রাজধানীর উপকণ্ঠ মাতুয়াইলের শহীদনগর, শামীমবাগ ও আদর্শবাগ এলাকার বাসিন্দাদের কাছে জলাবদ্ধতা এখন সাময়িক সমস্যা নয়, বরং স্থায়ী অভিশাপে পরিণত হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের সচিত্র প্রতিবেদন অনুসারে, রোদ হোক বা বৃষ্টি—বছরের অধিকাংশ সময় এখানকার সড়কগুলো নর্দমার কালচে জলে ডুবে থাকে। হাঁটুসমান ময়লাপানি ও খানাখন্দে ভরা রাস্তায় প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ নরকযন্ত্রণা সহ্য করে চলাচল করছেন, যা নাগরিক সেবাকে তামাশার মতো করে তুলেছে।

প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, এলাকার কোমলমতি শিশুরা নর্দমার নোংরা পানি মাড়িয়ে স্কুলে যাচ্ছে, গর্ভবতী নারীরা হাসপাতালে যাওয়ার পথে অবর্ণনীয় কষ্ট পোহাচ্ছেন এবং সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে পথ চলছেন। এই নোংরা পানি থেকে চর্মরোগ ছড়াচ্ছে, মশার উপদ্রব বাড়ছে। এই সংকটের মূলে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, বরং মানবসৃষ্ট এবং প্রশাসনিক অবহেলা।

এলাকাবাসীর অভিযোগমতো, মাতুয়াইলের এই অংশ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) মধ্যবর্তী সীমানায় অবস্থিত। এই ‘সীমানা জটিলতা’র অজুহাতে দুই সংস্থার কেউই এলাকাটির দায়িত্ব নিতে চাইছে না। একের কাজ অন্যের ওপর চাপিয়ে দেওয়ায় করদাতা নাগরিকরা বলি হচ্ছেন। প্রশ্ন উঠছে, নাগরিক সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার সময় সীমানার অজুহাত তোলা হয়, তাহলে কর আদায়ের সময় কেন একই অনীহা?

জলাবদ্ধতায় শুধু জনস্বাস্থ্য বা যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে না, স্থানীয় ক্ষুদ্র অর্থনীতিও ধ্বংসের মুখে। ক্রেতার অভাবে দোকানপাট বন্ধ হওয়ার উপক্রম, বাড়ির নিচতলায় পানি ঢুকে স্থাবর সম্পদের ক্ষতি হচ্ছে। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে একটি জনপদ এভাবে পানিবন্দী হয়ে থাকা মেনে নেওয়া যায় না। সম্প্রতি এলাকাবাসী মহাসড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ জানালেও কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কেবল ‘মাপজোখ’ আর ‘আশ্বাস’ ছাড়া কার্যকর পদক্ষেপ হয়নি।

ঢাকা দক্ষিণ ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনকে অবিলম্বে যৌথ বৈঠক করে এই এলাকার দায়িত্ব বণ্টন করতে হবে। প্রশাসনিক সীমানা মানুষের সেবায় অন্তরায় হতে পারে না। বর্ষা আসার আগেই নর্দমা পরিষ্কার এবং পানিনিষ্কাশনের স্থায়ী পথ তৈরি করতে হবে। খানাখন্দে ভরা সড়কগুলো দ্রুত সংস্কার দরকার। দুটি পৃথক সিটি করপোরেশনের বিষয় জড়িত বলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উচিত সরাসরি হস্তক্ষেপ করে দীর্ঘস্থায়ী সংকটের সমাধান করা।