সুন্দরবনের সিঙারটেক এলাকায় টহলের সময় বনদস্যুদের সঙ্গে বন বিভাগের কর্মীদের গোলাগুলি হয়েছে। পরবর্তীতে দস্যুদের দ্রুতগামী ট্রলার থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় চার জেলকে উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ট্রলারটি, একটি বন্দুক ও গুলিও জব্দ করা হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো দস্যুকে আটক করা যায়নি।

আজ বুধবার সকাল ১০টার দিকে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের কোকিলমনি টহল ফাঁড়ির আওতাধীন সিঙারটেক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে তাৎক্ষণিক কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

উদ্ধৃত জেলেরা হলেন বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সোনাতলা গ্রামের আবদুল বারেক খান ও হাসান, খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার নাছিম ও দাকোপ উপজেলার ইরাক শেখ। তাঁরা দাবি করেন, শরীফ বাহিনীর সদস্যদের হাতে অপহৃত হয়েছিলেন তাঁরা।

সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) শরিফুল ইসলাম মুঠোফোনে মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘সিঙারটেকের খালের মুখে আমাদের দুটি টহল দল একটি ট্রলার দেখতে পায়। কাছাকাছি গেলে ট্রলারটি থেকে বনরক্ষীদের ওপর অতর্কিত গুলি চালানো হয়। তখন আমাদের শেলারচর টহল ফাঁড়ি টিম ও শরণখোলা স্মার্ট প্যাট্রোলিং টিম যৌথভাবে পাল্টা গুলি চালায়। একপর্যায়ে দস্যুরা ট্রলার থেকে ঝাঁপ দিয়ে বনের ভেতরে পালিয়ে যায়।’

শরিফুল ইসলামের দাবি, ‘দস্যুরা দুই দফায় আমাদের ওপর গুলি চালায়। প্রথমে আমাদের টহল বোট লক্ষ্য করে, পরে ওই এলাকায় তল্লাশি ও জিম্মি জেলেদের উদ্ধার করে ফেরার পথে। তবে এতে বন বিভাগের কেউ হতাহত হননি।’

উদ্ধারের পর চার জেলেকে শেলারচর টহল ফাঁড়ির হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানান সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) রেজাউল করিম চৌধুরী। তিনি বলেন, তাঁদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।