বরেন্দ্র অঞ্চলের গোদাগাড়ীতে আদিবাসী গ্রামের মধ্যে মুক্তকণ্ঠ ট্রাস্ট চালুত স্কুল বাবুডাইং আলোর পাঠশালা। এখানকার নবম শ্রেণির মানবিক বিভাগের ছাত্র সুরঞ্জয়। তার সবচেয়ে প্রিয় বিষয় ভূগোল। কারণ স্যার লাঠি দিয়ে মানচিত্রে দেশ দেখালে সুরঞ্জয় চোখ বন্ধ করে কল্পনা করে, সে ঠিক সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে।
সুরঞ্জয়ের বাবা মাঠে ফসল ফলান। দুইবেলা খাওয়া-পরার পর বই-খাতা কেনা কষ্টকর, ভ্রমণ তো দূরের স্বপ্ন। তবু তার খাতার শেষ পাতায় লেখা: ‘একদিন সমুদ্র দেখব। পাহাড় ছুঁব। মরুভূমির বালু মুঠোয় নিব।’
স্কুলের শিক্ষা সফরে নাটোর যাওয়ার সুযোগ এল। এই সফরে সুরঞ্জয় প্রথমবার গোদাগাড়ীর বাইরে পা রাখল। বাসের জানালা দিয়ে ধানখেত, নদী, শহর—সবকিছু অপলক দৃষ্টিতে দেখল। বাইরের দুনিয়া দেখে সে বুঝল, পৃথিবী মানচিত্রের চেয়ে অনেক বেশি কোলাহলময়, অনেক বেশি রঙিন।
সুরঞ্জয়ের মনের তৃষ্ণা বুঝে প্রধান শিক্ষক তাকে একটি ভ্রমণকাহিনির বই উপহার দিলেন এবং বললেন, “পা দিয়ে না পারিস, চোখ দিয়ে ঘুরবি। আর স্বপ্ন দিয়ে রাস্তা বানাবি।”
তারপর থেকে সুরঞ্জয়ের ভ্রমণ নতুন রূপ নিল। স্কুল লাইব্রেরির সব ভ্রমণকাহিনি পড়ে ফেলল। গরমের ছুটিতে দিনাজপুরের কান্তজিউ মন্দির ঘুরল। রাজশাহী গিয়ে পদ্মার পাড়ে দাঁড়িয়ে চোখ বন্ধ করে ভাবল, এটাই কি সমুদ্রের শুরু?
সুরঞ্জয়ের পরিকল্পনা এসএসসি পাস করে রাজশাহীর বড় কোনো কলেজে ভর্তি হওয়া। নিজের ইউটিউব চ্যানেল খুলে বাবুডাইংয়ের সৌন্দর্য পৃথিবীকে দেখানো। সে সাজেক যাবে, সুন্দরবন যাবে, মানুষের জীবনের ছবি তুলবে। লাখ লাখ মানুষ দেখবে। কারণ সুরঞ্জয় জানে, ভ্রমণ ভালোবাসা মানে শুধু নিজে ঘোরা নয়, অন্যের মনের রাস্তা তৈরি করাও ভ্রমণ।






