নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর থানার গুড়িহারী গ্রামে জান্নাতুনের বাড়ি। সে গুড়িহারী-কামদেবপুর আলোর পাঠশালার দশম শ্রেণির নিয়মিত শিক্ষার্থী। পঞ্চম শ্রেণি পাস করার পর ২০২২ সালে এই পাঠশালায় ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয় সে। তার বাবার নাম মো. জাহাঙ্গীর আলম এবং মায়ের নাম রোজিনা বেগম। তিন বোনের মধ্যে জান্নাতুন সবচেয়ে বড়। বাবা পেশায় দিনমজুর, মা গৃহিণী। মা সংসারের পাশাপাশি গরু-ছাগল পালন করেন। তাদের কোনো জমিজমা নেই। দোকান থেকে যে আয় হয়, তা দিয়েই সংসার চালানো এবং মেয়েদের পড়াশোনার খরচ মেটানো অনেক কষ্টের।

জান্নাতুনের বাবা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমার মেয়ে লেখাপড়ায় বেশ ভালো, তাই আমি সংসারে যতই ঝামেলা আসুক না কেন আমার মেয়ের পড়ালেখা চালায়ে যাব। আমি আমার মেয়ের মনের আশা পূরণ করব।’

পড়াশোনার পাশাপাশি জান্নাতুন মায়ের কাজে হাত বাড়ায়। সে পড়ায় খুব আগ্রহী এবং স্কুলে তার উপস্থিতি শতভাগ। গত তিন বছরে একদিনও স্কুল কামাই করেনি সে।

জান্নাতুন বলে, ‘আমি ছোটবেলা থেকে বাবাকে কষ্ট করতে দেখেছি এবং অভাব অনটনের মধ্যে দিয়ে বড় হয়েছি। তাই আমি জীবনে ভালো কিছু করে মানুষের মতো মানুষ হতে চাই। নিজে স্বাবলম্বী হয়ে বাবার হাতকে শক্তিশালী করতে চাই। বাবার ছেলে সন্তান নেই, তাই আমি বড় সন্তান হিসেবে বাবার সংসারের দায়িত্ব নিতে চাই। আমি স্বপ্ন শিক্ষক হয়ে সমাজ ও পরিবারের জন্য কাজ করব। আমি মুক্তকণ্ঠ ট্রাস্ট পরিচালিত এই বিদ্যালয়ে থেকে অনেক সুযোগ-সুবিধা পেয়েছি। তাই মুক্তকণ্ঠ ট্রাস্টকে অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই।’

পাঠশালার প্রধান শিক্ষক রাজিত দাস বলেন, ‘জান্নাতুন পড়াশোনায় বেশ আগ্রহী। স্কুলেও নিয়মিত আসে। সঠিক সাহায্যে ও সহায়তা পেলে সে তার লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে বলে আশা করি।’