পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার মুলাডুলি উচ্চবিদ্যালয়ে শৌচাগারের কৌটা থেকে দুর্গন্ধ ছড়ানোর ঘটনায় অসুস্থ শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে ৫৩ জন হয়েছে। গতকাল বুধবার রাতে আরও ১০ জন শিক্ষার্থী হাসপাতালে ভর্তি হন।

গতকাল দুপুরে ক্লাস চলাকালীন বিদ্যালয়ের শৌচাগারে একটি কৌটা থেকে দুর্গন্ধ বের হতে থাকে। প্রথমে দুই শিক্ষার্থী অসুস্থ হন এবং ধীরে ধীরে সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৪০ জন হয়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাদের উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। অধিকাংশ শিক্ষার্থী শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন এবং অনেকে আতঙ্কে জ্ঞান হারিয়েছিলেন।

ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গতকাল ভর্তি ৪৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে অধিকাংশকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। দশম শ্রেণির ছাত্রী আঁখি আক্তার ও ঋতু খাতুনের অবস্থা অবনতি হলে গতকাল রাতে তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। রাতে নতুন করে আরও ১০ জন শিক্ষার্থী হাসপাতালে আসেন। চিকিৎসকেরা জানান, সবাই এখন আশঙ্কামুক্ত।

ঘটনায় উপজেলা প্রশাসন আজ বৃহস্পতিবার উপজেলার ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে আগামী তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য কর্মকর্তা কাবেরী সাহা বলেন, “আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। প্রাথমিকভাবে এটিকে ‘মাস সাইকোজেনিক ইলনেস’ বলেই মনে হচ্ছে। এটি মূলত একটি মানসিক অবস্থা, যেখানে একজন শিক্ষার্থীকে অসুস্থ হতে দেখে ভয় ও আতঙ্কে অন্যরাও একই উপসর্গ অনুভব করে। তবে আমরা শিক্ষার্থীদের রক্ত ও অন্যান্য নমুনা পরীক্ষার বিষয়ও বিবেচনায় রাখছি।”

উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনার পর বিদ্যালয় পরিদর্শন করে শৌচাগার থেকে একটি কৌটা জব্দ করেছে। এটি ‘উকুননাশক’ স্প্রের বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “বিদ্যালয়ের শিক্ষক, প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থী এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলছি। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে যদি এর পেছনে কারও কোনো অবহেলা বা উসকানি থাকে, তবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ঘটনার পর বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী উপস্থিতি কমে গেছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভয় ও আতঙ্কের পরিবেশ রয়েছে। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এস এম সুলতান মাহমুদ জানান, বর্তমানে পাঠদান সাময়িকভাবে শিথিল করা হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের মনোবল বাড়াতে কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করার কথা ভাবা হচ্ছে।