শেষ পর্যন্ত ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এককভাবে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া ২৬৮ আসনে তারা নির্বাচন করবে। বাকি ৩২টি আসনে দলটি পছন্দের কোনো দলের প্রার্থীকে সমর্থন দেবে। অর্থাৎ ৩০০ আসনেই ইসলামী আন্দোলন ভোটে থাকছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এর মধ্য দিয়ে ইসলামপন্থীদের ভোট ‘এক বাক্সে’ আনার উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হলো। এখন ইসলামপন্থীদের ভোট স্পষ্টত ‘তিন বাক্সে’ বিভক্ত হয়ে পড়ল। এর রেশ ভোটের মাঠে কতটা-কীভাবে পড়ে, সেটি এখন দেখার বিষয়।
ইসলামী আন্দোলন গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছে, তারা এককভাবে নির্বাচন করবে। তাদের অভিযোগ, তারা জামায়াতের দিক থেকে উপেক্ষা ও অসম্মানের শিকার হয়েছে।
এর আগের দিন বৃহস্পতিবার জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে ১০ দলের শীর্ষ নেতারা সংবাদ সম্মেলন করে ২৫৩টি সংসদীয় আসনে সমঝোতা চূড়ান্ত করার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানান। তাঁরা ইসলামী আন্দোলনের জন্য ৪৭টি আসন ফাঁকা রেখেছিলেন। সমঝোতা না হওয়ায় এখন এ আসনগুলোতে প্রার্থী দেওয়া হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, ‘১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’ থেকে ইসলামী আন্দোলনের সরে যাওয়ার মধ্য দিয়ে ইসলামপন্থী দলগুলোর রাজনীতি কার্যত তিনটি ভিন্ন ধারায় বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এর একদিকে রয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ‘১০–দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’, এই মোর্চায় ইসলামি দল পাঁচটি। অন্যদিকে চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন এককভাবে ভোট করার ঘোষণা দিয়েছে। আর তৃতীয় ধারায় বিএনপির নেতৃত্বে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক হিসেবে নির্বাচনী সমঝোতায় যুক্ত তিনটি ইসলামি দল—যাদের একটি নিবন্ধিত ও দুটি নিবন্ধনহীন।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, নির্বাচন সামনে রেখে এই বিভাজন শুধু কৌশলগত নয়; বরং আদর্শ, নেতৃত্ব ও পারস্পরিক অবিশ্বাসের পুরোনো সংকটকে নতুন করে প্রকাশ্যে এনেছে।
কার্যত আসন বণ্টনের হিসাব-নিকাশকে কেন্দ্র করে ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের বিচ্ছেদ ঘটে। শুরু থেকেই আসন ভাগাভাগি নিয়ে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে একধরনের প্রতিদ্বন্দ্বী মানসিকতা ছিল। ইসলামী আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল ৭০-৮০টি আসন। বিপরীতে জামায়াতের চেষ্টা ছিল তাদের ৩০-৩৫ আসনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা। এটি দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সিদ্ধান্ত ছিল। শেষ পর্যন্ত জামায়াত ৪০, পরে ৪৫ আসনে ছাড় দিতে রাজি হলেও ইসলামী আন্দোলন তা মানেনি। এতে জামায়াতের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সন্দেহ তৈরি হয়—এটি কেবল আসনের দাবি, নাকি ভিন্ন কোনো রাজনৈতিক তৎপরতা। শেষ পর্যন্ত ভোটের হিসাব বিশ্লেষণ করে জামায়াত সিদ্ধান্ত নেয়, ইসলামী আন্দোলন ছাড়া ১০ দল নিয়ে এগোনোই তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক।
অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলনও বিকল্প নির্বাচনী মোর্চা গঠনের চেষ্টা করে, শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি। দলটির ভেতরেও ঐক্যের প্রশ্নে মতভেদ ছিল। দলটির আমিরসহ বড় অংশ জামায়াতের সঙ্গে থাকার পক্ষে থাকলেও একটি প্রভাবশালী অংশ ভেতরে-ভেতরে এর বিরোধী ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে।
গতকাল ইসলামী আন্দোলনের এককভাবে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত জানানোর সংবাদ সম্মেলনে দলের দুই শীর্ষস্থানীয় নেতা সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম ও সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম উপস্থিত ছিলেন না। গত বৃহস্পতিবারই তাঁরা ঢাকা ছেড়ে যান। দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন। মোটাদাগে তাঁর বক্তব্য হলো, ‘জামায়াতের নির্বাচনী ঐক্যে না থাকার কারণ হচ্ছে আমরা নীতি ও ইনসাফের প্রশ্নে বৈষম্যের শিকার হয়েছি। লক্ষ্য অর্জিত না হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।’
