ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে আর্থিক খাত দ্রুত ডিজিটাল রূপান্তরের পথে এগোচ্ছে। অন্যান্য সেবা খাতের মতোই আর্থিক সেবাগুলো আধুনিক ও ডিজিটাল হয়ে উঠছে দ্রুতগতিতে। ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের কাছে সেবা সহজলভ্য, নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত করতে অবিরাম কাজ করে চলেছে। এই প্রক্রিয়ায় ক্রেডিট কার্ড ডিজিটাল পেমেন্টের একটি প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশে ক্রেডিট কার্ডের বাজার এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে সমৃদ্ধ ও সম্ভাবনাময়। এটি শুধু কেনাকাটার মাধ্যম নয়, আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিতকারী এক বড় হাতিয়ার। ক্রেডিট কার্ডের প্রতিটি লেনদেন সহজেই শনাক্তযোগ্য, যা অবৈধ লেনদেন ও মানি লন্ডারিং রোধে কার্যকর। বিশেষ করে বৈদেশিক লেনদেনে এর ব্যবহার উৎসাহিত হলে জাতীয় আর্থিক স্বচ্ছতা আরও মজবুত হবে। দেশের মানুষের মধ্যে ক্রেডিট কার্ডের প্রতি আস্থা ও আগ্রহ বাড়ায় এই বাজার আরও এগিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ডিজিটাল পেমেন্টের প্রসার প্রাইম ব্যাংকেও লক্ষণীয়। গত তিন বছরে ব্যাংকের কার্ডের ব্যবহার আড়াই গুণ বেড়েছে। এটি গ্রাহকদের ব্যাংকিংয়ে ক্রমবর্ধমান আস্থা ও ক্যাশলেস লেনদেনে অভ্যস্ততার ফল। গ্রাহকদের জীবনযাত্রা ও আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় ভিসা, মাস্টারকার্ড ও জেসিবি—এই তিনটি বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ডের গোল্ড, প্ল্যাটিনাম, ওয়ার্ল্ড ও সিগনেচার কার্ড দেশ-বিদেশে ব্যবহার হচ্ছে। মূল লক্ষ্য গ্রাহকদের আধুনিক, নিরাপদ পেমেন্ট সলিউশন দিয়ে আর্থিক সিদ্ধান্তে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া।
অনেকের ধারণা থাকে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার মানেই অনেক ধরনের বাড়তি ফি। এই ধারণা বদলে দিতে আমরা ‘জিরো বাই প্রাইম ব্যাংক’ নামে একটি বিশেষ ক্রেডিট কার্ড চালু করেছি। এটি বাংলাদেশের বাজারে একটি অনন্য ও বৈপ্লবিক উদ্যোগ। ভিসা সিগনেচার ক্যাটাগরির এই কার্ডে কোনো ইস্যুয়িং বা বার্ষিক ফি নেই। এমনকি মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসে (এমএফএস) ফান্ড ট্রান্সফার ফি, ওভার লিমিট ফি বা ইএমআই প্রসেসিং ফির মতো চার্জগুলোও আমাদের কার্ডে নেই। আমাদের অন্যান্য কার্ডেও বছরে মাত্র ১৫টি লেনদেনের বিনিময়ে গ্রাহকদের বার্ষিক ফি মওকুফের সুযোগ রাখা হয়েছে। এর বাইরে বছরজুড়েই লাইফস্টাইল অফার, ক্যাশব্যাক ও শীর্ষস্থানীয় হোটেল–রেস্তোরাঁয় ‘বাই ওয়ান গেট থ্রি’ পর্যন্ত বুফে অফার তো থাকছেই। এ ছাড়া বাজারের চাহিদামতো ইএমআইয়ে শূন্য সুদ ও বোনাস রিওয়ার্ড পয়েন্টস রয়েছে।
ডিজিটাল লেনদেনের প্রসার বাড়ার সঙ্গে নিরাপত্তার প্রশ্নও জোরালো হচ্ছে। সরকার ডিজিটাল লেনদেনের সুরক্ষায় নানামুখী নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। ব্যাংকগুলো গ্রাহকের তথ্য ও অর্থ রক্ষায় বড় বিনিয়োগ করছে। প্রাইম ব্যাংকে অটোমেটেড প্রযুক্তি দিয়ে প্রতিটি লেনদেন মনিটর করা হয়। কার্ডগুলো আধুনিক ইএমভি চিপযুক্ত এবং অনলাইন লেনদেন ওটিপি দিয়ে সুরক্ষিত।
প্রযুক্তির পাশাপাশি গ্রাহক সচেতনতাও গুরুত্বপূর্ণ। আমরা নিয়মিত এসএমএস ও ‘মাইপ্রাইম’ অ্যাপের মাধ্যমে গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্য বা ওটিপি শেয়ার না করার পরামর্শ দিই। আর্থিক সাক্ষরতা বাড়াতে বিভিন্ন কর্মশালা ও প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি।
পরিশেষে বলা যায়, আধুনিক স্বচ্ছ অর্থনীতি গড়তে ক্যাশলেস লেনদেনের কোনো বিকল্প নেই। ক্রেডিট কার্ড ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহকবান্ধব ও সাশ্রয়ী সেবা দিলে সাধারণ মানুষের ডিজিটাল লেনদেনে আগ্রহ বাড়বে। এই সম্মিলিত প্রচেষ্টা বাংলাদেশকে পূর্ণাঙ্গ ক্যাশলেস অর্থনীতির দেশ করে তুলবে।
● লেখক: অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর, প্রাইম ব্যাংক পিএলসি।






