দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় তারকা রজনীকান্ত সম্প্রতি একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন, যা তাঁর খ্যাতি, অহংকার এবং আধ্যাত্মিকতার প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। তিনি জানান, বেঙ্গালুরুর আর্ট অব লিভিং ফাউন্ডেশনের আন্তর্জাতিক কেন্দ্রে সফর করলে তাঁর জীবনে গভীর প্রভাব পড়েছিল।
এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিয়ে রজনীকান্ত বলেন, তিনি শুরুতে মাত্র দুই দিনের জন্য আশ্রমে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু সেখানকার শান্ত পরিবেশ, সবুজ প্রকৃতি, লেক, হাসিখুশি মানুষ ও প্রাণীরা তাঁকে এতটাই মুগ্ধ করেছিল যে সফরটি শেষ হয় ১৫ দিনে।
স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘চারদিকে সবুজ, লেক, আর মানুষ সবাই হাসিখুশি। সেখানে হাতি, ঘোড়া, শত শত গরু ছিল…এমনকি এক ঘোড়ার নামও ছিল রজনী।’ এই মজার কথায় উপস্থিত দর্শকরা হেসে ওঠেন।
রজনীকান্ত জানান, স্বল্প সময়ের জন্য গিয়েও শান্ত পরিবেশ তাঁকে যেন বেঁধে রেখেছিল। তিনি বলেন, হিমালয়ের পর এই আশ্রম তাঁর সবচেয়ে প্রিয় স্থানগুলোর একটি।
সবচেয়ে চমকপ্রদ ছিল তাঁর ‘অজ্ঞাত’ থাকার ঘটনা। এক দার্শনিক অনুষ্ঠানে শত শত ভক্ত উপস্থিত ছিলেন। রজনীকান্ত ভেবেছিলেন, ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় তারকা হিসেবে সবাই তাঁকে চিনে ফেলবে।
কিন্তু বাস্তবে ঠিক উল্টো ঘটে। তিনি বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম সবাই আমাকে চিনবে। তামিলনাড়ুর অনেক মানুষও সেখানে ছিল। শত শত মানুষ ছিল। আমি সত্যি বলছি, একজনও আমার দিকে তাকায়নি।’
হাত নেড়ে ইঙ্গিত দিলেও কেউ সাড়া দেয়নি। ‘ছবি তোলা বা অটোগ্রাফ তো দূরের কথা, কেউ কথাও বলেনি,’ বলেন তিনি। এই অভিজ্ঞতা তাঁর অহংবোধকে নাড়িয়ে দিয়েছে বলে স্বীকার করেন সুপারস্টার।
রজনীকান্তের মতে, এটি তাঁকে শিখিয়েছে যে খ্যাতি যত বড়ই হোক, তার চেয়ে বড় কিছু আছে। তিনি বলেন, ‘স্টারডম আসে, যায়। কিন্তু এ ধরনের আধ্যাত্মিক স্টারডম চিরস্থায়ী। মৃত্যুর পরও তা থেকে যায়।’
কাজের দিক থেকে রজনীকান্তকে শেষবার দেখা গিয়েছিল ‘কুলি’ ছবিতে। তিনি বর্তমানে ‘জেলার ২’–এর শুটিং শেষ করেছেন, যা আগস্টে মুক্তি পেতে পারে বলে জানা গেছে।
ডেকান ক্রনিকল অবলম্বনে






