ড্রেন ও কারখানার দূষিত পানি পরিবেশের জন্য বিষ। চীনের একদল বিজ্ঞানী কৃষ্ট্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই পানিকে মূল্যবান সারে রূপান্তরের এক বৈপ্লবিক প্রযুক্তি আবিষ্কার করেছেন। এই পদ্ধতিতে পানির নাইট্রেট দূষণ অপসারণের পাশাপাশি তা থেকে কৃষিকাজের উপযোগী অ্যামোনিয়া সার তৈরি করা যায় বলে জানিয়েছেন তারা। এই আবিষ্কারকে সম্পদের চক্রাকার ব্যবহারের অনন্য উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী জার্নাল অব দ্য আমেরিকান কেমিক্যাল সোসাইটিতে এ বিষয়ে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষণাপত্রের তথ্য অনুযায়ী, এআই-এর সাহায্যে নাইট্রেট থেকে অ্যামোনিয়া তৈরির জন্য সবচেয়ে কার্যকর একটি ডুয়াল-অ্যাটম ক্যাটালিস্ট বা দ্বিপরমাণু অনুঘটক আবিষ্কার করেছেন বিজ্ঞানীরা। এই অনুঘটক নাইট্রেট অণুর ভেতরের শক্তিশালী নাইট্রোজেন-অক্সিজেন বন্ধন ভেঙে তা দ্রুত অ্যামোনিয়ায় রূপান্তরিত করে। গবেষণায় দেখা গেছে, আগের যেকোনো প্রযুক্তির তুলনায় এই পদ্ধতিতে রূপান্তরের হার প্রায় তিন গুণ বেশি। কৃষি ও শিল্পকারখানার বর্জ্য পানিতে নাইট্রেটের পরিমাণ অত্যধিক থাকে, যা এই প্রক্রিয়ায় সরাসরি সারে পরিণত হবে।

বর্তমানে অ্যামোনিয়া উৎপাদনে শত বছরের পুরোনো হেবার-বশ পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়, যাতে প্রচুর তাপ ও উচ্চ চাপ লাগে এবং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর ও শক্তিব্যয়ী। কিন্তু চীনের এই নতুন ইলেকট্রোকেমিক্যাল পদ্ধতি ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় কাজ করে, ফলে প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় অনেক কম শক্তি খরচ করে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার মতে, ২০৫০ সালের মধ্যে নেট জিরো বা কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামাতে এই পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি অত্যন্ত সহায়ক হবে।

নাইট্রেট দূষণ জলাশয়ের জন্য বড় হুমকি। কৃষিজমি বা কারখানার অতিরিক্ত পুষ্টি উপাদান নদী-সাগরে মিশলে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দেয়, যাকে ইউট্রোফিকেশন বলে; এতে জলাশয়ে মৃত অঞ্চল তৈরি হয় যেখানে মাছ বা জলজ প্রাণী বাঁচতে পারে না। মার্কিন পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থা জানিয়েছে, নাইট্রোজেন ও ফসফরাস ব্যবস্থাপনা আধুনিক জলব্যবস্থার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। চীনা বিজ্ঞানীদের এই পদ্ধতি বর্জ্য পানি থেকে নাইট্রোজেন সংগ্রহ করে সরাসরি স্থানীয় খামারে পৌঁছে দেবে, যা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করবে।

বিশ্বব্যাপী অ্যামোনিয়া উৎপাদন মোট কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণের ১.৪ শতাংশের জন্য দায়ী। চীনের বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত পদ্ধতিতে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ ব্যবহার করে বর্জ্য পানি থেকে নাইট্রোজেন সংগ্রহ করা হবে, যা খাদ্য উৎপাদনে কার্বন নিঃসরণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমাবে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া