গাজী আতাউর রহমান বলেন, ‘স্বীকার করি জামায়াতে ইসলামী একটি বড় শক্তি। কিন্তু আদর্শিক ও নৈতিকভাবে ইসলামী আন্দোলনও কারও চেয়ে দুর্বল নয়। আমরা জামায়াতের দিক থেকে উপেক্ষা ও অসম্মানের শিকার হয়েছি।’
এ বিষয়ে ‘১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের’ সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ গত রাতে মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা ওনাদের জন্য চেয়ারও খালি রেখেছি, আসনও ফাঁকা রেখেছি। এরপর আর কী করণীয় ছিল আমাদের।’
এ ছাড়া জামায়াতের আমিরের বিরুদ্ধে ক্ষমতায় গেলে শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠা না করে প্রচলিত আইন অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করা এবং বিএনপির সঙ্গে জাতীয় সরকারে যুক্ত হওয়ার অভিযোগও তুলেছেন ইসলামী আন্দোলনের নেতা আতাউর রহমান। তবে আসন সমঝোতার বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি কোনো কথা বলেননি।
ফাঁকা রাখা ৪৭টি আসনের বিষয়ে জানতে চাইলে গতকাল রাতে জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের মুক্তকণ্ঠকে বলেন, একক কোনো সিদ্ধান্তে নয়, লিয়াজোঁ কমিটিতে আলোচনা করেই ইসলামী আন্দোলনের জন্য আসন ঠিক করা হয়েছিল। এখন দলগুলোর শীর্ষ নেতারা বসে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন। বাকি আসনগুলোতে কীভাবে সমন্বয় করা হবে, সে বিষয়ে দলগুলোর বৈঠকে কিছুটা আলোচনা করে রাখা হয়েছে।
সংখ্যাগত দিক থেকে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১০–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যে জামায়াতসহ পাঁচটি ইসলামি দল রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, হাফেজ্জী হুজুর প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, আহমদ আবদুল কাদেরের খেলাফত মজলিস ও সরওয়ার কামাল আজিজীর নেতৃত্বাধীন নেজামে ইসলাম পার্টি।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, হেফাজত, জমিয়ত ও ইসলামী আন্দোলনের বিরোধিতার মুখে জামায়াতের জন্য ভোটের মাঠে ‘ভ্যানগার্ডের’ ভূমিকা নিতে পারে মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন খেলাফত মজলিস। কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক ভোটব্যাংকে মামুনুল হকের ব্যক্তিগত প্রভাব রয়েছে। কওমি মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষক ও আলেমদের কাছে মামুনুল হকের পিতা প্রয়াত শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তিত্ব।
এ ছাড়া জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সম্মুখসারির নেতাদের দল এনসিপি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অলি আহমদের এলডিপিকে এই মোর্চায় অন্তর্ভুক্তিকে জামায়াত বড় অর্জন হিসেবে দেখছে। ‘মৌলবাদী জোটের’ অভিযোগ মোকাবিলায় এই দুটি দলকে ‘ব্যানার’ হিসেবে পাওয়া গেছে।
গতকাল সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলনের গাজী আতাউর রহমান তারেক রহমানের সঙ্গে জামায়াতের আমিরের সাক্ষাতের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘জামায়াতের আমির বলেছেন নির্বাচন–পরবর্তী সময়ে তাঁরা বিএনপির সঙ্গে জাতীয় সরকার গঠন করবেন। আমাদের শঙ্কা হলো যে এখানে নির্বাচনের আগেই যেহেতু একটা সমঝোতা, সমন্বয় প্রতিদ্বন্দ্বী দলের সঙ্গে হয়ে যাচ্ছে, তাহলে নির্বাচনটা আসলে পাতানো নির্বাচন হবে কি না। এটা কি ইলেকশন হবে, নাকি সিলেকশন হবে—এই শঙ্কাও আমাদের সামনে চলে এসেছে। এই শঙ্কা নিয়ে আমরা কারও সহযোগী হতে চাই না।’
এক প্রশ্নের জবাবে গাজী আতাউর রহমান বলেন, জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতায় থাকা ইসলামপন্থী দলগুলো চাইলে ইসলামী আন্দোলনের ‘ওয়ান বক্স পলিসিতে’ আসতে পারে। তাদের জন্য দরজা খোলা আছে।
