তাঁদের খাওয়ার জন্য একটি বড় পাকা কাঁঠাল দেন। পাশাপাশি রান্না করা খাবার ও শুকনা খাবারও দেওয়া হয়। তাঁর ভাষায়, ‘বাচ্চাগুলো খুব কষ্টে আছে। তাদের কষ্ট দেখে খুবই খারাপ লাগছে। এ জন্য ঠিক থাকতে না পেরে মানবিক দিক থেকে তাদের সহযোগিতা করছি।’

৫৫ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, পাটখেতের আলের পাশে একটি শিমুলগাছের নিচে পলিথিনের ওপর ১২ জন এলোমেলোভাবে বসে ও শুয়ে আছেন। ভিডিওতে ৫০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি বলতে থাকেন, ‘বর্তমানে আমরা বেহাল অবস্থায় আছি। আমাদের বাচ্চাকাচ্চা প্রায় অসুস্থ। গরমের ভেতর বাচ্চাকাচ্চা নিই টিকতে পারছি না। আপনারা আমাদের একটা ব্যবস্থা করেন। আমাদের জীবন আর সহ্য হচ্ছে না। বাচ্চাকাচ্চা নিই খুবই অসহায়ের মধ্যে আছি। কাপড়চোপড় নাই। খুব দুরবস্থার মধ্যে আছি।’

.৫৬ ঘণ্টা পরও কুষ্টিয়া সীমান্তের শূন্যরেখার আলে পুশ ইনের চেষ্টার শিকার ১২ জন.

অনুরোধ জানিয়ে ভিডিওতে ওই ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ‘আমাদের একটা সুব্যবস্থা করেন। আমাদের জীবনডা একটু বাঁচান। আমাদের চাওয়া–পাওয়া কিছু নাই। আমাদের কাছে ডকুমেন্ট আছে সব। আপনারা দেখেন আমরা কী। আমরা এ দেশের নাগরিক না রোহিঙ্গা? আপনারা তদন্ত কইরি দেখেন। আমাদের কাগজপাতি সবকিছু ওকে। আমাদের লোকজন আছে। একটু সুব্যবস্থা করেন।’

শূন্যরেখার কাছে খেতের আলে অবস্থান করা পুশ ইনের চেষ্টার শিকার শিশুসহ ১২ নারী–পুরুষের কোনো সুরাহা দুই দিনেও হয়নি। ৬৩ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বিএসএফ পুশ ইন করেনি বলে দাবি করে তাঁদের নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। অন্যদিকে বিজিবি বলছে, তারা কখনো পুশ ইন করে না, তাই কোনো অনুপ্রবেশও হতে দেওয়া যাবে না।

.

বিজিবির ৪৭ ব্যাটালিয়নের আওতাধীন প্রাগপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার আসাদুজ্জামান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, নতুন কোনো তথ্য নেই। ১২ জন এখনো একই জায়গায় আছেন। বিএসএফ গতকাল পতাকা বৈঠকের পর আর কোনো তথ্য জানায়নি। এই ১২ জন ভারতীয় নন বলে দাবি করেছে বিএসএফ।