চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে একটি ট্রাক ডিপোতে জুয়ার আসরে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের একজন নিজের মেয়ের গয়না ছিনিয়ে নিয়ে জুয়া খেলছিলেন বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। পরবর্তীতে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাঁদের এক মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের গামারিতল এলাকায় সোহেলের ট্রাক ডিপোতে এ অভিযান চালানো হয়। আটকদের হলেন ট্রাকচালক নাজিম উদ্দিন (৪৮), সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক মো. আজম (২৮) ও জাহাজভাঙা শ্রমিক কামাল হোসেন (৪৭)। তাঁদের মধ্যে আজমের বাড়ি উপজেলার শীতলপুর, কামালের বাড়ি পাক্কা মসজিদ এবং নাজিমের বাড়ি কদম রসুল এলাকায়। প্রশাসন জানায়, কামাল হোসেন মেয়ের রুপার নূপুর ছিনিয়ে নিয়ে জুয়ার আসরে বসেছিলেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ট্রাক ডিপোর ভেতরে একাধিক দলে ভাগ হয়ে প্রায় ৪০ জন জুয়া খেলছিলেন। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফখরুল ইসলামের নেতৃত্বে সেখানে অভিযান চালানো হয়। পুলিশ দেখে বেশিরভাগ জুয়াড়ি পালিয়ে যায়, তবে তিনজনকে আটক করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে নগদ অর্থ ও রুপার গয়না উদ্ধার করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তিনজনকে এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
ইউএনও মো. ফখরুল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ট্রাক ডিপোর চারদিকে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা ছিল। এ কারণে প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে জুয়াড়িরা পালানোর চেষ্টা করেন। এরপর ধাওয়া করে তিনজনকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের একজন নিজের মেয়ের রুপার গয়না জুয়া খেলতে নিয়ে এসেছিলেন। মেয়েটি গয়না নিতে বাধা দিয়ে কান্নাকাটি করছিল বলেও জানা গেছে। অন্য দুজনের কাছ থেকে চার হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
তবে পুলিশের দাবি, কামাল হোসেনের থেকে উদ্ধার হওয়া গয়না রুপার নয়। জানতে চাইলে সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, কামাল হোসেন তাঁর মেয়ের জন্য মেলা থেকে কেনা নূপুর জুয়ার আসরে নিয়ে আসেন। কিন্তু নূপুরগুলো যাচাই করে দেখা গেছে এগুলো রুপার তৈরি নয়। এটি সিসার তৈরি। দণ্ডপ্রাপ্ত সবাইকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।