ইসলামী আন্দোলনের সংবাদ সম্মেলনের পর তাদের বিরুদ্ধে ওঠা কিছু বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছে জামায়াত। দলটির প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এক বিবৃতিতে বলেন, ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান সম্প্রতি খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের একটি সংগঠনের দায়িত্বশীল নেতার বরাত দিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা সঠিক নয়। এ ব্যাপারে জামায়াতের পক্ষ থেকে প্রেস ব্রিফিং চলাকালেই তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে। জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে গাজী আতাউর রহমান এমন মন্তব্য করেছেন।
ইসলামি দলগুলোর মধ্যে জামায়াতের পরই ইসলামী আন্দোলনের অবস্থান। সারা দেশে দলটির ভোট ও সাংগঠনিক অবস্থান রয়েছে। জামায়াতের মোর্চা থেকে তাদের আলাদা হয়ে যাওয়া দুই পক্ষের জন্যই ক্ষতি হতে পারে। এ ক্ষেত্রে জামায়াতের ঝুঁকিটা একটু বেশি বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট অনেকে। এর কারণ হিসেবে তাঁরা বলছেন, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের শীর্ষ নেতা আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী শুরু থেকেই জামায়াতে ইসলামীর বিরোধিতা করে আসছেন।
অন্যদিকে এবারের নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতায় রয়েছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশসহ তিনটি ইসলামি দল। জমিয়তে উলামায়ে ইসলামকে চারটি আসনে বিএনপি ছাড় দিয়েছে। এ ছাড়া নিবন্ধনহীন বাংলাদেশ জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ও আবদুর রকিবের নেতৃত্বাধীন ইসলামী ঐক্যজোটের একটি অংশও এই সমঝোতার অংশ। নিবন্ধনহীন জমিয়তের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব মুফতি রশীদ বিন ওয়াক্কাছকে বিএনপি যশোর-৫ (মনিরামপুর) আসনে মনোনয়ন দিয়েছে। তিনি ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন।
প্রয়াত মুফতি ফজলুল হক আমিনীর ইসলামী ঐক্যজোটও শিগগির বিএনপির সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর শোকবইয়ে স্বাক্ষর করতে গিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে তাঁদের সাক্ষাৎ ও নির্বাচনের বিষয়ে আলোচনা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। যদিও এই অংশ দীর্ঘদিন নেতৃত্বসংকটে ছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর মুফতি আমিনীর ছেলে আবুল হাসানাত আমিনী ও মুফতি ফয়জুল্লাহ প্রকাশ্যে নেই। সম্প্রতি সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব আমির মাওলানা আবদুল কাদের ও মহাসচিব মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজী নির্বাচন কমিশনের স্বীকৃতি পেয়েছেন। তবে শেষ মুহূর্তে স্বীকৃতি পাওয়ায় দলটি মাত্র তিনটি আসনে প্রার্থী দিতে পেরেছে।
ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব সাখাওয়াত হোসাইন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘বিএনপির সঙ্গে আমাদের কাজ করতে হলে ইসলামের কিছু বিষয়ে স্পষ্ট অঙ্গীকার বা ঘোষণা লাগবে। সেটি হলে আমরা বিএনপির সঙ্গে কাজ করতে রাজি।’
এই প্রেক্ষাপটে হেফাজত, জমিয়ত, ইসলামী ঐক্যজোটের সঙ্গে ইসলামী আন্দোলনের দূরত্ব ভোটের মাঠে জামায়াতবিরোধী হাওয়া আরও উসকে দিতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।
ইসলামপন্থীদের ভোট এক বাক্সে আনার স্বপ্ন ভেঙে এখন বাস্তবতা তিন ধারার প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রূপ নিল। এই বিভাজনের পরও কৌশলগতভাবে সংগঠিত জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ‘১০–দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’। তবে ইসলামী আন্দোলনের সাংগঠনিক শক্তি ও বিএনপির সঙ্গে থাকা ইসলামি দলগুলোর সমন্বয় ভোটের মাঠে কী প্রভাব ফেলে—সেটিই এখন দেখার বিষয়।
নির্বাচনী আসন সমঝোতা নিয়ে এই বিভক্তিকে ‘ইসলামপন্থী রাজনীতিতে নতুন তিক্ততার বীজ বপন’ হিসেবে দেখছেন ইসলামবিষয়ক লেখক ও গবেষক শরীফ মুহাম্মদ। তিনি মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘শেষ মুহূর্তে এই বিভক্তি নির্বাচনী রাজনীতিতে সব পক্ষের জন্য একটা ধাক্কা হিসেবে কাজ করবে। আমি বলব, এটা তাদের অপরিণামদর্শিতা। এত দিন ধরে তাঁরা জোট জোট করছেন, কিন্তু কী এত প্রেম যে আসন সমঝোতা নিয়ে খসড়া আলোচনাটা পর্যন্ত তাঁরা করলেন না।’






