নাটোরের বড়াইগ্রামে কার্যক্রমনিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা ও দুর্নীতির অভিযোগে পদত্যাগকারী অধ্যক্ষ ওসমান গণিকে পদে ফেরাতে স্থানীয় সংসদ সদস্য আবদুল আজিজ আধা সরকারিপত্র (ডিও লেটার) দিয়েছেন।
ওসমান গণি বড়াইগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের ধর্ম সম্পাদক এবং স্থানীয় ইসলামপুর-গুনাইহাটি ফাজিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ। ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর দুর্নীতির অভিযোগে তিনি অধ্যক্ষ পদ ত্যাগ করেন।
সম্প্রতি অধ্যক্ষ পদে ফিরে আসার জন্য ওসমান গণি প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক উদ্যোগ নেন। ৫ মে তিনি মাদ্রাসার সভাপতি ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) আরিফ হোসেনের কাছে নাটোর-৪ (বড়াইগ্রাম-গুরুদাসপুর) আসনের বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য আবদুল আজিজের একটি ডিও লেটার জমা দেন। এই পত্রে সংসদ সদস্য তাঁকে অধ্যক্ষ পদে পুনর্বহালসহ বেতনভাতা প্রদান ও চাকরি করতে সহায়তা করার সুপারিশ করেছেন।
যোগাযোগ করলে সংসদ সদস্য আবদুল আজিজ প্রথমে ডিও লেটার দেওয়ার বিষয়ে ‘মনে পড়ে না’ বললেও পত্রের ফটোকপি দেখে সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘প্রশাসন তাঁর পক্ষে সম্মতি দিয়েছেন বলে শুনেছি। তাই সুপারিশ করেছি।’
মাদ্রাসার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৮ সালে সহকারী মৌলভি হিসেবে শিক্ষকতা শুরু করেন ওসমান গণি। আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে ২০১৫ সালে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে তিনি অধ্যক্ষ পদে নিযুক্ত হন। পরবর্তীতে তাঁর বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারী আচরণ ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ভুক্তভোগীরা নানা সময়ে দেওয়া প্রায় ২০ লাখ টাকা ফেরত দিতে চাপ দেন। টাকা ফেরত না দিয়ে তিনি ওই বছরের ২ সেপ্টেম্বর অধ্যক্ষ পদ ছাড়েন। পরে ১ অক্টোবর মাদ্রাসার ১৯ জন শিক্ষক ও ৭ জন কর্মচারী নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগ দিয়ে ১৯ জন শিক্ষক ও ৭ জন কর্মচারী জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অনুলিপি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়। তাঁর পদত্যাগের পর তসলিম উদ্দিনকে মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিযুক্ত করা হয়।
বড়াইগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মতিউর রহমান বলেন, ওসমান গণি বর্তমানে উপজেলা আওয়ামী লীগের ধর্ম সম্পাদক। ২০২৪ সালের শুরুর দিকে এই কমিটি গঠন করা হয়। তিনি অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন।
ওসমান গণি মুক্তকণ্ঠকে বলেন, বিশেষ পরিস্থিতিতে ঘটনাটি (পদত্যাগ) ঘটেছিল। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক। তিনি সবার সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণভাবে দায়িত্বে ফিরতে চান। আওয়ামী লীগ নেতা হয়ে কীভাবে বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্যের ডিও লেটার পেলেন—প্রশ্ন করলে বলেন, ‘আসলে প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের কোনো সুনির্দিষ্ট দল নাই। প্রতিষ্ঠান চালানোর স্বার্থে যখন যে সরকার আসে, সেই সরকারের নেতাদের সঙ্গে চলতে হয়। তাই দায়িত্ব পালনের জন্য এখনকার সংসদ সদস্যের সমর্থন ও সহযোগিতা চেয়েছি।’
মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তসলিম উদ্দিন বলেন, সাবেক অধ্যক্ষ আবার ফিরে আসার চেষ্টা করছেন বলে তিনি শুনেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের কাছে দুর্নীতির অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছিল। সে ব্যাপারে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তিনি জানেন না।
এ বিষয়ে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি এডিএম আরিফ হোসেন বলেন, সাবেক অধ্যক্ষ ফিরে আসার আবেদন করেছেন সত্য। তবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিতে পারেননি। এ জন্য আবেদনটি মঞ্জুর হয়নি। সংসদ সদস্যের ডিও লেটারের বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।






