হামের টিকা অভাবে দেশজুড়ে শিশুমৃতুর ঘটনা ঘটেছে এবং অন্যান্য রোগের টিকা কার্যক্রমে গাফিলতির অভিযোগ তুলে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের বিচার দাবি করেছেন ‘ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাধারণ আইনজীবীবৃন্দ’-এর ব্যানারে একদল আইনজীবী।

আজ বুধবার বিকেলে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে তারা মানববন্ধন করে। এতে প্রায় অর্ধশত আইনজীবী অংশ নেন। তাঁদের প্রায় সবাই আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবী হিসেবে পরিচিত।

মানববন্ধনের মাঝে বিএনপিপন্থী আইনজীবী হিসেবে পরিচিত জহিরুল ইসলাম আইনজীবীদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দিলে তারা বন্ধন শেষ করে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান। জহিরুল ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদ্য বিদায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সহসাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

পরে সেখানে জড়ো হওয়া কয়েকজন আইনজীবী মুক্তকণ্ঠকে জানান, ইউনিসেফ থেকে সতর্ক করার পরও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম টিকা কেনার পূর্বের ব্যবস্থা পরিবর্তন করে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ইউনিসেফের অনুরোধ সত্ত্বেও তৎকালীন সরকারের গাফিলতির কারণে চার শতাধিক শিশু হামের টিকার অভাবে মারা যায়। এ দায়ে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।

হামে শিশুমৃতুর বিচার চেয়ে আইনজীবী কায়েস আহমেদ বলেন, স্বাস্থ্য খাতে কোনো অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও নূরজাহান বেগমকে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা করা হয়। শুধু হামের টিকাই নয়, অন্যান্য টিকার ক্ষেত্রেও তাঁদের গাফিলতি ছিল। তাঁদের বিচার হওয়া উচিত।

আইনজীবী সিফাত আমিনুল করিম বলেন, ‘ওই সরকার পূর্বের চুক্তি বাতিল করলেও তার বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। আমরা বর্তমান সরকারের কাছে এর বিচার চাই। শিশুদের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। ড. ইউনূস ও স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান এই দায় এড়াতে পারেন না।’

মানববন্ধন শেষে কয়েকজন আইনজীবী চোখে ও মুখে কালো কাপড় বেঁধে প্রতীকী প্রতিবাদ করেন। এ সময় আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের গাফিলতির কারণে চার শতাধিক শিশু হামে মৃত্যুবরণ করেছে। এটিকে নিছক গাফিলতি হিসেবে আমরা দেখছি না; এটি অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। আমরা নিষ্পাপ শিশুদের ন্যায়বিচার চেয়ে আবেদন জানাচ্ছি।’