‘নদীর পাড়ে থাহি। এনে শীত বেশি—দিনে যেমুন-তেমুন, রাইতে ঠান্ডায় কাপাকাপি শুরু হইয়্যা যায়। কম্বলডা পাইয়্যা আমার বহুত উপকার হইলো। এহন রাইতে হওক আর দিন, কম্বল গায়ে দিয়্যা ভালা ঘুমাইতে পারমু।’

নতুন কম্বল পেয়ে কথাগুলো বলেন পঞ্চাশোর্ধ্ব পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোজী বেগম। তাঁর বাড়ি মুন্সিগঞ্জ সদরের ধলেশ্বরী-মেঘনা নদীর মোহনার তীরবর্তী মোল্লাচর গ্রামে। তাঁর মতো অসহায়, দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের ২৫০ জন মানুষের মধ্যে আজ শনিবার সকালে মোল্লাচর এলাকায় মুক্তকণ্ঠ ট্রাস্টের উদ্যোগে কম্বল বিতরণ করা হয়। মোল্লাচর ছাড়াও হাটলক্ষ্মীগঞ্জ, উত্তর ইসলামপুর, পাঁচঘরিয়াকান্দি গ্রামের বাসিন্দারা পেয়েছেন এসব কম্বল।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯৯৪-৯৫ শিক্ষাবর্ষের বিবিএ ফিন্যান্স বিভাগের প্রথম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থীদের সৌজন্যে এসব কম্বল দেওয়া হয়েছে। শীতার্ত মানুষ খুঁজে তাঁদের হাতে কম্বল তুলে দেওয়ার কাজে সহযোগিতা করেন মুন্সিগঞ্জের মুক্তকণ্ঠ বন্ধুসভার বন্ধুরা।

কম্বল পেয়ে বেশ খুশি মোল্লাচর গ্রামের তমু মোল্লা (৯০)। বয়স্ক মানুষটি কম্বল পেয়ে দাতাদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। তমু মোল্লার ভাষ্য, ‘বয়সের কারণে ঘর থেকে বাহির হইতে পারি না। কেউ খবর লয়না। কত মানুষ কম্বল পাইত, আমারে দিত না। দুই দিন আগে আমার নামে ছিলিপ দিছে। আইজকা একটা কম্বল দিছে।’

এর আগে গত বৃহস্পতি ও গতকাল শুক্রবার সদরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে হতদরিদ্রদের তালিকা করা হয়। আজ সকালে তালিকায় থাকা ব্যক্তিরা ধলেশ্বরী-মেঘনা নদীর মোহনায় গিয়ে জড়ো হতে থাকেন। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে শুরু হয় এসব কম্বল বিতরণ।

ইসলামপুর এলাকায় ছোট্ট একটি দুইচালা ঘরে ভাড়া থাকেন নুরুন্নাহার বেগম (৬০)। দুই কক্ষের ওই ঘরে ছেলে, ছেলের বউ, নাতি-নাতনিদের নিয়ে তাঁর বসবাস। সংসার চালাতে এই নারী নিজেও জমি ও নদীর তীর থেকে শাক কুড়িয়ে বিক্রি করেন। কম্বল পেয়ে উচ্ছ্বসিত নুরুন্নাহার বলেন, ‘শীতের মধ্যেই খেতা-কম্বলের অভাবে খুব কষ্ট করতাম। কম্বলডা পাওয়নে এহন একটু আরামের ঘুম হইবো।’

কম্বল পাওয়া কয়েকজন নারী-পুরুষ অভিযোগ করেন, সরকার ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে অনেক কম্বল দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি এলাকার প্রভাবশালীরা এসব কম্বল বিতরণ করেছেন। তাঁরা নিজেদের সমর্থক, ভোটারদের বেছে বেছে এসব কম্বল দিয়েছেন।

কম্বল বিতরণের সময় উপস্থিত ছিলেন মুন্সিগঞ্জ বন্ধুসভার উপদেষ্টা নুরুননবী, সভাপতি মাসফিক সিহাব, সহসভাপতি রাজীব পাল, সাধারণ সম্পাদক স্বাধীন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সুমাইয়া বৃষ্টি, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাদাত হোসেন, বন্ধু নূপুর, সানায়া সিফাত ও মুক্তকণ্ঠের মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি ফয়সাল হোসেন।

শীতার্ত মানুষের সহযোগিতায় আপনিও এগিয়ে আসতে পারেন। সহায়তা পাঠানো যাবে ব্যাংক ও বিকাশের মাধ্যমে। হিসাবের নাম: মুক্তকণ্ঠ ট্রাস্ট/ত্রাণ তহবিল, হিসাব নম্বর: ২০৭ ২০০ ১১১৯৪, ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড, কারওয়ান বাজার শাখা, ঢাকা। পাশাপাশি বিকাশে সহায়তার অর্থ পাঠাতে পারেন: ০১৭১৩০৬৭৫৭৬ এই মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট নম্বরে। এ ছাড়া বিকাশ অ্যাপে ডোনেশন অপশনের মাধ্যমেও অনুদান পাঠাতে পারেন।